× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পুরুষরাই পাশে ছিল আমার

স্বামী সাপোর্ট না দিলে ঘরের বাইরে আসতে পারতাম না

আপন তারিক

প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৩ ১৬:১৩ পিএম

স্বামী সাপোর্ট না দিলে ঘরের বাইরে আসতে পারতাম না

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে বয়স ৭৮ পেরিয়েছেন। কিন্তু এখনও সমানতালেই লড়ছেন। তার প্রতিটি দিনই কর্মব্যস্ত। স্কুলপড়ুয়া দাবাড়ুর সঙ্গেও বসে পড়ছেন দাবার বোর্ডে। তিনি রাণী হামিদ। দাবায় বাংলাদেশের প্রথম নারী আন্তর্জাতিক মাস্টার। পুরো নাম সৈয়দা জসিমুন্নেসা খাতুন, ডাক নাম রাণী। ১৯৫৯ সালে ক্যাপ্টেন এম এ হামিদকে বিয়ে করে হয়েছেন রাণী হামিদ। সেই ১৯৮৫ সালে ফিদে আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার খেতাব পান তিনি। তারপর শুধু এগিয়ে চলার গল্প। সংসার সামলে, চার সন্তানকে সময় দিয়ে দাবার সঙ্গেও নিবিড় একটা সম্পর্ক গড়েছেন তিনি। তিনবার ব্রিটিশ নারী দাবা প্রতিযোগিতায় হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন। বাংলাদেশের নারী দাবার এই অগ্রদূতের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আপন তারিক

প্রতিদিনের বাংলাদেশ: আপনার জন্ম ব্রিটিশ শাসনামলের শেষ দিকে, ১৯৪৪ সালে সিলেটে। তখন একজন নারীর খেলায় নাম লেখানো সহজ ছিল না। কীভাবে শুরুটা হলো?

রাণী হামিদ: আমরা যখন ছোট তখন ওই বয়সিদের দাবা খেলার কোনো সুযোগই ছিল না। পাকিস্তান আমলে কারও চিন্তায় আসত না। আমার বাবা দাবা খেলতেন। তখন থেকেই আমার আকর্ষণ, অদ্ভুত আকর্ষণ। ছোটবেলায় আমি খুব চঞ্চল ছিলাম। কিন্তু যখন দাবা খেলা দেখতাম তখন চুপচাপ হয়ে যেতাম, এক মনে দাবার বোর্ডের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। দাবার প্রতি এমন ভালোবাসা ছিল। অন্যান্য খেলাধুলাও করেছি, প্রথমও হতাম। চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়ন বলে একটা পুরস্কার আছে, সবচেয়ে বেশিবার প্রথম হলে ওটা দেওয়া হয়—আমি সেটাও পেয়েছি। পাকিস্তান আমলে দাবা ছিল না বলে খেলা হতো না। যখন আমাদের বাংলাদেশ হলো তখন আমরা দেশে আসলাম। এরপর এক দিন দেখি ছোট্ট নিয়াজ মোর্শেদ খেলছে একজন বড় জিএমের সঙ্গে। আমি তখন প্রথমবার দেখেছি ছোটরাও দাবা খেলতে পারে। আমার স্বামী এক দিন অফিস থেকে ফিরে আমাকে বললেন, মেয়েদের জন্য প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে দাবা টুর্নামেন্ট হবে, তুমি খেলবে...

