খেলাধুলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২৩:৫১ পিএম
আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২২ ১৯:১১ পিএম
দারুণ এক সম্ভাবনা তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। ১৮৩ রানের বড় লক্ষ্য দিয়ে আশা জাগিয়েছিল সুপার ফোরের। তবে আশার তরী ডুবল তীরে এসেই। এশিয়া কাপের বাঁচা-মরার ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে দুই উইকেটে হেরে মাত্র তিন দিনেই এশিয়া কাপ মিশন শেষ করল সাকিবরা। এর আগে প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটে হেরেছিল টাইগার বাহিনী।
১৮৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে লঙ্কানরা ২ উইকেট আর ৪ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের মাধ্যমে সুপার ফোরে জায়গা করে নিল অর্থনীতিতে বিপর্যস্ত দেশটি।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রান ডিফেন্ড করতে নেমে দুর্দান্ত এক ওভার করেন মুস্তাফিজুর রহমান। প্রথম ওভারে তিনি খরচ করেন মাত্র ২ রান। ২ ওভার শেষে লঙ্কানদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯। লঙ্কান শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন এবাদত হোসেন। যদিও তাকে ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে প্রথম বল হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার শিকারে পরিণত হয়ে মাঠ ছাড়েন পাথুম নিসাঙ্কা। নিসাঙ্কা যখন আউট হন, তখন লঙ্কানদের সংগ্রহ ৪৫ রান। ওভারের শেষ বলে এবাদত ফিরিয়ে দেন চারিথ আসালাঙ্কাকেও। ব্যক্তিগত ১ রানে মাঠ ছাড়েন তিনি।
মেহেদী হাসানের করা ওভারের শেষ বলে কুশাল মেন্ডিসকে আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার। তবে রিপ্লেতে দেখা যায়, মেহেদী বল করেছেন সীমানা অতিক্রম করে। ফলে মাঠও ছাড়তে হয়নি লঙ্কান উইকেটরক্ষক ব্যাটারকে।
দলপতি সাকিব পরের ওভার করতে আবার ডাকেন এবাদতকে। বাংলাদেশি পেসারও বল হাতে নিয়ে নিরাশ করেননি। টেস্টে নিজেকে আগেই প্রমাণ করেছেন। সীমিত ওভারেও এবাদত হোসেন কার্যকর হতে পারেন, তার প্রমাণ দিলেন অভিষেকে।
অভিষেক ম্যাচে প্রথম ওভারেই জোড়া উইকেট শিকার করেন এবাদত। ফলে উড়ন্ত সূচনার পর পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে এসে ধাক্কা খেয়েছে শ্রীলঙ্কা।
নিজের দ্বিতীয় ওভারে আরও এক সফলতা এনে দেন তিনি। বিপদজনক হয়ে উঠতে থাকা দানুশকা গুনাথিলাকাকে ফেরান তিনি। ৪ ওভার বল করে ৫১ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট।
নিজের প্রথম ওভারে তাসকিন এক চারসহ দিয়েছিলেন ৭ রান। পাননি কোনো উইকেটের দেখাও। তাসকিন আবার বোলিংয়ে এসে দ্বিতীয় বলে চার হজম করেন। পরের দুটি বলে একটি ডট ও একটি সিঙ্গেল দেন তিনি। ওভারের পঞ্চম বলে আউট করেন ভানুকা রাজাপাকসেকে। ৯ ওভারে শ্রীলঙ্কার রান তখন ৭৭। বাংলাদেশের জন্য রীতিমতো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন কুশাল মেন্ডিস। দেড়শর বেশি স্ট্রাইকরেটে তিনি ব্যাট করছিলেন। সেই মেন্ডিসকে ফিরিয়েছেন টাইগার পেসার মুস্তাফিজ। ৩৭ বলে ৬০ রান করেছেন লঙ্কান উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
হাসারাঙ্গাকে আউট করেন তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশের আরেক ভয়ের কারণ শানাকা আউট হন একেবারে সীমানা দড়ির কাছে। মেহেদী হাসানের বলে সেই ক্যাচটি নেন মোসাদ্দেক হোসেন। স্কোর বোর্ডে ৪৫ রান যোগ করেছিলেন লঙ্কান দলপতি। ১০ বলে ১৬ রান করে সাকিবের থ্রোয়ে রানআউট হন চামিকা করুনারত্নে। শেষ দিকে আসিথা ১০ রান করেন।
