খেলাধুলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২২ ২২:৪১ পিএম
উইকেট নেয়ার পর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের উল্লাস
প্রথম ইনিংসে হতশ্রী ব্যাটিংয়ের পর আশা করা হচ্ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুটা অন্তত ভালো করবে বাংলাদেশ। মিলছিল দারুণ শুরুর আভাসও। কিন্তু তামিমের অপ্রত্যাশিত আউটে ব্যাট হাতে অস্বস্তি নিয়েই প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে তারা। সেটি আরও তীব্রতর করেছে ব্যাটিং অর্ডারে উন্নতি পাওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ দ্রুত ফেরায়। অ্যান্টিগায় ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৫০ রান। ক্রিজে আছেন মাহমুদুল হাসান জয় (১৮) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (৮)।
এ টেস্টে এখনো নিয়ন্ত্রণ স্বাগতিকদের হাতেই। তবে বাংলাদেশ একটু লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে মূলত বোলারদের পারফরম্যান্সে, যার নেতৃত্বে ছিলেন ৪ উইকেট নেওয়া মিরাজ। দিনটা অবশ্য বাংলাদেশের আরও ভালো হতে পারত। তবে আগের দিনের মতো এবারও কয়েকটি সুযোগ হারিয়েছে তারা—কখনো ক্যাচ মিস করে, কখনো রিভিউ না নিয়ে।
প্রথম সেশনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ছিল ১ উইকেট, তবে আক্ষেপ ছিল আরও বেশি। পেসাররা দ্বিতীয় দিন সকালে টেনে আনেন আগের দিনের পারফরম্যান্সই, তৈরি করেন সুযোগও। ইনিংসের ৫৩তম ওভারে ইবাদতের দারুণ ডেলিভারিতে এনক্রুমা বোনারের ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটকিপার নুরুলের হাতে যায় বল। তবে সেভাবে আবেদনই করেননি কেউ, অথচ রিপ্লেতে দেখায়, আউট ছিলেন বোনার। ইবাদতের পরের ওভারে দিনের প্রথম বাউন্ডারি মারেন ব্রাফেট, ওই চারেই প্রথম ইনিংসে লিডের দেখা পায় স্বাগতিকেরা।
বোনার দ্বিতীয় জীবন পান নাজমুলের সৌজন্যে। খালেদের বলে ক্যাচ তুললেও প্রথম স্লিপে থাকা নাজমুল সেটি খেয়ালই করেননি, যেন প্রস্তুতই ছিলেন না ক্যাচের জন্য! পানি-পানের বিরতির পরই অবশ্য বাংলাদেশকে উদ্যাপনের উপলক্ষ্য এনে দেন সাকিব। অবশেষে বোনার হার মানেন সাকিবের আর্ম বলে। দারুণ সেট-আপে তাঁকে বোল্ড করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ঠিক আগের বলটি কাছাকাছি জায়গায় পড়ে বেরিয়ে গেলেও এ ডেলিভারি ঢোকে ভেতরের দিকে। বোনার ৯৬ বলে করেন ৩৩ রান। এরপর ব্রাফেট শর্ট লেগে ক্যাচ তুললেও মাহমুদুল হাত নামাতে পারেননি সময়মতো।
প্রথম সেশনের আক্ষেপ ভুলে দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ পায় ৩টি উইকেট, অবশ্য রিভিউ নিলে পেতে পারত আরেকটি। দ্বিতীয় নতুন বল পুরোনো হওয়ার আগেই প্রথম আঘাত করেন খালেদ আহমেদ। তাঁর নিচু হওয়া বলে এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়েন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ক্রেগ ব্রাফেট। ২৬৮ বল খেলে ৯৪ রান করা ব্রাফেট এ নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ষষ্ঠ বার নড়বড়ে নব্বইয়ে কাটা পড়লেন।
ওই সেশনের পরের দুটি উইকেট মিরাজের। ব্রাফেটের বিদায়ে ক্রিজে আসা বাঁহাতি কাইল মেয়ার্সকে দেখেই মিরাজকে বোলিংয়ে আনেন সাকিব। মেয়ার্সকে এলবিডব্লু করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁকে চতুর্থ বারের মতো আউট করলেন মিরাজ। দারুণ বোলিং করতে থাকা মিরাজের পরের শিকার জশুয়া ডা সিলভা। ৯ বলে ১ রান করে কট-বিহাইন্ড হন তিনি।
চা-বিরতির পর তৃতীয় ওভারে মিরাজ পান তাঁর তৃতীয় উইকেট—১৫ বল খেলে কোনো রান না করেই আউটসাইড-এজড হন আলজারি জোসেফ। উইকেটের পেছনে নুরুল হাসানের ক্যাচটিও ছিল বেশ ভালো। পরের ওভারে অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলে কেমার রোচকে ড্রাইভের প্রলোভনে ফেলেন ইবাদত, স্লিপে ভুল করেননি লিটন দাস।
গুড়াকেশ মোতিকে নিয়ে এরপর এগোচ্ছিলেন ব্ল্যাকউড। তাঁর উইকেটেও আছে মিরাজের অবদান, খালেদের বলে কাভারে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ ক্যাচ নেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সহ-অধিনায়ক ফেরেন ১৩৯ বলে ৬৩ রান করে। ব্ল্যাকউড তাঁর ইনিংসে ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছেন ভালোই। বাংলাদেশ রিভিউ নিলে মিরাজের বলে এলবিডব্লু হতে পারতেন। এর বাইরে দুবার ক্যাচ তুললেও ফিল্ডারের নাগালের বাইরে দিয়ে যায়। জেইডেন সিলসকে এলবিডব্লু করে ইনিংসে চতুর্থ উইকেট নেন মিরাজ।