বিয়ের পর বলতে তখন আমার চার বাচ্চা। তারাও সবাই অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল। আমার বিয়ে হয়েছিল ১৯৬০ সালে, প্রথমবার দাবা খেলি বিয়ের সতেরো বছর পর। আমার স্বামী জানতেন আমি দাবাকে অনেক ভালোবাসি, তাই তিনি জানতে চেয়েছিলেন আমি আসরে খেলব কি না। আমি দাবা খেলব, তাও টুর্নামেন্টে—আমি আকাশ থেকে পড়লাম! সে সময় ভাগ্যও সহায় হলো, প্রতিবেশী হিসেবে পেয়েছিলাম ড. আকমল হোসেনকে। তিনিই আমাকে এরপর পথ দেখালেন। 

সুযোগ পেলে এখনও বসে পড়েন দাবা বোর্ডের সামনে

প্রবা: বিয়ের আগে যেমন আপনার বাবা আপনার বড় অনুপ্রেরণার উৎস ছিল, বিয়ের পর ক্যাপ্টেন হামিদ আপনাকে সাহায্য করেছিলেন। আরেকজন ড. আকমল হোসেন—তো একটা কথা আছে না ‘প্রতিটা সফল পুরুষের পেছনে একজন নারী থাকে’—আপনার সফলতার পেছনে পুরুষ, তো ব্যাপারটিকে কীভাবে দেখেন।

রাণী হামিদ : সব পুরুষ, এখানে কোনো নারী নেই (হাসি)। সত্যি বলতে বড় হেল্পগুলো পুরুষরাই করেছে। পুরুষরাই পাশে ছিল আমার। বাবা হাতেখড়ি দিয়েছিলেন, শিখেছিলাম। তখন আমাদের মাঠে পাঠানো হতো, বুড়ো মানুষের মতো বোর্ড নিয়ে ঘরে বসে থাকা কে পছন্দ করত! স্কুলে থাকতে শুধু বিকেলেই ফ্রি থাকতাম, তখন মাঠে চলে যেতাম। আমার স্বামী যদি সাপোর্ট না করতেন তাহলে কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না ঘরের বাইরে পা রাখার। তিনি (কর্নেল হামিদ) খুবই স্পোর্টসমনা ছিলেন। দাবার জন্য তিনি অনেক চেষ্টাও করেছেন।

প্রবা: একজন নারী দাবায় আসবেএটা পরিবার মেনে নিয়েছিল?

রাণী হামিদ: এদিক থেকে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। যেহেতু বাচ্চারা তখন বড় হয়ে গিয়েছিল, ওরাও আমাকে সাহায্য করেছে। কখনও ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে গিয়েও খেলতে বসেছি। আমি যখন যাকে পেতাম খেলতে নিয়ে যেতাম। বলতে পারেন টাইম পাস ও আনন্দের জন্য দাবা খেলতাম।

প্রবা: আপনার ছেলে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ফুটবলার কায়সার হামিদ। দাবাড়ুর সন্তান হয়ে তিনি কীভাবে ফুটবলে এলেন?

রাণী হামিদ: ও কিন্তু দাবাও ভালো খেলে। তখনকার সময়ে একজন খেলোয়াড় অনেকগুলো খেলা খেলতে পারত। কায়সারও অনেকগুলো খেলা খেলতে পারত। কিন্তু যখন ও ফুটবলের প্রতি সিরিয়াস হয়ে গেল তখন অন্যসব খেলা ছেড়ে দিয়েছিল। ওর পুরো ফোকাস ছিল ফুটবলে। আমার মেজ ছেলে সোহেল হামিদ, ও স্কোয়াশ ফেডারেশনের সেক্রেটারি ছিল। স্কোয়াশে চ্যাম্পিয়ন ছিল, ক্রিকেটও খেলেছিল— প্রথম শ্রেণির, প্রিমিয়ার লিগ সবই খেলেছে। বড় ক্লাবগুলোতেই খেলেছে। ওরা সবাই হ্যান্ডবলে সেরার পুরস্কার জিতেছে। আমার তিন ছেলে এবং ছোট ছেলের বউ তানিয়াও, সবাই হ্যান্ডবল খেলত। 

প্রবা: আপনার পুরো পরিবার ‘স্পোর্টস পরিবার’ ছিল। যেমনটা অন্যের হয়, বাধা-বিপত্তি আপনার গল্পে তা খুব একটা ছিল না।

রাণী হামিদ: প্রতিবন্ধকতা বলতে কিছু ছিল না। বলতে পারেন প্ল্যানিং ছিল না, যে কারণে আমি আর ওপরে উঠতে পারিনি। না আমার কোনো পরিকল্পনা ছিল, না আমার ফেডারেশনের। চাইলেই কিন্তু আরও ভালো মানের খেলোয়াড় হতে পারতাম। তখন শুধু খেলাটি শখের বসেই খেলতাম!

