শান্ত রিমন
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৮:০৬ পিএম
আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৮:০৭ পিএম
অনেক পথ ঘুরে দিনের শেষে আশ্রয় খোঁজেন ক্লান্ত পথিক। তিনিও আশ্রয় খুঁজেছেন। সত্য ও সঠিক পথের খোঁজে পারি দিয়েছেন দীর্ঘ পথ। কাছ থেকে দেখেছেন অনেক কিছু। বুঝতে শিখেছেন ভালো-মন্দের ফারাক। অবশেষে নিজের জীবনের উপলব্ধি থেকে বেছে নিয়েছেন ধর্মকে। আলো ঝলমলে জীবন রেখে ফিরে গিয়েছেন সৃষ্টিকর্তার কাছে। এরপর থেকে ক্রিকেটের বাইরের বাকি সময়টা সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনাতেই কাটে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার ওয়েন পার্নেলের।
আরও পড়ুন - ১৯৯ ও ২০০ ম্যাচের মধ্যে তফাত দেখেন না ধোনি
পার্নেল ১৯৮৯ সালে পোর্ট এলিজাবেথের খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৬ সালের অক্টোবরে ১৭ বছর বয়সে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। এরপর নিয়মিত পারফর্ম করে সাফল্যের একেকটি ধাপ অতিক্রম করেছেন বাঁহাতি এ পেসার। ঘরোয়া ক্রিকেট রাঙিয়ে ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রিসবেনে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় তার। এরপর ওই সফরেই দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ওয়ানডে জার্সি গায়ে জড়ান তিনি। এরপর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে প্রায় নিয়মিত খেলে গেছেন ৩৩ বছর বয়সি এই তারকা।
ক্রিকেটীয় ব্যস্ততার মাঝেই জীবনের অন্য দিকটি নজরে আসে তার। সিদ্ধান্ত নেন ধর্মান্তরিত হওয়ার। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। তবে সেটি তাৎক্ষণিক সবাইকে জানাননি পার্নেল। আরও সময় নিয়ে বুঝতে চেষ্টা করেছেন। যখন বুঝেছেন তখন ঘোষণা দিয়ে সবাইকে জানিয়েছেন। সে বছরই জুনের ১০ তারিখ সবার সামনে ধর্মান্তরিত হওয়ার বিষয়টি জানান পার্নেল। সেই সঙ্গে নিজের নতুন নাম হিসেবে ‘ওয়ালিদ’ নামটি বেছে নেন পার্নেল। সে সময় তার এই ঘোষণা নিয়ে বেশ জল্পনা-কল্পনা হয়েছিল। অনেকের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলা এবং ইমরান তাহিরই তাকে ইসলাম ধর্ম মেনে নিতে বাধ্য করেছেন।
তবে এই ধারণাটিকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদিও আমি আমার নাম ওয়ালিদ ঠিক করেছি, তবে আমি চাই সবাই আমাকে আমার আগের নামেই ডাকুক। আমি আমার দলের সব কিছুতে সব সময় এগিয়ে থাকব। আমার মূল লক্ষ্য থাকবে দলের জন্য সেরাটা দেওয়া। যেহেতু রোজার সময় চলে আসছে, আমি চাই সবাই আমার এই সিদ্ধান্তটিকে ইতিবাচকভাবে নিক। আমি একজন পেশাদার ক্রিকেটার, এবং এরকম জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো ক্ষমতা আমার আছে। এই সিদ্ধান্তে দলের কোনো সদস্য অথবা অন্য কেউ আমাকে উদ্বুদ্ধ করেনি। আমি নিজেই আমার জন্য ভালোটা বেছে নিয়েছি।’
যদিও ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণ সামনে আনেননি তিনি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, পার্নেল নিয়মিত মুসলিম বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন। সেখান থেকেই ইসলামের প্রতি অনুরাগ জন্মে তার। এই ধর্মে উৎসাহী হয়ে পড়েন। এবং পরবর্তীকালে ধর্মান্তরিত হওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।
পার্নেলের ধর্মান্তরিত হওয়ার সময় প্রোটিয়া দলের ম্যানেজার ছিলেন মোহাম্মদ মুসাজি। যিনি নিজেও একজন মুসলিম। তবে পার্নেলকে যে ধর্মান্তরিত হওয়ার ব্যাপারে কেউ প্রভাবিত করেনি সেটি নিশ্চিত করেন তিনি। বলেন, ‘ওয়েন কয়েক মাস আগে ইসলাম অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ধর্মান্তরিত করার সিদ্ধান্তটি তার নিজের সিদ্ধান্ত ছিল।’
ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তিনি তা কঠোরভাবে মেনে চলার চেষ্টা করেছেন। নিয়মিত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি কুরআন তিলাওয়াত করতে শিখেছেন। রোজা রেখেছেন। পরবর্তীকালে ২০১৬ সালে আয়েশা বাকেরকে বিয়ে করেছেন মুসলিম শরিয়া আইন মেনে। পরিবারকেও ধর্মীয় দিকগুলো পালনে সাহায্য করেন তিনি। তাদের ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।