প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৩ ১৪:১২ পিএম
আপডেট : ০২ মে ২০২৩ ১৪:১২ পিএম
সময় যতো এগুচ্ছে এশিয়া কাপ ঘিরে ততোই জল ঘোলা হচ্ছে। এরমধ্যেই খবর রটেছে, এশিয়া কাপ স্থগিত ও পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে দুবাইয়ে পাঁচ জাতীর টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। যদিও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সোমবার প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার বরাত দিয়ে পাকিস্তানের বার্তা সংস্থা ডন বলছে, এশিয়া কাপ স্থগিতের ব্যাপারে সদস্য দেশগুলোকে কোনো বার্তা পাঠায়নি ভারত।
এদিকে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড নিরপেক্ষ ভেন্যুতে এশিয়া কাপ খেলতে রাজি না হলে দেশ থেকে টুর্নামেন্ট কেড়ে নেওয়া হতে পারে। কেননা, ভারত ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তান সফরে যাবে না তারা। এরপর পিসিবি একটি ‘হাইব্রিড মডেল’ অনুসরণ করে এশিয়া কাপ আয়োজনের প্রস্তাব দিলেও কাজ হয়নি। ওই মডেল অনুযায়ী পাকিস্তান তাদের ম্যাচগুলি ঘরের মাটিতে খেললেও ভারতে ম্যাচগুলো হতো একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে।
এসব নিয়েই দুবাইতে আইসিসির সঙ্গে এসিসির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এশিয়া কাপ ইস্যুতে বৈঠকে কি আলোচনা হয়েছে তা এসিসি বোর্ডের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিটিআইকে বলেন, ‘মিটিংয়ে বার্তা বিনিময় হয়েছে কিন্তু এশিয়া কাপ স্থগিত করার কোনো আলোচনা বা প্রস্তাব আসেনি। দ্বিতীয়ত, এশিয়া কাপ বাতিল হলে প্রথমে পিসিবিকে জানানো হবে। এখন পর্যন্ত সে ধরনের কিছুই হয়নি। এসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ এখনও কিছুই জানাননি। ইভেন্ট স্থগিত বা বাতিল করতে, এসিসিকে নির্বাহী বোর্ডের সভা ডাকতে হবে। চেয়ারম্যান (শাহ) সাত দিনের মধ্যে (ভার্চুয়াল বা শারীরিক) সভা আহ্বান করতে পারেন। তবে আজ অবধি, এই জাতীয় কোনও বৈঠকের বিষয়ে কোনও তথ্য নেই।’
এসিসির সূত্র অনুসারে, পিসিবি, এসিসি এবং বিসিসিআই-এর মধ্যে সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক মেইল আদান-প্রদান ছিল ভারতীয় দলকে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা এবং সর্বোত্তম আতিথেয়তার আশ্বাস দিয়ে পাঠানো একটি আমন্ত্রণ। তবে, বর্তমান সংবেদনশীল রাজনৈতিক পরিবেশে ভারতের পক্ষে পাকিস্তানে ভ্রমণ করা যে কঠিন সে বিষয়েও সম্মত হয়েছেন তিনি।
এশিয়া কাপের বদলে পাঁচ জাতীর টুর্নামেন্ট করলে সমস্যা আছে আরও। কেননা, টেলিকাস্ট চুক্তিতে অন্তত দুটি নিশ্চিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দুই দল ফাইনালে উঠলে তৃতীয় ম্যাচটিও হতো। তবে পাকিস্তান বা ভারত না থাকলে সেটি সম্ভব নয়। ফলে টেলিকাস্ট চুক্তিতেও বড় ধাক্কা খেতে হবে।
এ বিষয়ে ওই সূত্র বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই মিডিয়া অধিকার এবং স্টার স্পোর্টসের সাথে চুক্তির কথা মনে রাখতে হবে, যারা এশিয়া কাপে অন্তত দুটি পাকিস্তান বনাম ভারত ম্যাচের জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন অর্থ প্রদান করেছে। দেখুন, যদি এসিসি চেয়ারম্যানের কার্যনির্বাহী বোর্ডের সভা ডাকার পরে এশিয়া কাপ বাতিল করা হয়, তবে এর প্রভাব শুধু পাকিস্তানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নয়, পিসিবির এফটিপি ক্যালেন্ডার এবং শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান বা বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রের হবে। পরিস্থিতি এখনও বেশ নমনীয়।’