হার না মানার কথাই বলেছেন রাণী হামিদ

প্রবা: আপনি তো সচ্ছল এবং আধুনিকমনস্ক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। স্পোর্টস বা গোটা সমাজে নারী-পুরুষের সাম্য তেমন তৈরি হয়নি, সেটা পারিশ্রমিক কিংবা সুযোগ সুবিধা। আপনি কি মনে করেন সমাজে নারী-পুরুষের সমতা কতটা জরুরি?

রাণী হামিদ: কিছুটা পার্থক্য থাকেই, বিষয়টা প্রাকৃতিক। মেয়েরা এক সময় শক্তি অর্জন করে এমন মনে করবে যে তারা পারে, ছেলেদের চেয়ে কিছু অংশে কম না। সেটা মেয়েদেরই প্রমাণ করতে হবে।

প্রবা: সেই প্রমাণের জায়গায় মেয়েদের পদচারণা কতদূর?

রাণী হামিদ: অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে আমরা যোজন যোজন পিছিয়ে, বলতে পারেন শূন্য। এক সময় ভারতের মেয়েদের হারিয়ে আমি কাপ জিতেছি। ব্রিটিশ কাপ জিতেছি, সেখানে খেলেছে ভারত, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরের খেলোয়াড়রা। তখন তারা সবাই আইএম ছিল, আমি ছিলাম নতুন। আমার কোনো টাইটেল ছিল না। ওদেরকেও আমি হারিয়েছি। কিন্তু এখন সেই পথ থেকে অনেক দূরে, পেছনে। আমাদের পরিকল্পনা বা প্রোগাম নেই। ইদানীং শুরু হয়েছে, যে গতিতে এগোচ্ছে, এমনভাবে চললে আশা করা যায়। আগামী পাঁচ বছর পর কিছু একটা অর্জন করতে পারব।

প্রবা: দাবার কথা যদি বলি, নারীরা এখন উঠে আসছে, তারা আগ্রহী কি না—আপনার কী মনে হয়?

রাণী হামিদ: সাংঘাতিক! কারও সঙ্গে বসলে তো পেরেও উঠি না। অনেক আছে, আর তারা খুব সিরিয়াসও। টাকা খরচ করে তারা কোচিং নিচ্ছে—আমরা তো এটা চিন্তাও করতে পারতাম না। প্রতি ক্লাসে এক হাজার টাকা দিয়ে তারা কোচিং নিচ্ছে। তারা খুবই সিরিয়াস, এখন যদি না পারে তাহলে কবে পারবে! 

প্রবা: খেলাটি শহরকেন্দ্রিক হচ্ছে না গ্রামের বা মফস্বলের মেয়েরাও আসছে?

রাণী হামিদ: গ্রামের মেয়েরা আসতে পারছে না। অনেক ট্যালেন্ট এখনও ঝরে যাচ্ছে। সুযোগ সুবিধা এবং অনেক দূর থেকে এসে খেলাটাও খুব সহজ ব্যাপার না। তা ছাড়া ভারতের মতো আমরা তত স্পন্সর পাই না। ভারতের একজন খেলোয়াড়ের পেছনে বড় স্পন্সর লেগে যায়। ছোট থেকেই খেলোয়াড় যেখানে যাবে খরচ দেবে ওই প্রতিষ্ঠান। আমাদের দেশে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে কজনের মা-বাবা এমন সাপোর্ট দিতে পারে, কজনই বা আসতে পারে। সময়েরও একটা ব্যাপার থাকে। অনেক ধরনের সমস্যা থাকে। আমাদের আসলে বড় সমস্যা সময়। যেমন—আমার নিজের নাতি। সে সময় পেত না, তার মা অসুস্থ ছিল—ঠিকঠাক সময় দিতে পারত না। স্কুলে তেমন খেলাও হতো না এখনকার মতো। তাই বলছিলাম, এখন এই ধারায় যদি আমাদের উন্নতি হয় তাহলে হবে, না হলে কখনোই হবে না। 

