প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৩ ১৭:১২ পিএম
আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৩ ১৭:১৩ পিএম
গ্রাহাম হিউমের করা শেষ বলটা মিড উইকেটে ঠেলে এক রান নিয়ে উল্লাসে মেতে উঠলেন মুশফিকুর রহিম। উল্লাসটা দেখে বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে। তবে মুশফিকের চিন্তায় নিলে মোটেও বাড়াবাড়ি নয়। কারণ ৬০ বলের এই সেঞ্চুরি তার জন্য ‘বিশেষ’। শুধু ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম বলে নয়; সমালোচকদের জন্য মুশফিকের কড়া জবাবে সেঞ্চুরি। কিছুদিন আগেও মুশফিককে ওয়ানডে দলে রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডের পর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দারুণ ব্যাটিংয়ে সমালোচনার জবাব দিচ্ছেন। তার গতকালের সেঞ্চুরি শুধু সমালোচনার কড়া জবাব নয়, ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহের ভিত্তিও এটি।
টস হেরে অধিনায়ক তামিম বলছিলেন, ‘আমিও আগে বোলিং নিতাম।’ অধিনায়ক টস না জেতায় মুশফিক একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতেই পারেন। সেটা হলে যে, ব্যাট হাতে বাংলাদেশের জার্সিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটাই গড়া হতো না। সেঞ্চুরির আগে ৩৩তম বলে হাফ সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন মুশফিক। পরের ২৭ বলে বাকি ৫০ রান। এই ছোট্ট পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে দেয় হাফ সেঞ্চুরির পর আরও বেশি মারকুটে হয়ে ওঠেন মিস্টার ডিপেন্ডঅ্যাবল। শুধু হাফ সেঞ্চুরির পর নয়, পুরো ইনিংসেই আইরিশ বোলারদের ওপর ঝড় তোলেন মুশফিক। পুরো ইনিংসে ছিল ১৪ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কা। ঠিক যেভাবে এবং মাঠের যে প্রান্ত দিয়ে মারতে চেয়েছেন, সেটাই বেশ সাবলীলভাবে করেছেন মুশফিক।
ছয়ে নেমে মুশফিকের ইনিংস যেমন নজর কেড়েছে। ঠিক সেভাবেই ঢাকা পড়েছে নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়ের ইনিংস। শুরুতে রান তুলতে বেগ পাওয়া বাংলাদেশকে সঠিক পথে রাখেন শান্ত ও লিটন। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তাদের ১০১ রানের জুটি টাইগারদের রানের চাকা সচল রাখে। লিটন দাস উইকেটটা একরকম ছুড়ে দিয়ে না এলে তিনিও হয়তো সেঞ্চুরি করতে পারতেন। তার ব্যাটে আসে ৭০ রান। সমালোচকদের সমুচিত জবাব দেওয়া শান্ত তো আছেন ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে। ওই স্রোতে তার ব্যাটেও আসে ৭৩ রানের ইনিংস। লিটন-শান্তর মতো হাফ সেঞ্চুরি না পেলেও সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করেছেন তাওহিদ হৃদয়ও। তার ব্যাটে ছিল ৩৪ বলে ৪৯ রান।
আরও পড়ুন : মুশফিকের রেকর্ডের দিন
বিপিএলে নজর কেড়েছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজেকে প্রমাণ করেন। আইরিশদের বিপক্ষে দুই ম্যাচে দুটি আক্ষেপের জন্ম দিলেন। প্রথম ম্যাচে আক্ষেপ সেঞ্চুরি না পাওয়ার। দ্বিতীয় ম্যাচে সেটা হাফ সেঞ্চুরির। তার ব্যাটে আসে ৪৯ রান।
আইরিশদের বিপক্ষে দলে নেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সিরিজে তাই ছয়ে নেমে দুই ম্যাচেই ব্যাট করেছেন মুশফিক। প্রথম ম্যাচে ২৬ বলে ৪৪ রান করে ফেরেন। ওই ম্যাচের ছন্দটা ছিল গতকালকেও। প্রথম ওয়ানডেতে ভুল করলেও গতকাল সে কাজ করেননি। ঠান্ডা মাথায় ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত ব্যাটিং করেছেন। ৬০ বলের ওই ইনিংসে মুশফিকের স্ট্রাইক রেট ১৬৬.৬৬! এটাই বলে দেয় কতটা বিধ্বংসী ছিলেন মুশফিক। তার বিধ্বংসী রূপে ম্লান হয়েছেন লিটন-শান্ত-হৃদয়রা। বাংলাদেশের ইনিংসকে এভারেস্ট চূড়ায় নিতে মুশফিক অবদান রাখলেও ওঠার সিঁড়িটা গড়ে দেন লিটন-শান্ত-হৃদয়রা। মুশফিকের পার্শ্ব অভিনেতা হলেও কৃতিত্ব আছে তাদেরও।