প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:৫৮ পিএম
আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:০১ পিএম
ঘটনাস্থল: বিকেএসপি। ৮ মার্চ।
সিটি ক্লাবের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর শিকার হন মেহেদি হাসান মিরাজ। আম্পায়ারের দেওয়া ওই সিদ্ধান্ত তিনি মানতে পারেননি। ড্রেসিংরুমে ফেরার পর মোবাইল ফোনে সাকিব আল হাসানকে বোঝান তিনি আউট ছিলেন না। ওই ঘটনার জন্য জরিমানা গুনতে হয় তাকে।
আরও পড়ুন : বাবরের নেতৃত্ব নিয়ে শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন পিসিবিপ্রধান
ঘটনাস্থল: বিকেএসপি। ১০ মার্চ।
মাশরাফি বিন মর্তুজার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুললেন প্রাইম ব্যাংকের আল আমিন জুনিয়র। আঙ্গুল তুলে আউটের সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার গাজী সোহেল। খানিকবাদে লেগ আম্পায়ারের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত বদলান তিনি। ব্যাটারকে নট আউট ঘোষণা করেন। মাঠে মাশরাফি সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও দলের অন্য ক্রিকেটাররা বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে এই দুটো ঘটনা বিতর্কিত আম্পায়ারিংয়ের একটা অংশ মাত্র। এমন আরো প্রচুর বিতর্কিত ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন। আম্পায়ারের বাজে সিদ্ধান্তের শিকার হচ্ছে দলগুলো।
আম্পায়ারিং নিয়ে তৈরি হচ্ছে তর্ক-বিতর্ক। শেখ জামালের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান তো আম্পায়ারিং নিয়ে বলেছিলেন, ‘পাড়ার ক্রিকেট চলছে নাকি!’ক্রিকেটারদের এই রকম অসন্তোষের কারণ ছিল অনেকগুলোই। বাউন্ডারি লাইনে বিতর্কের পাশাপাশি রানআউটের মতো সূক্ষ্ম বিষয় নিয়ে প্রায় সময়ই ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্রিকেটাররা। গণমাধ্যমে ছবিগুলো ভেসে ওঠছে।
এই রকম প্রতি ডিপিএলেই অবশ্য আম্পায়ারিং নিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়। গণমাধ্যমও সেটা তুলে ধরে। অভিযোগ থাকে, সমালোচনা হয়। তবু নেই উন্নতি। একই দশায় চলছে ঘরোয়া ক্রিকেটের আম্পায়ারিং। কেন বারবার বিতর্ক তৈরি হচ্ছে ঘরোয়া ক্রিকেটের আম্পায়ারিংয়ে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যোগাযোগ করা হয়েছিল বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ মিঠুর সঙ্গে। তিনি অবশ্য এ নিয়ে কথা বলতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত আর কথা রাখেননি। টেলিফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠানে হলেও তিনি জবাব দেননি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ডিপিএলে আম্পায়ারিং ও ক্রিকেটারদের আচরণ নিয়ে কথা বলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র আম্পায়ার। তার মতে, আম্পায়াররা ভুল করতে পারেন। তারাও মানুষ। তবে ওই ভুলের জন্য ক্রিকেটাররা যে ধরনের আচরণ করেন সেটা অযৌক্তিক। ক্রিকেটারদের সহনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
আম্পায়ারদের নিয়ে সমালোচনা বেশি বেড়েছে গতকাল বিকেএসপিতে সিদ্ধান্ত বদল করা নিয়ে। গাজী সোহেলের ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে তার বক্তব্য, ‘আম্পায়াররা মাঠে তাদের সিদ্ধান্ত বদল করতেই পারেন। আইন অনুযায়ী সেটা করা যায়।তবে স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো আম্পায়ারের কাছে যাওয়াটা ঠিক হয়নি। মানসিকভাবে চাপে পড়েই অন্য আম্পায়ারের দিকে এগিয়ে গেছে।’মাঠে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে চাপে পড়েছিলেন বলেই অন্য আম্পায়ারের দিকে এগিয়ে গেছেন বলে ধারণা তার।
মিরাজের ঘটনায় সিনিয়র ওই আম্পায়ার অবশ্য হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, আম্পায়াররা ভুল করতে পারেন। তবে মিরাজ ড্রেসিংরুমে ফোনে আম্পায়ারের করা ভুল দেখিয়েছেন সেটা আইনসিদ্ধ হয়নি। তিনি বলেন, ‘ড্রেসিংরুমে ম্যাচ চলাকালীন মোবাইল ফোন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। সেখানে সে মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখিয়েছে। এটা উচিত হয়নি।’
প্রতি মৌসুমেই ডিপিএলে আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ক্রিকেটাররা মাঠে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কখনো সেই বির্তক মাঠেই বিস্ফোরিত হয়। এটা নিয়ে ক্লাবগুলো অবশ্য আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ করে না। তাই বিসিবির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়াও হয় না। জানা যায় না গলদটা আসলে কোথায়। শুধু মাঠে তাৎক্ষণিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে ক্রিকেটাররা আচরণের জন্য জরিমানা গোনেন। তবু অবশ্য আম্পায়ারদের দিয়ে বেশিরভাগ সময়ই কোনো অভিযোগ করে না ক্লাবগুলো। এইভাবেই প্রতি মৌসুমে চলছে ডিপিএল। ব্যাপারটা অনেকটা গা সওয়া হয়ে গেছে, ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার মতোই!