প্রবা: এই পর্যায়ে এসে নিশ্চয়ই মনে প্রশ্ন জাগছে ‘আমি আরও কিছু করতে পারতাম’, যদিও আপনি দেশ ও সমাজের চোখে সফল নারী। বাংলাদেশের মতো পরিবেশে সফল হতে গেলে একজন নারী কী পারলে নিজের অবস্থান গড়ে নিতে পারবে, কী যোগ্যতা দরকার?

রাণী হামিদ: ইচ্ছাশক্তি। নিজের মাঝে ইচ্ছে থাকা লাগবে। যেমন আমি আমার কথাই বলি—কলেজে কখনও পা রাখিনি আমি। কিন্তু মনে ইচ্ছে ছিল পড়াশোনা করব, আইএ-বিএ পাস করব, এমএ পাস করব। সেই ইচ্ছের জোরে আমি পড়াশোনা শেষ করেছি। আসলে নিজের ইচ্ছেটা শুরুতেই জরুরি। তারপর ধীরে ধীরে সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নেবে, খুঁজতে থাকবে। ইচ্ছেটাই আসল, তাহলেই আসবে সাফল্য। পরিবারের সহায়তাও জরুরি।

প্রবা: দাবা হোক বা অন্য কোনো খেলা, যদি কোনো মেয়ে ক্রীড়াঙ্গনে আসতে চায় তাহলে তারা কী ধরনের মানসিকতা নিয়ে আসবে? 

রাণী হামিদ: আসলে সুযোগ-সুবিধা না থাকলে কেউই আসে না। অবশ্য এখন যারা ঢাকায় খেলছে তাদের মা-বাবা খুব বেশি সাপোর্ট দিচ্ছেন, টাকা খরচ করছেন। মানে খুব সিরিয়াস। আমাদের যে জাতীয় কোচ আছেন তিনি বিভিন্ন শহরে-গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ট্রেনিং দিচ্ছেন। কিন্তু খেলতে আসতে হলে অর্থনৈতিক যে সহায়তা, সেটা লোকাল ফেডারেশন থেকে হোক বা ঢাকার ফেডারেশন থেকে হোক বা স্পোর্টস মন্ত্রণালয়, এসবের একটা বাজেট থাকা, পরিকল্পনা করা, সবকিছু জড়িয়ে আছে। এসব না হলে তৃণমূল পর্যায়ে আগানো সম্ভব হবে না। তবে আশা করছি হবে কোনো এক সময়।

প্রবা: লম্বা একটা সময় ধরে খেলে যাচ্ছেন, এখনও খেলছেন। কিন্তু এত কর্মব্যস্ততার মাঝেও কীভাবে দিনটি প্ল্যান করেন?

রাণী হামিদ: বলতে গেলে আমি এখন সবদিক থেকে স্বাধীন। যখন যেভাবে খুশি চলি, খেতে মন চাইলে খাই, বেরোতে মন চাইলে বেরোই। কোনো নিয়ম নেই। স্পোর্টসে এখন যেমন নেভি, আনসাররা এগিয়ে এসেছে। তখন বাংলাদেশ বিমানবাহিনী শুধু হেল্প করত। যেকোনো টুর্নামেন্টে গেলে বিমান টিকিট দিত। এখন আনসার প্রচুর হেল্প করে, আমাকেও করেছে। শেষ বয়সে এসে আমি আনসারের হেল্পও পেয়েছি। প্রতি মাসে একটা ভাতা দেয় তারা। 

ফুটবলার ছেলে কায়সার হামিদের সঙ্গে রাণী হামিদ

প্রবা: আপনার সময়ের কথা যেহেতু বলছিলেন, সেই সময়ে নারীদের খেলাধুলা বা ক্রীড়ায় আসার ব্যাপারটি কেমন ছিল? আপনি তো দুটো আমলই দেখছেন—পাকিস্তান ও বাংলাদেশ...

