প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৩:১৮ পিএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৯:৩১ পিএম
অশ্রসিক্ত নয়নে ভক্তদের উদ্দেশে হাত নাড়ছেন সেরেনা উইলিয়ামস।
টেনিসে ‘সেরেনা যুগ’-এর পরিসমাপ্তি ঘটল। টেনিস খেলার জন্য যার জন্ম হয়েছিল, সেই সেরেনা উইলিয়ামস র্যাকেট তুলে রাখলেন। ১৯৯৯ সালে যে ইউএস ওপেন জিতে শুরু হয়েছিল সেরেনার গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়যাত্রা, সেই গ্র্যান্ড স্ল্যামেই শুক্রবার শেষ ম্যাচ খেললেন তিনি। বিবিসি জানিয়েছে, জীবনের শেষ ম্যাচে সেরেনা হেরেছেন অস্ট্রেলিয়ার আজলা টমলজানোভিকের কাছে। ৭-৫, ৬-৭(৪-৭), ৬-১ সেটে পরাজিত হয়ে অশ্রসিক্ত নয়নে ভক্তদের উদ্দেশে হাত নাড়েন সেরেনা।
তার ঝুলিতে রয়েছে ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম (সিঙ্গলসে) শিরোপা, রয়েছে অলিম্পিকে স্বর্ণপদক। কৃষ্ণাঙ্গ বলে এক সময় যার বাবাকে মার খেতে হয়েছিল, তার মেয়ে দেশের পতাকা উঁচু করেছিলেন বিশ্বের সামনে। সেই মেয়ে সেরেনা বিদায় জানালেন টেনিসকে।
এবার ইউএস ওপেন শুরুর আগেই সেরেনা জানিয়েছিলেন, ‘এটাই শেষ’। মঞ্চ তৈরি ছিল। কান্নার আয়োজনও করে ফেলা হয়েছিল। সেরেনার হার না মানা জেদ সেই আয়োজনে জল ঢেলে দেয়। ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ড জিতে নেন তিনি। কিন্তু বিদায় ঘণ্টা বেজেই যাচ্ছিল। বিশ্বের সাবেক এক নম্বর বিলি জিন কিং বলেন, ‘বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিদায় নেবে সেরেনা। ওর ক্যারিয়ার একাধিক তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। ও টেনিসকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।’
জন ম্যাকেনরো বলেন, ‘সেরেনার যা ইচ্ছা, সেটাই করা উচিত। আমার মনে হয় ওর আর খেলার প্রয়োজন নেই। এখনই সেরেনা মাইকেল জর্ডন, লেব্রোন জেমস এবং টম ব্র্যাডির জায়গায় পৌঁছে গেছে। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে খেলার ইতিহাসে সর্বকালের সেরার জায়গায় পৌঁছে গেছে ও। জীবনের সেরা জায়গায় রয়েছে সেরেনা। কেউ যদি ‘কিং রিচার্ড’ ছবিটি দেখে থাকে তা হলে বোঝা যাবে কোন জায়গা থেকে উঠে এসেছে ও। সেরেনা এখন যে জায়গায় আছে ও আরাম করে বাকি জীবনটা কাটাতে পারে। খারাপ নয়, কী বলেন?’
সাবেক ব্রিটিশ এক নম্বর তারকা গ্রেগ রুসেডস্কি মনে করেন মেয়েদের টেনিসকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন সেরেনা। তিনি বলেন, ‘ও বক্স অফিস। গত দুই দশকে মেয়েদের টেনিসকে এগিয়ে নিয়ে গেছে সে। সঙ্গে ছিল ওর বোন ভেনাস। আরও অনেক ভালো খেলোয়াড় অবশ্যই আছে। কিন্তু সেরেনা টেনিসপ্রেমী নন এমন দর্শকদেরও আকর্ষণের কারণ হয়ে উঠেছিল। টেনিস সম্পর্কে কেউ কিছু না জানলেও সেরেনা উইলিয়ামসের নাম জানে। সেরেনার অভাবটা বোঝা যাবে।’
২০২১ সালে ইউএস ওপেন জেতেন এমা রাডুকানু বলেন, ‘সেরেনা খেলাটাই পাল্টে দিয়েছে। মেয়েদের টেনিসকে তার মতো কেউ প্রভাবিত করেনি।’ ফরাসি ওপেনের ফাইনালে উঠে হেরে যাওয়া কোকো গফ বলেন, ‘সেরেনা যে কীর্তি রেখে গেল, তা আমার মনে হয় না কেউ কোনো দিন ছুঁতে পারবে। ওর কীর্তি অনেককে অনুপ্রেরণা দেবে।’
সেরেনা এবং ভেনাসের বাবাকে নিয়ে তৈরি ছবি ‘কিং রিচার্ড’। সেই ছবির শেষ দিকে সেরেনার বাবা রিচার্ড ছোট সেরেনাকে বলেন, “ভেনাস বিশ্বের এক নম্বর হবে। কিন্তু তুমি সর্বকালের সেরা হবে। আমার সব কিছু পরিকল্পনা করা আছে।’ রিচার্ডের সেই কথা যে সত্যি হয়েছে তা বলাই যায়।
ইউএস ওপেন শুরুর আগেই রাফায়েল নাদাল বলেছিলেন, ‘সেরেনা শুধু টেনিস খেলোয়াড়ই নয়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন ক্রীড়াবিদ।’
ড্যানিল মেদভেদেভ বললেন, ‘আগামী ১০০ বছরেও সেরেনাকে নিয়ে কথা হবে।’
শুধু নারী টেনিস দুনিয়ায় নয়, সেরেনা নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যেখানে তিনি পুরুষ টেনিস খেলোয়াড়দের থেকেও সম্ভ্রম আদায় করে নিয়েছেন। নারীরাই শুধু নয়, ছেলেরাও তাকে দেখে শিখতে চাইছে, অনুপ্রাণিত হতে চাইছে।
প্রবা/জিজি /এসআর