প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:৫০ পিএম
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:৫২ পিএম
শেষ কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আছে আলোচনায়, এবং সে আলোচনাটা নেতিবাচক। মিয়ানমারে অলিম্পিক বাছাইপর্বে নারী দলকে না পাঠানো থেকে শুরু, এরপর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগকে ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে বাফুফে আছে বেশ বিপাকে। চলমান ঘটনাপ্রবাহের আঁচটা এসে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের ওপরও লাগছে। সাবেক ফুটবলাররা এবার চাইছেন তার স্বেচ্ছা পদত্যাগ।
আরও পড়ুন : এবার থুইনুর চাওয়া হ্যাটট্রিক
সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেলের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন সাবেক খেলোয়াড়রা, যাতে এই দাবি করা হয়েছে। আবদুল গাফফারের নেতৃত্বে গোলাম সারোয়ার টিপু, দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল, আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু, হাসানুজ্জামান খান বাবলু, কায়সার হামিদ, শফিকুল ইসলাম মানিক, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির ও শেখ মোহাম্মদ আসলাম স্বাক্ষর করেন এই স্মারকলিপিতে। সেখানে শুধু বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনই নন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদীরও স্বেচ্ছায় পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে।
গোলাম সারোয়ার টিপু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, শুধু সালাউদ্দিন-সালাম মুর্শেদীর পদত্যাগই নয়, আরও একটা দাবিও ছিল সেখানে। তিনি বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি মূলত দুটো ইস্যুতে। প্রথমটা হচ্ছে একটা তদন্ত করা, যেহেতু ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অর্থ নেয় বাফুফে, ফিফা থেকে একটা অভিযোগ এসেছে, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যেন একটা তদন্ত করা হয়।’
তার অভিমত, বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন নৈতিক ভিত্তিই হারিয়ে ফেলেছেন সভাপতি হিসেবে থাকার। সে কারণেই তার স্বেচ্ছা পদত্যাগ চাওয়া হয়েছে, ‘তাদের থাকার আর কোনো নৈতিক ভিত্তিই নেই! এত বড় একটা অভিযোগ এলো, তার দায়টা তো তাদের ওপরও বর্তায়। তো সরকার থেকে যেন তাদের বলা হয়, যথেষ্ট হয়েছে, এবার তোমরা বিদায় নাও।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ দেখুন, তারা যখন ক্ষমতায় আসেন, দেশবাসী তো আর তাদের বিপক্ষে ছিল না। খেলোয়াড় হিসেবে ভালো ভাবমূর্তির কারণে তার সমর্থন ছিল বেশ। কিন্তু খেলোয়াড় ভালো হওয়া আর সংগঠক ভালো হওয়া এক বিষয় নয়, সেটা বুঝতে সময় লেগেছে। তো সার্বিক দিক থেকে নৈতিকভাবে তাদের আর ক্ষমতায় থাকার এখতিয়ার নেই। ফিফার একটা নিয়ম আছে, সরকারের হস্তক্ষেপ করা যাবে না। আমরা সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে বলছি না, বলছি তাদের বলতে যেন তারা নিজ উদ্যোগে সরে যায়।’
সে স্মারকলিপি গ্রহণের সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীও আভাস দেন তদন্তের। তার কথা, ‘সংসদীয় কমিটি থেকে একটি তদন্তের নির্দেশনা ছিল। আবার ফিফারও একটি নির্দেশনা রয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে আমরা পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ করেই পদক্ষেপ গ্রহণ করব। ব্যক্তির জন্য দেশ যাতে সমস্যায় না পড়ে সেই বিষয়টি ভেবেই আমরা কাজ করব।’