নেয়ামত উল্লাহ
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৩ ০৯:০৭ এএম
আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৩ ১১:০৫ এএম
সাদা বলের ক্রিকেটকে অনেক আগে থেকেই বদলে দিয়েছিল ইংল্যান্ড। কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম আর বেন স্টোকসের ‘বাজবলে’ এখন বদলে দিচ্ছে টেস্টের চিরাচরিত ধারণাটাও। এক সময়ের ‘নিধিরাম সর্দার’ ইংলিশদের তাই সব ধরনের ক্রিকেটেই এখন দেখা হয় সমীহের চোখে। সে দৃষ্টিতে মিশে থাকে খানিকটা ঈর্ষাও।
বিশ্বকাপের বছরে বাংলাদেশের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট সেই ইংলিশদের বিপক্ষেই। এটাও আবার এমন সময়ে, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেটও গিয়েছে পালাবদলের মধ্য দিয়ে। ‘রাগী হেডমাস্টার’ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ফিরেছেন বাংলাদেশ কোচের তখতে। নিজের দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট শুরুর ঠিক আগে হাথুরু জানালেন তার মনের গহিনে থাকা এক আশার কথা, বাংলাদেশকেও তিনি নিয়ে যেতে চান ইংল্যান্ডের মতো ঈর্ষণীয় এক অবস্থানে।
সিরিজ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে হাথুরু জানালেন, ‘শেষ দশ বছরে তারা (ইংল্যান্ড) অবিশ্বাস্য দল হয়ে গেছে। টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে নিজেদের ঈর্ষণীয় অবস্থানে নিয়ে গেছে। আমি আশা করছি, আমার এবারের যাত্রা যখন শেষ হবে, আমরাও তেমন কিছু রেখে যেতে পারব।’
কোচ হাথুরুকে এমন আশা দেখার সাহস দিচ্ছে বাংলাদেশ দলের উন্নতি। তার চোখে ২০১৪ সালের সে দল, আর এখনকার দলের পার্থক্যটা বিস্তর। ২০১৪ সালে সে দলটাকে নিয়েই ‘আগ্রাসী ক্রিকেট’ খেলেছিল বাংলাদেশ।
সে তুলনায় খেলোয়াড়রা এখন বেশ পরিপক্ব! নিজের ভূমিকাটা ভালো বোঝেন। জানালেন, সাকিব-তামিমদের অবসরের পর বাংলাদেশে যে নেতৃত্বের শূন্যস্থান তৈরি হবে, সেটা ঢেকে দিতেও নিজেদের প্রস্তুত করে ফেলেছেন লিটন দাস, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমানরা। সেসব কারণই নতুন ‘ঈর্ষণীয়’ এক ভবিষ্যতের আশা দেখাচ্ছে কোচকে।
সেটা হবে বা না হবে, তার উত্তর দেবে সময়ই। তবে যা-ই হোক সে যাত্রাটা শুরু আজ বুধবার। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে তার দল মুখোমুখি হবে ইংলিশদের। এই সিরিজটাকে নিজেদের বাজিয়ে দেখার ভালো সুযোগ হিসেবেই দেখছেন কোচ হাথুরু। বললেন, ‘তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, তাদের গভীরতাটা দারুণ। তো তাদের বিপক্ষে খেলাটা আমাদের জন্য দারুণ সুযোগ, আমরা কোথায় আছি তা দেখার জন্য।’ সেই চ্যালেঞ্জের জন্য দল দারুণ প্রস্তুতিই নিয়েছে, অভিমত কোচ হাথুরুর।
শেষ কিছু দিনে সাকিব আল হাসান আর তামিম ইকবালের সম্পর্কের অবনতি রীতিমতো ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। সে প্রসঙ্গে গোটা দুই বাউন্সারও ধেয়ে গিয়েছিল তার দিকে। তার একটাকে পুল আর আরেকটাকে গ্লাইড করে পাঠিয়েছেন সীমানার বাইরে। জানিয়েছেন, মাঠের পারফরম্যান্সে এর প্রভাব না পড়লে সেটায় তার মাথাব্যথা নেই। কথাটা তামিম ইকবাল অবশ্যও বলেছিলেন দিন দুয়েক আগে।
সেটা ঠিকঠাক হলে তো কথাই নেই। হাথুরুর যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন, তা সত্যি হওয়ার পথটা যে মসৃণই হবে, তাতে সন্দেহ নেই। আর তাদের নিয়ে এত এত আলোচনা-সমালোচনার পর যদি মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাবটা পড়েই যায় তাহলেই দেখা মিলবে আসল হাথুরুর। সে কারণেই তো হাথুরুর দ্বারস্থ হয়েছে বিসিবি!