এম. এম. কায়সার
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৩ ০৮:১৯ এএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৩ ০৮:২০ এএম
ফাইল ফটো
ওয়ানডে সিরিজের ট্রফির ‘দখল’ ইংল্যান্ড মিরপুরেই নিয়ে ফেলেছে। আজ সোমবার (৬ মার্চ) চট্টগ্রামে সিরিজ যেখানে দাঁড়িয়ে তার আভিধানিক নাম ‘ডেড রাবার’! এই ম্যাচের ফল সিরিজের ভাগ্য বদলাতে পারবে না। তবে বাংলাদেশ দলের ‘সম্মান’ খানিকটা বাঁচাতে পারবে! ৩-০ তে সিরিজ হারার চেয়ে ২-১ অবশ্যই মর্যাদাকর।
সেই ‘মর্যাদার’ খোঁজে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ। কিন্তু সংকট হলো সিরিজের শেষ এই ম্যাচে নামার আগে ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে সব বিভাগেই বাংলাদেশ সমস্যায় জর্জরিত। ব্যাটারদের ব্যাটে রান নেই। বড় রানের জুটি হচ্ছে না। স্কোর বোর্ডে দলের বলার মতো সঞ্চয় নেই। উইকেটে সেট হয়ে ব্যাটাররা আউট হয়ে ফিরছেন। পরিচিত কন্ডিশন ও উইকেটে গোত্তা খাচ্ছে দল। একই ভুল বারবার হচ্ছে। এক ওপেনার রানে নেই। বোলিংয়ে ধার নেই। ফিল্ডিংয়ে তেজ নেই। ম্যাচের মাঝে সমাধান খোঁজার বুদ্ধিও যেন নেই!
পেছনের দুই ম্যাচে এমন আরও অনেক কিছুতেই বাংলাদেশের শুধু নেই আর নেই। আজ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে অন্তত এই অভাব ঘুচিয়ে ফিরতে চায় বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচ স্রেফ ‘পর্যবেক্ষণ’ করে কাটিয়েছেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।
শেষ ম্যাচে যে দলের একাদশে বদল আসছে সেটা বোঝা গেল রবিবার সকালের অনুশীলন পর্বে। যে তিনজন এখন পর্যন্ত এই সিরিজে খেলার সুযোগ পাননি তাদের প্রত্যেককেই অনুশীলনে বেশ জোরদার দেখা গেল। ব্যাটিং নেটে তৌহিদ হৃদয় লম্বা সময় কাটালেন। বোলিং নেটে দুই পেসার এবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদও ঘাম ঝরালেন বেশ।
মুস্তাফিজুর রহমান বোলিং চর্চার চেয়ে বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডের সঙ্গে আলোচনাপর্বেই বেশি সময় কাটালেন। আজকের ম্যাচে একাদশে তার থাকা নিয়ে বড় সংশয়। সিরিজে উইকেটশূন্য পারফর্যোন্সই তার ‘বিশ্রাম’-এর দাবিকে জোরদার করছে। তৈাহিদ হৃদয় একাদশে সুযোগ পেলে কে জায়গা হারাবেন?
মুশফিক রহিম নাকি আফিফ হোসেন? উত্তরের জন্য টসপর্ব পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
পূর্ব ইতিহাস জানাচ্ছে চট্টগ্রামের উইকেট ঠিক মিরপুরের মতো অত বেশি স্পিনবান্ধব না। এই মাঠে খেলা ওয়ানডেতে ভারত তুলেছিল ৪০৪ রান। তবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অন্তত উইকেট নিয়ে আর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যাওয়ার বাড়তি ঝুঁকি নেবে না বাংলাদেশ। সিরিজের শেষ ম্যাচের এই উইকেটে মিরপুরের চেয়ে বেশি স্পিন ধরলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
এই ইংল্যান্ডকে থামাতে আপাতত সেটাই কার্যকর উপায়। তবে স্পিন উইকেটেও পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কীভাবে খেলতে হয়- সেই শিক্ষাটা বেশ ভালোই দিয়েছে ইংল্যান্ড মিরপুরে। ডেভিড মালান ও জ্যাসন রয় দুজনেই দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন, প্রায় নির্ভুল কায়দায় ব্যাটিং করে। আর ৩ উইকেট ও ১৩২ রানে হারা দুই ম্যাচে বাংলাদেশের হাফসেঞ্চুরি কেবলমাত্র দুটো।
প্রথম ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্ত, দ্বিতীয় ম্যাচে সাকিব আল হাসান। দুই ম্যাচেই সেট হয়ে আউট হয়েছেন তামিম ইকবাল। আরেক ওপেনার লিটন দাস রানই পাননি। মিডল অর্ডারে মুশফিকুর রহিমেরও সেই হাল। মাহমুদউল্লাহ ব্যাট হাতে যা করছেন তার নাম ‘সংগ্রাম’।
সাত নম্বরে আফিফ হোসেন ভীষণ বাজে ফর্মে রয়েছেন। পেছনের পাঁচ ম্যাচে তার সাকুল্যে সংগ্রহ ৪৬। এর মধ্যে চার ম্যাচে আউট সিঙ্গেল ডিজিটে। সাত মাস পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর তামিম ইকবালের কাছেও একটা বড় ইনিংস ‘পাওনা’ হয়ে আছে।
এমন অনেক দাবি পূরণের ইচ্ছে নিয়ে সিরিজের শেষ ম্যাচে নামছে আজ বাংলাদেশ। দেখি কটা পূরণ হয়?
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ : তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ/এবাদত হোসেন।