পার্থ রায়
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৩ ১১:৫২ এএম
আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৩ ১৩:৫৯ পিএম
চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম জয়। ২০১৫ সালের ওইদিনই ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপে হারিয়ে চমক জাগায় বাংলাদেশ। তিন দিন পর আবারও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়। এই জয় নিশ্চিত করে দেয় ইংলিশদেরকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথমবারের মতো হারানোর স্বাদ। তিনটি জয়ই বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ঐতিহাসিক। এই মার্চেই ইংলিশদের বিপক্ষে এসেছিল আরও একটি ঐতিহাসিক জয়। ২০১১ বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও শফিউল জুটিতে দারুণ জয় পায় বাংলাদেশ। ইংলিশদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক এই চার জয় এসেছে কাকতালীয়ভাবে মার্চ মাসেই।
২০১১ সালের ১১ মার্চ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেকোনো ফরম্যাটে দ্বিতীয় জয় পায় বাংলাদেশ। সেটা ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার ইংলিশদের হারানোর স্বাদ। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ জিতবে এমন সম্ভাবনা খেলার কোনো অংশেই ছিল না। অষ্টম উইকেটে রিয়াদ-শফিউলের ৫৮ রানের জুটি নিশ্চিত করে বাংলাদেশের ২ উইকেটের জয়। এর আগে অবশ্য ওপেনিং জুটিতে তামিম ইকবাল-ইমরুল কায়েসের ৫২ ও তৃতীয় উইকেটে ইমরুল-সাকিবের ১০২ রানের জুটি বাংলাদেশকে এগিয়ে দিয়েছিল। চট্টগ্রামের ওই ম্যাচে আগে ব্যাট করে ২২৫ রানে থামে ইংল্যান্ডের ইনিংস। ৬ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপে ইংলিশদের বিপক্ষে প্রথম জয়ের পর দ্বিতীয় জয় পায় পরের আসরে। ২০১৫ সালের ৯ মার্চ আবারও ইংলিশদের হারায়। ওই জয় বাংলাদেশকে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার স্বাদ পাইয়ে দেয়। ওই ম্যাচে রুবেল হোসেন যখন জেমস অ্যান্ডারসনের স্টাম্প উড়িয়ে দেন, তখনই পুরো বাংলাদেশ উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। কারণ, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার স্বাদ পায়। ওই ম্যাচে বাংলাদেশের দেওয়া ২৭৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২৬০ রানে গুটিয়ে যায় ইংলিশরা। ওই হার ইংল্যান্ডকে ছিটকে দেয় বিশ্বকাপ থেকে। ওই হারের পর বদলে যায় সীমিত ওভারে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটও। যার ফল ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে ইংল্যান্ড।
মার্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১১ ও ২০১৫-এর দুটি ঐতিহাসিক জয়ের পর বাকি দুই ঐতিহাসিক জয় এসেছে একই বছরে। শুধু একই বছর নয়, একই সিরিজে পরপর দুই ম্যাচে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গত ৯ মার্চ প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নামে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচ জিতে ইংল্যান্ডকে এই ফরম্যাটে হারানোর স্বাদ পায়। চট্টগ্রামের ওই জয়ের পর গতকাল আবারও ইংলিশদের বিপক্ষে জয়। এটা বাংলাদেশকে দেয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেকোনো ফরম্যাটে সিরিজ জয়ের স্বাদ। দুই জয়ের দুটিই মার্চে। এতেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার ঐতিহাসিক জয়ই এলো মার্চে। এখন থেকে নিশ্চয় বলা যাবে- ইংলিশদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় মানেই মার্চ। পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা ৯ মার্চ, ১১ মার্চ ও ১২ মার্চকে একটু আলাদা করে স্মরণ করতে পারেন ইংল্যান্ড বধের তারিখ হিসেবে।