প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৩ ০৯:৫০ এএম
আপডেট : ০২ মে ২০২৩ ০০:১৩ এএম
ঢাকা ডার্বি, দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বড় দুই ক্লাব আবাহনী ও মোহামেডানের মর্যাদার লড়াই। ডিপিএলের চলতি মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো দেখা মিলবে ধ্রুপদী এই লড়াইয়ের। আজ মিরপুরে সুপার লিগের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হবে তারা। পুরোনো জৌলুস নেই।
আরও পড়ুন : পিএসজির দুঃস্বপ্নের হার, বায়ার্ন-লিভারপুলের জয়
তবুও ক্রিকেটারদের মধ্যে কাজ করে উত্তেজনা। লড়াইয়ের পুরোনো ওই জৌলুস আবার ফিরে আসবে কি না সেটা হয়তো বলা সম্ভব নয়। তবে আবাহনী অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের চাওয়া ওইরকম ঝাঁজ ফিরে পাওয়া যাবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওই লড়াইয়ে দুই অধিনায়কেরই চাওয়া প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার।
রবিন লিগ রাউন্ডের প্রথম পর্বে আবাহনীর শুরুটা ছিল দারুণ। ১১ ম্যাচের ১০টিতেই জয় তাদের। লিগের শীর্ষে থেকে শিরোপাদৌড়ে এগিয়ে আছে তারা। অন্যদিকে মোহামেডান কিছুটা খাপছাড়া। লিগের প্রথম পাঁচ ম্যাচে ১ পয়েন্ট পাওয়া দলটি শেষ ছয় ম্যাচ জিতে নিশ্চিত করেছে সুপার লিগ। পয়েন্ট টেবিলের পাঁচ নম্বরে থেকে সুপার লিগে আশা মোহামেডানের জন্য শিরোপার স্বপ্ন কার্যতই শেষ হয়েছে।
মৌসুমের প্রথম ঢাকা ডার্বিতে মোহামেডানের বিপক্ষে নাঈম শেখের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটের জয় পায় আবাহনী। ওই ম্যাচে মোহামেডানের শুরুটাও ছিল দুর্দান্ত। দুই ওপেনার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও ইমরুল কায়েসে ভর করে ম্যাচ জমিয়ে তোলার আভাস ছিল। শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। সুপার লিগে আবাহনীর বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আর ওই ভুল করতে চান না মোহামেডান অধিনায়ক ইমরুল, ‘আমরা ভালো শুরু পেয়েও ভালোভাবে শেষ করতে পারিনি। চেষ্টা করব আগে যে ভুলগুলো করেছি সেগুলো শোধরানোর।’ ভালো শুরু করে বড় রান পেলে সেটা আবাহনীর জন্য চাপ হয়ে উঠবে সেটাও স্বীকার করেন, ‘বড় রান করলে অবশ্যই ওদের জন্য চাপ হবে।’
আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের আগের সেই উত্তেজনার পারদ এখন আর দেখা যায় না। মোহামেডান ভালো করতে না পারায় সেটা হচ্ছে বলে মনে করেন ইমরুল। এবার ওই উত্তেজনা ফিরিয়ে আনতে চান, ‘আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে ভিন্ন আবহ থাকে প্রত্যেক ম্যাচে। গত কয়েক বছর মোহামেডান হয়তো ভালো করছে না আবাহনীর সঙ্গে, তবে এবার আমরা চেষ্টা করব।’
অন্যদিকে আবাহনী অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের চাওয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহের একটি ম্যাচ, ‘আমি যখন ঢাকা লিগ শুরু করেছি, ওই সময় থেকেই আবাহনী-মোহামেডানের হাই ভোল্টেজ ম্যাচ সব সময় আমরা দেখে থাকি। আমি নিজেও অনেকবার দেখেছি। আশা করছি সুপার লিগ থেকে ওইরকম আবহ পাব…। প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ চাওয়া মোসাদ্দেক নিজের দল নিয়ে আশাবাদী, ‘এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে খুব ভালো খেলছি। এই আত্মবিশ্বাস তো আছে। আমি মনে করি আমাদের খুব গোছানো একটা দল। ওই জায়গা থেকে অবশ্যই আশাবাদী।’
জাতীয় দলের অনেক তারকা ক্রিকেটারকেই দেখা যাবে না আবাহনী-মোহামেডান লড়াইয়ে। ফলে মোহামেডান শিবিরে থাকবেন না সাকিব আল হাসান, মেহেদি হাসান মিরাজ ও রনি তালুকদার। অন্যদিকে আবাহনীর অবশ্য ওই সমস্যা নেই। জাতীয় দলের তারকাদের ছাড়াই পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে সুপার লিগে উঠেছে। জাতীয় দলের তারকাদের না পাওয়াকে কোনো সমস্যা মানছেন না মোহামেডান অধিনায়ক ইমরুল কায়েস, ‘প্রত্যেক দলেরই একই সমস্যা হবে। কমবেশি সব দলেরই জাতীয় দলের খেলোয়াড় থাকবে না।’ মোহামেডান অধিনায়ক সমস্যা না মানলেও এটাকে নিজেদের জন্য বাড়তি সুবিধা দেখছেন আবাহনী অধিনায়ক- ‘তারা নেই, এটা অবশ্যই তাদের জন্য একটা সমস্যা। এটা আমাদেরকে বাড়তি সুবিধা দেবে।’
দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে দুই দলের অধিনায়কের চাওয়া জয়। শেষ পর্যন্ত কে ম্যাচ জিতবে তার জন্য অপেক্ষা তো থাকবেই। ম্যাচ হারলে শিরোপাদৌড় থেকে একরকম ছিটকে যাবে আবাহনী। আর মোহামেডানের জন্য শিরোপা জয় বাস্তবে কঠিনই। আবাহনীকে হারাতে পারাটা তাদের জন্য হবে বাড়তি পাওয়া।