প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৩ ০৯:১০ এএম
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে ক্রিকেটের প্রমাণ ছিল। সীমিত ওভারের সিরিজে দাপুটে বোলিংয়ের পর সাদা পোশাকে কেমন করে সেই প্রশ্নটা জেগেছিল। উত্তরটা মিলেছে ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন। আইরিশদের বিপক্ষে বল হাতে একরকম দাপটই দেখিয়েছে। মাঝে সফরকারীরা হ্যারি টেক্টর-কার্টিস ক্যাম্ফার জুটিতে আশা জাগিয়েছিলেন। মেহেদি হাসান মিরাজের বলে হ্যারি টেক্টর ৫০ রানে ফিরলে ভাঙে জুটি। এরপরই হুড়মুড়িয়ে ভাঙে আইরিশদের ব্যাটিং জুটি।
তিনজন করে পেসার ও স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজায় বাংলাদেশ। উইকেটে ঘাস থাকায় ধারণা ছিল হয়তো পেসাররা রাজত্ব করবেন। সেটা অবশ্য হয়নি। স্পিনারদের রাজত্বই ছিল মিরপুরের উইকেটে। মেহেদি হাসান মিরাজ-তাইজুল ইসলাম নিয়মিত বোলিং করলেও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অবশ্য করেছেন মাত্র তিন ওভার। অন্য দুই স্পিনার এক প্রান্ত থেকে সমর্থন দিয়ে যান। উইকেট তুলে নেওয়ার মূল কাজটা করেন তাইজুল। ৫৮ রানে ৫ উইকেট তুলে নেন। তাতেই খেই হারিয়ে ফেলে আইরিশদের ব্যাটিং লাইনআপ।
উইকেটে স্পিনারদের দাপট থাকলেও তাইজুলের মতে লাইন-লেন্থ ঠিক রাখতে পারলে পেসার কিংবা স্পিনার, যে কারও ভালো করা সম্ভব এই উইকেটে, ‘ভালো লাইন-লেন্থে যদি বল করা যায়, স্পিনার হোক বা পেসার হোক, উইকেটটা অমনই যে, সবাই সুবিধা পাবে।’
প্রথম সেশনে তিন উইকেট নিয়ে দ্রুতই আইরিশদের গুঁড়িয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত ছিল। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৭৪ রান তুলে প্রতিরোধের চেষ্টা করে আয়ারল্যান্ড। ঘাবড়ে না গিয়ে ঠিক জায়গায় বোলিংয়ের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। দিনশেষে তাইজুল বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল প্যানিক না হয়ে লাইন-লেন্থ অনুযায়ী বল করা।’
তাইজুলের পাঁচ উইকেট নেওয়ার দিনে আরেক স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের পকেটে ঢুকেছে দুই উইকেট। এ ছাড়া দুই পেসার শরিফুল ইসলাম ও এবাদত হোসেন নেন তিন উইকেট। মূলত লাইন-লেন্থ ঠিক রাখতে পারায় সাফল্য পেয়েছেন তারাও। তাইজুলের দিনে এবাদত দুই উইকেট নিলেও ছিলেন কিছুটা খরুচে। ১২ ওভারে ৫৮ রান দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে শরিফুল ও খালেদ আহমেদ দিয়েছেন যথাক্রমে ২২ ও ২৯ রান। পেসারদের চেয়ে স্পিনাররা ছিলেন কিপ্টে। তিন স্পিনারের কেউই ৩-এর বেশি ইকোনমি রেটে বোলিং করেননি। তাতেই মূলত ঘাবড়েছে আইরিশদের ব্যাটিং লাইনআপ।
কারও বোলিং নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে। তবে সাকিব কেন দেরিতে এসেছেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন ঠিকই জেগেছিল। ইনিংসের ৬৬তম ওভারে প্রথমবারের মতো বল হাতে নেন সাকিব। অথচ এই সাকিবই বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের মূল নেতা। তাইজুল অবশ্য পরিষ্কার করেছেন বিষয়টি। তিনি জানান, অন্য বোলারদের ওপর আত্মবিশ্বাসের কারণে বোলিংয়ে আসেনি অধিনায়ক, ‘আমাদের ওপর কনফিডেন্স ছিল বলেই জিনিসটা (বোলিং) করাইছে।’
বাংলাদেশের বোলারদের দাপটের দিনে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন চার আইরিশ ব্যাটার। তারা সবাই অবশ্য তিন ফরম্যাটেই খেলছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশি বোলারদের মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতাই তাদেরকে ঢাকা টেস্টে ভালো শুরুর সুযোগ এনে দিয়েছে। হ্যারি টেক্টর, কার্টিস ক্যাম্ফার, লরকান টাকার ও মার্ক অ্যাডায়ার, সবাই ছিলেন আইরিশদের পুরো বাংলাদেশ সফরে। মূলত ওই কারণেই বাংলাদেশি বোলারদের স্রোতের বিপরীতে গিয়ে রানের দেখা পেয়েছেন তারা।
দীর্ঘ চার বছর পর টেস্ট আঙিনায় ফেরা আইরিশদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মানসিকতা ধরে রাখা। টেস্ট ক্রিকেটে মানসিকতাটাই জরুরি। ওই চ্যালেঞ্জ উতরাতে পারলে হয়তো তাদের সংগ্রহ হতে পারত আরও বড়।