এর আগে এশিয়া কাপে বাঁচা-মরার ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটাই হয় চার দিয়ে। মদুশাঙ্কার করা ওভারের প্রথম বলে ব্যাট ছোঁয়াতে না পারলেও সেটি মেহেদী হাসান মিরাজের পায়ে লেগে সীমানা দড়ি অতিক্রম করে। পরের দুটি বলেও কোনো রান তুলতে পারেননি মিরাজ। ষষ্ঠ বলে স্ট্রাইক পেয়েই ফাইন লেগে চার হাঁকান দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া সাব্বির রহমান। মহেশ থিকশানার পরের ওভারে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ৩ রান।
দীর্ঘদিন পর দলে ফিরে এশিয়া কাপের বাঁচা-মরার ম্যাচে সাব্বির নেমেছিলেন ওপেনিংয়ে। কিন্তু কোটি বাঙালির হৃদয় ভেঙে মাত্র ৬ বলে ৫ রান করে আসিথা ফার্নান্ডোকে পুল করতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ হয়ে ফিরেছেন সাজঘরে।
সাব্বির রহমানের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমে ভালোই করছিলেন মিরাজ। পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার পর বল করতে আসা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা দ্বিতীয় বলে মিরাজের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করেছিলেন তিনি। তবে আম্পায়ার আহমেদ শাহ পাক্তিন সাড়া দেননি। রিভিউ নিলেও কাজ হয়নি।
তবে ২ বল পরই ফিরতে হয়েছে মিরাজকে। সুইপ করতে গিয়ে মিস করে গেছেন তিনি, এবার আর আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি মিরাজকে। ২৬ বলে ৩৮ রান করে ফিরতে হলো তাকে।
এরপর ব্যাটিংয়ে আসেন মুশফিকুর রহিম। ৫ বলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনিও।
বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলছিলেন সাকিব আল হাসান। দুই ওপেনারসহ তিন উইকেট হারানোর পর বড় স্কোরের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। তবে থিকসানার বলটি খেলতে স্টাম্প ছেড়ে বাইরে গিয়ে বিপত্তিটা বাধালেন তিনি। ব্যাট মিস করল বলটি। তবে স্টাম ভাঙতে মিস করেনি। ফল ক্লিন বোল্ড।
ফেরার আগে ২২ বলে ৩ বাউন্ডারিতে সাকিব করেন ২৪ রান। সাকিবকে হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
৮৭ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর আফিফ হোসেন ধ্রুবকে সঙ্গে নিয়ে দারুণ এক জুটি গড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তাদের ঝড়ো জুটিতে ভর করে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়েছে বাংলাদেশ।
১৩তম ওভারেই শতরান পার করে বাংলাদেশ। হাসারাঙ্গাকে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে দারুণ এক ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে ১০০ পার করে দেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। তবে ২২ বলে ৩৯ রানের এক ইনিংস খেলে সাজ ঘরে ফেরেন আফিফ।
একপ্রান্ত আগলে রাখা মাহমুদউল্লাহও বেশি সময় থাকতে পারলেন না। ২২ বলে ২৭ রান করে সাজ ঘরে ফিরেছেন তিনি।
এরপর মেহেদী হাসান ১ রান করেই সাজঘরে ফেরেন করুনারত্নের বলে। বাকিদের মধ্যে মোসাদ্দেক হোসেন ৯ বলে ২৪ ও তাসকিন আহমেদ করেন ১১ রান।
শ্রীলঙ্কার হয়ে দুটি করে উইকেট পান ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও চামিকা করুনারত্নে। একটি করে উইকেট পান দিলশান মদুশাঙ্কা, মহেশ থিকশানা ও আসিথা ফার্নান্দো।
প্রবা/আরএম/