স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন রকিবুল
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৩ ২৩:১৮ পিএম
১০ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৩-এর জন্য মনোনীত করেছে সরকার। গতকাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন খুশিরবার্তা নিয়ে এসেছে ক্রীড়াঙ্গনে। ক্রীড়া স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরিচিতমুখ রকিবুল হাসান।
১৯৭৯ সালের আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন রকিবুল হাসান। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানের টেস্ট দলে দ্বাদশ খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় কমনওয়েলথ একাদশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তানের হয়ে ব্যাটিং ওপেন করেন রকিবুল। সেদিন তার ব্যাটে ছিল একটি স্টিকার, বাংলাদেশের মানচিত্রের সঙ্গে দুটি শব্দ- ‘জয় বাংলা’।
এরপর রকিবুল মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। মুক্তিযোদ্ধা রকিবুল হাসান এর আগে একাধিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। তবে এবারের স্বীকৃতিটি আলাদা করেই রাখছেন তিনি। এটি যে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘শুধু বলব প্রত্যেকটি মানুষ যখন তার কর্মকাণ্ড শেষ করে একটা সময়ে এসে স্বীকৃতি পায়, সেই স্বীকৃতি যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে আসে এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কিছু থাকে না।’
রকিবুল আরও যোগ করেন, ‘মানুষ তো নিঃস্ব, কেউ চিরকাল বাঁচবে না। কিন্তু তার কীর্তি কর্মকাণ্ড থেকে যাবে। সেই কর্মকাণ্ডটা আজকে স্বীকৃতি দেওয়া হলো, আমাকে যে সম্মান দেওয়া হলো, সেই সম্মান সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান। সর্বশ্রেষ্ঠ বলব মানে, মুক্তিযুদ্ধে যে সম্মান আমি পাই যোদ্ধা হিসেবে, আজকের স্বাধীনতাপদক পুরস্কার একই কাতারে থাকবে। আমার সরকার আমাকে সেই স্বীকৃতিটা দিয়েছে এতদিন পর।’
খেলোয়াড় হিসেবে ক্রিকেট ছাড়লেও খেলাটির সঙ্গে এখনও জড়িয়ে আছেন রকিবুল। সাবেক এই অধিনায়ক এখন ম্যাচ রেফারি হিসেবে কাজ করছেন। ৭০ বছর বয়সি এই ক্রীড়াব্যক্তিত্ব জানালেন কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান তিনি, ‘আমি সারা জীবন সব সময় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছি, যাই করেছি এবং সৎভাবে করেছি। আমি এমন একটা বাংলাদেশ দেখতে চাই, যে বাংলাদেশ দুর্নীতি থেকে দূরে থাকবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ যে স্বাধীন হয়েছে এই চেতনাটা যেন আমরা ধারণ করতে পারি। আগামী প্রজন্ম যেন ধরে রাখতে পারে। আমার আবেদন থাকবে, সরকারের কাছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে যেন আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাগুলো বড়ভাবে গ্রামে উপজেলায় বিভিন্ন স্কুলের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারি।’
স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্তির দিনে তিনি ক্রিকেটারদেরও ভুলে যাননি। রকিবুল এই প্রাপ্তি তার প্রিয়দের উৎসর্গ করেছেন, ‘আমি মনে করি, আমার যে অর্জন তা সামনে আরও অনেকেই পাবেন। আমি এই অর্জন উৎসর্গ করি সকল ক্রিকেটারের উদ্দেশে যারা অতীতে ছিলেন, বর্তমানে আছেন। আগামীতে যারা আসবেন। আর অবশ্যই আমার পরিবার।’
১৯৫৩ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম রকিবুল হাসানের। জাতীয় দলের হয়ে তিনি খেলেছেন দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। খেলেছেন ৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। পাকিস্তান টেস্ট দলেও খেলার সম্ভাবনা ছিল রকিবুলের। কিন্তু তখন বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে তাকে রাখা হয় জাতীয় দলের বাইরে।