রাণী হামিদ: পাকিস্তান আমলের কথা বললে তখন স্রেফ কিছু ছিল না, আমিই যেতে পারিনি। ১৯৫৫ সালের কথা, আমি তখন ফাইভে পড়ি। আমার স্কুলশিক্ষক আব্বাকে বললেন, রাণী তো ভালো দৌড়ায়, আমার ধারণা ও যদি পাকিস্তানের হয়ে অলিম্পিকে যায় তাহলে গোল্ড মেডেল আনতে পারবে। আমার বাবা ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা, তো উনি কল্পনাও করতে পারেননি যে তার মেয়ে একা একা গিয়ে খেলে আসবে। আসলে এমন মানসিকতাই ছিল তখন। খুব আধুনিক ছিল যারা, ঢাকা বাদে মনে হয় না অন্য কোথাও থেকে কেউ খেলেছে। আমিও যেতে পারিনি। এখন মনে মনে ভাবি, যেতে পারলে হয়তো সেই পাকিস্তান আমলেই আমি গোল্ড মেডেলিস্ট হতে পারতাম।

প্রবা: তার মানে দাবার আগে অ্যাথলেট ছিলেন?

রাণী হামিদ: আমি তখন খুব ভালো দৌড়াতাম। কুমিল্লা ফয়জুন্নেসা গার্লস স্কুলে পড়তাম তো, ওখানে স্পোর্টসের অনেক শিক্ষক ছিলেন। আমার ওই শিক্ষক আশাবাদী ছিলেন, অলিম্পিকে আমি ভালো করতে পারব। কিন্তু বাবা রাজি হননি। তখন আমরা কুমিল্লা ছিলাম। আমার ঢাকা যেতে হতো, প্রাথমিক বাছাই শেষে চূড়ান্ত হবে—তো এটা শুনে বাবা বললেন, তারপর কী? স্যার বাবাকে বোঝালেন কোয়ালিফাই হলে অলিম্পিকে যেতে পারব। বাবা স্রেফ বলে দিয়েছেন, না। আমার পরিবার যেখানে না বলে দিয়েছে তাহলে বুঝুন অন্যদের কী অবস্থা হয়েছে।

প্রবা: এখন কি মেয়েদের ব্যাপারে বাবা-মায়ের ধারণায় পরিবর্তন হয়েছে, কী মনে হয়?

রাণী হামিদ: মেয়েরা এখন অনেক এগিয়ে। যে যেটা চাইছে সে সেটাই করছে। শুধু দরকার ইচ্ছে থাকা। বাধা, বাধ্যকতা নেই, সবাই স্বাধীনভাবে চলছে। তো ধারণা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। 

প্রবা: লম্বা এই যাত্রায় আপনি অনেক কিছু দেখেছেন, অর্জন করেছেন, এখনও খেলায় জড়িয়ে আছেন। আপনার ভেতরে এই মুহূর্তে কোনো দুঃখবোধ বা অপ্রাপ্তি, কোনো ঘাটতি বা আক্ষেপ...

রাণী হামিদ: না, দুঃখবোধ হয় না। আমি যা পেয়েছি তাতে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। এটাও তো আমার পাওয়ার কথা না, বরং বেশিই পেয়েছি। পনেরো বছর বয়সে বিয়ে হয়েছে আমার। বলুন, আমার কি বাইরে এসব খেলাধুলা করার কথা! বিয়ের প্রথম ছয় বছরে চারটা বাচ্চা হয়েছে। তারপর সব সামলে যা পেয়েছি তাতেই আমি খুব খুশি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা