প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৩ ২৩:৫০ পিএম
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৩ ০৮:৩৭ এএম
যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের পিছিয়ে পড়া জনপদ লাকান অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করা নূর আহমেদের ক্রিকেটে আসা অনেকটা স্বপ্নের মতো। ছোটবেলায়ই ক্লাসের সেরা ছাত্র হওয়ায় বাবা চাইতেন ছেলে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করুক। এদিকে পড়াশোনার বাইরে ছেলের ঝোঁক ক্রিকেটে। শুরুতে বাবা সমর্থন দেননি।
আরও পড়ুন : নেপলসে উৎসবের অপেক্ষা
কিন্তু ছোট ভাইয়ের ক্রিকেট অনুরাগ বুঝতে পারতেন বড় ভাই এজাজ। বাবাকে বোঝালেন, সমর্থন আনলেন। নেমে পড়লেন ব্যাট-বল নিয়ে। এরপর শুধুই নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া। আইপিএলে মুম্বাইয়ের তিন উইকেট শিকার করে গুজরাটের ৫৫ রানের জয়ে বড় ভূমিকা রাখা নূরের গল্পটা অনেকটা এমনই। বিশ্ব ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ তারকা ভাবা হচ্ছে তাকে।
নূরের ক্রিকেট পথচলার শুরুটা হয়েছিল লাকানের আড়ষ্ট, পাথুরে এবং বালুকাময় মাঠে বোলিং করে। পরে সেখানকার এক ক্রিকেট একাডেমিতেও বোলিংয়ে দীক্ষা নিয়েছেন। শুরুতে একজন মিশ্র বোলার হিসেবে ফাস্ট বোলিংসহ সবকিছুই করেছেন তিনি। পরে স্বদেশি মোহাম্মদ নবী, মুজিব উর রহমান ও রশিদ খানকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এরপর হঠাৎ করেই লেগ ব্রেক বোলিং শুরু করেন। আর এখানেই থিতু হন। আর পরের গল্পটা কমবেশি সবারই জানা।
২০২২ সালের ১৪ জুন জিম্বাবুয়ের হারারে স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় তার। অভিষেক ম্যাচেই ১০ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে হইচই ফেলে দেন এই তরুণ। এরপর ওয়ানডেতেও অভিষেক হয়েছে ১৮ বছর বয়সি এই তরুণের। প্রথমবারের মতো আইপিএলে ডাক পেয়েছেন। পারফর্ম করছেন স্বদেশি রশিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। ইতোমধ্যেই গুজরাটের হয়ে খেলেছেন তিনটি ম্যাচ। যেখানে ৮ গড়ে ৬ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। এর মধ্যে সবশেষ ম্যাচে মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৩৭ রান খরচায় নিয়েছেন তিনটি মহামূল্যবান উইকেট। মূলত ক্যামেরন গ্রিন, সূর্যকুমার যাদব ও টিম ডেভিডকে ফিরিয়ে ম্যাচ নিজেদের দিকে ঝুঁকিয়েছেন তিনিই। ম্যাচের পর তার বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন ২১ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা অভিনাভ মনোহার। তিনি বলেন, ‘অনুশীলনেও আমি নূরের গুগলি বাছাই করতে পারছি না।’
স্পিন বোলিংয়ে আফগানিস্তানের রাজত্ব অবশ্য অনেক দিন ধরেই। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন নূর। যার আলোয় আলোকিত হওয়ার অপেক্ষায় আফগানিস্তানসহ গোটা ক্রিকেটবিশ্ব। আর আফগানদের এই স্পিন রাজত্বের কথা অনেকদিন আগেই জানিয়েছিলেন আফগানিস্তানের সাবেক ক্রিকেট কর্মকর্তা হিকমত হাসান। তার মতে, বিশ্ব ক্রিকেটের স্পিন রাজধানী আফগানিস্তান। এই কথার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন দেশটির সাবেক অনূর্ধ্ব-১৯ দলের স্পিন কোচ রইস আহমাদজাইও। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সেরা স্পিনার আছে আমাদের।’ নূরকে নিয়ে তার মন্তব্য, ‘নূর আহমেদ বিশ্ব ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ তারকা হবেন। তিনি আফগানিস্তান ক্রিকেটের প্রাকৃতিক প্রতিভাবানদের একজন। তার কঠোর পরিশ্রম এবং খেলার প্রতি নিষ্ঠা ও ভালোবাসা তাকে ভবিষ্যতে একজন বড় খেলোয়াড় করে তুলবে।’
বর্তমানে রশিদ খানের সঙ্গে একই দলের হয়ে খেলছেন নূর। রশিদ তার শেখার ইচ্ছায় মুগ্ধ। নূরের বোলিংয়ে নতুন কিছু শেখার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন রশিদ। তিনি বলেন, ‘তাকে দলে রাখা এবং গত বছর থেকে তার সঙ্গে বোলিং পার্টনারশিপ ভাগ করে নেওয়াটা দারুণ ব্যাপার। সে এখনও তরুণ, সে শুধু শিখতে চায় এবং তার জন্য সে অনেক পরিশ্রম করছে। নেটে সে প্রচুর বোলিং করে, এবং জিজ্ঞাসা করতে থাকে। এমনকি আমি যখন জিমে ছিলাম, তখনও সে জিমে এসে বলছিল, ‘চলুন এখানে জিমে বোলিং করি।’ সে সত্যিই আমার সঙ্গে জিমে বোলিং করছিল। সে আরও ভালো হতে চেয়েছিল এবং পারফর্ম করতে চেয়েছিল। সে এখন সুযোগ পেয়েছে এবং ডেলিভারি করছে। আমি তার জন্য খুব খুশি।’