× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মিরপুরের ডাবল সেঞ্চুরি

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৩ ০৯:২০ এএম

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৩ ০৯:৩২ এএম

মিরপুরের ডাবল সেঞ্চুরি

৮ ডিসেম্বর ২০০৬ থেকে ৩ মার্চ ২০২৩। সময়ের হিসাবে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আয়োজন হচ্ছে ১৬ বছর ২ মাস ২৬ দিন ধরে। গতকাল ছুঁয়ে ফেলল দারুণ এক মাইলফলক। ষষ্ঠ ভেন্যু হিসেবে ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের কীর্তি গড়ে ফেলেছে এই মাঠ। 

২০০৬-এর শেষদিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে শুরু এই মাঠের যাত্রা। সেই ম্যাচে প্রেস বক্সে যিনি হাজির ছিলেন, ছিলেন গতকাল ২০০তম ম্যাচের দিনও- এমন হাতেগোনা কয়েকজন সাংবাদিকের একজন আজাদ মজুমদার। এই মাঠের শুরুর দিক থেকে এখন পর্যন্ত বদলে যাওয়ারও সাক্ষী তিনি। 

এই পরিবর্তন নিয়ে তার ভাষ্য, ‘প্রথম দিকে এই মাঠে অনেক রান হতো। এই মাঠে ৪০০’র কাছাকাছি রান হওয়ারও নজির আছে, ২০১১ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে। এখন অতি ব্যবহারের ফলে হোক বা যেকোনো কারণে, একে এখন আর ব্যাটিংবান্ধব মাঠ বলা যায় না। মাঠের যে বিশ্রাম পাওয়া দরকার, যে পরিচর্যাটা দরকার সেটা না পাওয়ায় এখানে ব্যাটসম্যানদের কাজটা দিনকে দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীতে সুপরিচিত যে ভেন্যুগুলো আছে এখন, তার মধ্যে এই মিরপুরেই সম্ভবত ব্যাটিংটা সবচেয়ে কঠিন।’

উইকেট ছাড়াও তখনকার শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সঙ্গে এখনকার স্টেডিয়ামের পার্থক্যটা বেশ। তার মূল কারণটা ২০১১ বিশ্বকাপ। সেই বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মিরপুরের প্রেস বক্সে লেগেছে নতুনত্বের ছোঁয়া। গ্যালারিতে পরিবর্তন এসেছে, বসেছে জায়ান্ট স্ক্রিনও। 

তবে মিরপুরের উইকেটটাও বদলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল মাঝে, তাতে মিলেছিল সফলতাও। সেটা উঠে এলো অভিজ্ঞ এই সাংবাদিকের স্মৃতিচারণে, ‘কালো মাটি যখন আনা হয়েছিল, এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা এসেছিল ২০০৮ সালে, তখন উইকেটটার উন্মুক্ত করার পর দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের চেহারাটা দেখার মতো ছিল। তারা রীতিমতো পিলে চমকে গিয়েছিল, আরে এটা কী! এমন উইকেট তো কোনোদিন দেখিনি! কুচকুচে কালো উইকেট। এই উইকেটে বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিতল, রাজিব (শাহাদাত হোসেন) ভালো বল করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। তো বাইরের দলগুলোর কাছে এই কালো মাটি যেন হয়ে গিয়েছিল মরণ ফাঁদের মতো।’

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে কালো মাটি তার স্বকীয়তা হারিয়েছে, অতি ব্যবহার তো ছিলই। আজাদের চোখে, ১৬ বছরেই মিরপুরের মাটিতে ২০০ ম্যাচ জানান দিচ্ছে ভিন্ন কিছুর কথাও। তার ভাষ্য, ‘মিরপুরে ২০০তম ম্যাচ যে হচ্ছে, এটা একদিক থেকে যেমন গৌরবের, আরেক দিক থেকে বিব্রতকর। কারণ এটা বাংলাদেশের ভেন্যুর অপ্রতুলতার সাক্ষীই দিচ্ছে।’

তবে তার অভিমত, ক্রিকেটে বাংলাদেশের সুদিনে আর মিরপুরের পথচলা একই সূত্রে গাঁথা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন মাত্র শুরু করল। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের পর থেকে ২০০৩ পর্যন্ত কোনো ম্যাচ জেতেনি। ২০০৪-এ সে খরা কাটল, ২০০৫-এ কিছু ম্যাচ জিতল, ২০০৬-এ নিয়মিত জেতা শুরু করল, সেই ২০০৬ এই ভেন্যুর যাত্রা শুরু। তো এক অর্থে বলা চলে, বাংলাদেশের সাফল্য আর মিরপুরের পথচলা যেন একই সূত্রে গাঁথা!’

২০০৬ থেকে এখন পর্যন্ত এই মিরপুর কম আনন্দ-বেদনার সাক্ষী হয়নি। তার সাক্ষী এই সাংবাদিকও হয়েছেন বৈকি! তবে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তার সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তটা এসেছিল ২০১২ এশিয়া কাপে। আজাদ মজুমদারের স্মৃতিচারণ, ‘তখন নিউ এজের সঙ্গে রয়টার্সেও কাজ করতাম। আমরা শচীন টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি নিয়ে আগেই অনেকগুলো স্টোরি বানিয়ে রেখেছিলাম, যেন হলেই দিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু দিন যায়, মাস যায় তার সেঞ্চুরিটা আর হয় না! সেটা এলো অবশেষে, তা-ও আবার বাংলাদেশের মাটিতেই। তার মতো একজন সাংবাদিকের এই কীর্তি মাঠে বসে দেখতে পারাটা এক রকম আনন্দের ছিল, সেটা আরও বেড়ে গিয়েছিল সেই ম্যাচটা যখন বাংলাদেশ জিতেছিল।’

তার সবচেয়ে মজার স্মৃতিটা ঘটেছিল এক ইংল্যান্ড সিরিজেই, ‘স্কাই স্পোর্টসের সাংবাদিক টিম আব্রাহাম বাংলাদেশে এসেছিলেন সেই সিরিজে। তো সে একদিন প্রেস বক্সে তার নকল দাঁত হারিয়ে ফেলেছিলেন। পুরো প্রেস বক্সে আলোচনা, কোথায় গেল তার দাঁত! সেটা ছাড়া খবর পড়তেও পারছিলেন না তিনি। সেটার খোঁজ শেষমেশ মিলল বিনে। দাঁত খুলে তিনি টেবিলের ওপর রেখেছিলেন, তো সেটা কোনো এক বয় তুলে নিয়ে ফেলে দিয়েছিল ময়লা মনে করে। বিন থেকে কুড়িয়ে তাকে এনে যখন দেওয়া হলো, তিনি যেন চাঁদ হাতে পেলেন, সেই বয়কে বেশ পুরস্কৃতও করলেন। পরে সেটা নিয়েই টিভি ক্যামেরার সামনে বসেন তিনি!’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা