নেয়ামত উল্লাহ
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৩ ১১:০৯ এএম
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ জিতেছিল দারুণ আধিপত্য দেখিয়ে। দলের দারুণ জয়টা তিনি দেখেছিলেন ডাগআউটে বসে। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মিলল সুযোগ, উইকেটে খানিকটা বাড়তি স্পিন দেখেই দুই দল বাড়তি স্পিনার খেলিয়েছিল, বাংলাদেশ একাদশে এনেছিল মেহেদি হাসান মিরাজকে। টিম ম্যানেজমেন্টের এই আস্থার প্রতিদানটা মিরাজ দিলেন দারুণভাবেই। ব্যাটে-বলে দারুণ পারফর্ম করে বনে গেছেন ম্যাচসেরাও।
মিরাজ প্রথম যখন আক্রমণে এলেন, ইংল্যান্ড তখনই ধুঁকছে খানিকটা। সাকিব আল হাসান আর হাসান মাহমুদের পরপর দুই ওভারে দুই উইকেট খুইয়ে বসেছিল যে! মিরাজ এসে তাতে চাপটা স্রেফ বাড়িয়েই গেলেন। উইকেটে বেশ থিতু মনে হতে থাকা মঈন আলিকে ফেরালেন প্রথমে। দ্বিতীয় ওভারে উইকেট পেলেন না বটে, কিন্তু দিলেন চার রান, ইংল্যান্ডের চাপটা তাই ক্রমে বেড়েই যাচ্ছিল।
দ্বিতীয় স্পেলে এসে শুরুর ওভারে তুলে নেন স্যাম কারান আর ক্রিস ওকসকে, তাও মাত্র দুই রান খরচায়। শেষ ওভারে এসে ক্রিস জর্ডানকে যখন ফেরালেন, ইংল্যান্ডকে অল্প রানে বেঁধে রাখা তখন একরকম নিশ্চিতই হয়ে গেছে।
মিরপুরের উইকেটে বল আসছিল খানিকটা ধীরে, সব সময় যেমনটা হয়। তবে এখানেও মিরাজ গতির হেরফেরে চমকে দিয়েছেন ব্যাটারদের। স্যাম কারানের উইকেটটা তো এলো সেই গতির হেরফেরেই! দুই স্পেল মিলিয়ে যেভাবে বোলিং করেছেন, তাতে মনে হচ্ছিল স্পেলটা না ভাঙলেই বোধহয় ভালো করতেন সাকিব। কারান আর বেন ডাকেট মিলে ইংল্যান্ডের ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটিটা যে গড়েছিলেন, সেটা তো তার দুই স্পেলের মাঝের সময়টাতেই।
ভাগ্যিস তাকে সরিয়ে নিয়েছিলেন সাকিব! না হয় যে ব্যাটার মিরাজের দেখা পাওয়াও পড়ে যেত শঙ্কায়; ইংল্যান্ড যদি দুই অঙ্কেই শেষ হয়ে যেত?
বল হাতে আলো ছড়ানোর পর ব্যাট হাতেও দলের জয়ে বড় ভূমিকাই রেখেছেন মিরাজ। সাকিবের আগে চারে নেমে ইনিংস গড়ায় মন দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে। সময়ে সময়ে বাজে বলগুলোকে শাস্তি দিতেও ভোলেননি। মিরপুরের স্পিনসহায়ক উইকেটেই আদিল রশিদ আর মঈন আলিকে হাঁকিয়েছিলেন দুটো ছক্কা। যে দুটো ছক্কা বাদ দিলে দলের জয়টাও এত সহজে আসত না! সে দুই ছক্কাতেই যে আস্কিং রেটটা চলে এসেছিল ছয়ের নিচে!
ব্যাট আর বলে তার চেয়ে বেশি প্রভাব ম্যাচে কেউ রাখতে পারেননি। তাতে অবধারিতভাবেই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটা উঠেছে তারই হাতে।
এই ম্যাচসেরার পুরস্কারটাকে নিজের ট্রফিকেসে খানিকটা আলাদা জায়গা চাইলেই দিতে পারেন মিরাজ। টি-টোয়েন্টিতে তার নতুন শুরু যে হয়ে যেতে পারে এই পারফরম্যান্স দিয়ে!
টেস্ট আর ওয়ানডেতে নিয়মিতই ছিলেন তিনি। তবে টি-টোয়েন্টিতে তার কার্যকারিতা নিয়ে ছিল প্রশ্ন। ২০১৮ সালের পর থেকে তো রীতিমতো ব্রাত্যই হয়ে পড়েছিলেন। বিশ্বকাপের ঠিক আগে এশিয়া কাপ দিয়ে টি-টোয়েন্টি আঙিনায় পা পড়ল ঠিক, তবে পায়ের তলার জায়গাটা যেন শক্ত হচ্ছিল না কিছুতেই। পারফরম্যান্সটা যে পক্ষে কথা বলছিল না! ‘ইমপ্যাক্ট’ যে ফেলতে পারছিলেন না! নিজের ‘ভূমিকা’টাই যে ধরতে পারছিলেন না! সেই মিরাজ প্রথম ম্যাচের একাদশে ছিলেন না। এবার একাদশে এসেই বাজিমাত। তার কারণ হিসেবে তিনি জানালেন, ‘অনেক দিন পর টি-টোয়েন্টি খেলছিলাম, তো আমার ভূমিকা নিয়ে খানিকটা দ্বিধায় ছিলাম। তবে আমার অধিনায়ক আর টিম ম্যানেজমেন্ট আমার ওপর ভরসা রেখেছিলেন।’ নিজের ভূমিকাটা বুঝেছেন মিরাজ, এবার তবে ডানা মেলার পালা!