প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৩ ১৯:০৩ পিএম
আপডেট : ০৩ মে ২০২৩ ১৯:৩৯ পিএম
বিতর্কের পর বিতর্ক। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন যেন কোনোভাবেই বিতর্কের ঘেরাটোপ থেকে বেরোতে পারছে না। সবশেষ বিতর্কটা জন্ম দিয়েছেন খোদ বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। ভরা মজলিসে বেফাঁস মন্তব্য করে বসেছেন সংবাদকর্মীদের নিয়ে। সে বক্তব্যের জেরেই এবার বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন সালাউদ্দিন। দেশের ক্রীড়া সাংবাদিক ও লেখকদের প্রাচীন সংগঠন বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির অনারারি সদস্যপদ হারিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৩ মে) এক বিবৃতিতে সালাউদ্দিনের এই বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে ক্রীড়া লেখক সমিতি। সঙ্গে জানানো হয়েছে তার সদস্যপদ হারানোর বিষয়টিও।
বেশ কিছু দিন ধরেই বিতর্কের জন্ম দিয়েই চলেছে কাজী সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বাফুফে। তার ওপর যোগ হয়েছে সবশেষ এই ঘটনা। ক্রীড়া লেখক সমিতি জানিয়েছে, বেশ কিছু দিন ধরে সালাউদ্দিনের এমন আচরণ ও বক্তব্যের সবই ঐতিহ্যবাহী এই ক্রীড়া সাংবাদিক সংগঠনের মতাদর্শের পরিপন্থি।
আরও পড়ুন:
সঙ্গে বলা হয়েছে, সালাউদ্দিনের 'কুরুচিপূর্ণ' এ বক্তব্য ক্রীড়া সাংবাদিকদের আত্মসম্মানে আঘাত হেনেছে। তাই ক্রীড়া লেখক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি জরুরি সভা করে কাজী সালাউদ্দিনের অনারারি সদস্যপদ বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে সালাউদ্দীনের পদত্যাগ দাবি করেছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)। এক বিবৃতিতে তারা জানায়,‘সাংবাদিকদের বাপের জুতা পরা ছবি নিয়ে ফুটবল ফেডারেশনে আসতে হবে’- বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দীনের এমন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে সালাউদ্দীনের পদত্যাগ দাবি করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহীদ উল আলম ও মহাসচিব দীপ আজাদ।
বিএফইউজের দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে অবিলম্বে সালাউদ্দীনের পদত্যাগ দাবি করা হয়। অন্যথায় সারাদেশের ফুটবল সংগঠকদের নিয়ে সালাউদ্দীনকে বাফুফে থেকে অপসারণে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয় ওই বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের ফুটবল সংস্থার শীর্ষ পদে থেকে এ ধরণের বক্তব্য কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়, তাদের পরিবারকে জড়িয়ে এই বক্তব্য দেওয়ার পর বাফুফে সভাপতির মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে দেশবাসী সন্দিহান হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সালাউদ্দীন দায়িত্ব পালনকালে দেশের জনপ্রিয় এই খেলার মান প্রতিনিয়ত নিম্নগামী হয়েছে। র্যাংকিং এ বাংলাদেশের অবস্থান প্রায় সবার নিচে। যার কারণ হিসেবে বিএফইউজ জানিয়েছে, অনিয়ম দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বাফুফে। যার সাম্প্রতিক প্রমাণ ফিফার নিষেধাজ্ঞা। বিভিন্ন সময়ে এসব খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় তিনি সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তার সবশেষ মন্তব্যে। কাজেই, দেশ ও দেশের বাইরে ফুটবলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পর বাফুফের সভাপতি পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন কাজী সালাউদ্দীন, এমনটাই মনে করে বিএফইউজে।
এর আগে অনিয়মের দায়ে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ নিষিদ্ধ হন গত ১৪ এপ্রিল। এর দুদিন পর বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন এ বিষয়ে আরও তদন্তের জন্য বেঁধে দেন ১০ জনের এক কমিটি, যাদের অধিকাংশই আবার আছেন বাফুফের বর্তমান কমিটিতে। এই তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষ হতে পারত কি না, এমন একটা প্রশ্ন উঠে আসছিল তখনই।