প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:৪১ এএম
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:৪৭ এএম
ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম দুটো সেঞ্চুরি তার নামের পাশে। ক্রিকেট একেবারেই দেখেন না, এমন কাউকে এই বাক্যটা বললেই ইংল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক জস বাটলারের পরিচিতিটা পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার কথা তার কাছে। বাটলার আদতেও তা-ই। নিজের দিনে প্রতিপক্ষকে স্রেফ শেষ করে দেওয়ার অসীম ক্ষমতা আছে তার। বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজেও সবচেয়ে বড় ‘শত্রু’ হতে চলেছেন তিনিই।
১৯৯৯ বিশ্বকাপে টন্টনে সৌরভ গাঙ্গুলি আর রাহুল দ্রাবিড় মিলে যখন তুলোধুনো করছেন লঙ্কান বোলারদের, সেদিন তিনি ছিলেন গ্যালারিতে। ‘খুনে’ ব্যাটিংয়ে বোলারদের নাভিশ্বাস তোলার ইচ্ছে সেদিনই পেয়ে বসেছিল বাটলারকে। কে জানত, সৌরভের এই ইনিংস দেখে উদ্বুদ্ধ বাটলারই একটা সময় নেতৃত্ব দেবেন বদলে যাওয়া ইংল্যান্ডের!
২০১৫ বিশ্বকাপে ইয়ন মরগানের ডেপুটি ছিলেন, সে বিশ্বকাপে মুখ থুবড়ে পড়ল দল। ইংলিশদের বদলে যাওয়ার শুরু এরপরই। কী ওয়ানডে, কী টি-টোয়েন্টি, গোটা ইংল্যান্ডই ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে খুনে হয়ে উঠেছে এরপর, বাটলার তো ছিলেন আগে থেকেই। পরের বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে ইংল্যান্ড ফাইনাল খেলল, তাতে বড় অবদান ছিল তারও।
দু’বছর পর ইংল্যান্ড জিতল বিশ্বকাপ, বাটলার সেখানেও ছিলেন অবিচ্ছেদ্য অংশ। টুর্নামেন্টে পা রেখেছিলেন রীতিমতো উড়তে থাকা এক ফর্ম নিয়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে দল হারলেও তিনি খেলেছিলেন ৭৬ বলে ১০৩ রানের ইনিংস। বাংলাদেশের বিপক্ষেও ছিল তার ঝড়ো হাফসেঞ্চুরি। এরপর পুরো টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ড যেভাবে ব্যাট করেছে, তাতে তার আর খুব বেশি কিছু করতে হয়নি। করতে হলো শেষ ম্যাচে এসে, ফাইনালে দল ২৪২ রান তাড়া করতে নেমে ৮৬ রানেই খুইয়ে বসেছিল ৪ উইকেট। সেখান থেকে তিনি করেন ৫৯ বলে ৬০ রান, ম্যাচ জেতানো বেন স্টোকসকে দিয়েছেন যোগ্য সঙ্গ। সুপার ওভারেও ৩ বলে করেন ৭ রান। ইংল্যান্ডকে জেতান শিরোপা।
সাদা বলে ইংল্যান্ডকে বদলে দেওয়া প্রজন্মের আরও একটা শৃঙ্ঘজয় বাকি ছিল, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০২২-এ এসে ঘুচে যায় সে আক্ষেপটাও। এখানেও বাটলারই নেতৃত্ব দিলেন, আক্ষরিক অর্থেই। শুরুটা তার ভালো হয়নি অবশ্য, তার দলও পড়ে গিয়েছিল বিদায়ের শঙ্কায়। তবে যেই না তার ব্যাট হাসল, ইংল্যান্ডও হাসল। নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে খেললেন ৭৩ রানের ইনিংস। সেমিফাইনালে ভারতকে তুলোধুনো করলেন অপরাজিত ৮০ রান হাঁকিয়ে। ফাইনালে দলকে এনে দিলেন দারুণ শুরু। ইংল্যান্ড শেষমেশ বিশ্বকাপটা জিতল, সেটা তার হাত ধরেই।
বাংলাদেশের বিপক্ষেও ব্যাট নিয়মিতই হেসেছে তার। ২০১৫ বিশ্বকাপে ম্যাচটা তো আরেকটু হলে ছিনিয়েই নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি! ৫২ বলে তাকে ৬৫ রানে থামানো গিয়েছিল বলে বাঁচোয়া, না হলে তো নকআউটের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যেত বাংলাদেশের! এরপর মিরপুর হোক কি কার্ডিফ, বাংলাদেশের বিপক্ষে তার ব্যাট রানে হেসেছে। ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে দু’বার মাত্র তিনি ফিরেছেন ৫০-এর আগে। আসছে সিরিজে তাই তার ওপর বাড়তি নজর না রেখে উপায় কী?