প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১০:৩২ এএম
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:৫১ পিএম
‘ফাইনালে হারে না কুমিল্লা’— বাক্যটার যথার্থতা আরও একবার প্রমাণ করে দেখিয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। চারবার ফাইনাল খেলে চারবারই জিতেছে শিরোপা। তবে তাদের এই নিষ্কলুষ ফাইনাল রেকর্ডটার পেছনে আছে অনেক কঠোর পরিশ্রমের গল্প, পেশাদারত্বের গল্পও। বৃহস্পতিবার ফাইনাল জেতার পর সে গল্পটাই নতুন করে বলেছেন দলটির মালিক নাফিসা কামাল।
২০২৩ বিপিএলে কুমিল্লার এই শিরোপা জয়ের পথটা অবশ্য মোটেও মসৃণ ছিল না। শুরুটা করেছিল তিন ম্যাচে হেরে। সেই পরিস্থিতিতেও অবশ্য কুমিল্লা দেখেছে শিরোপার স্বপ্নই; শুধু ছকটা কষতে হয়েছে নতুন করে, এই যা! নাফিসা জানালেন, ‘আশা না আসলে, বিশ্বাসই ছিল চ্যাম্পিয়ন হব। এখন চ্যাম্পিয়ন কীভাবে হব, সেটার পরিকল্পনা নিয়েই নতুন করে চিন্তা করছিলাম।’
সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে শিরোপাজয় কুমিল্লাকে নিয়ে গেছে অনন্য অবস্থানে। বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই আসরে যে শিরোপার স্বাদ কুমিল্লার চেয়ে বেশি পায়নি আর কোনো দলই! ২০২২ আসরে শিরোপা জিতেই একক ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি’ হিসেবে কুমিল্লা চলে গিয়েছিল শীর্ষে। তবে ‘গ্ল্যাডিয়েটর্স’ আর ‘ডাইনামাইটস’ নামে ঢাকা জিতেছিল তিনটি শিরোপা। বৃহস্পতিবারের শিরোপা জয়ের পর কুমিল্লা এককভাবে রেকর্ডটা নিজেদের করে নিয়েছে। বিপিএল শিরোপা জেতার দিক থেকে এখন শহরটি এককভাবে শীর্ষে।
আরও পড়ুন: ‘ও দারুণ ক্রিকেটার’
এ তো গেল শিরোপার দিক থেকে পার্থক্যটা, তবে নেপথ্যে দলটা যে শ্রমটা দেয়, সেটাই দলটাকে দেয় আলাদা এক পরিচিতি। আর সব দলের সঙ্গে কুমিল্লার পার্থক্যটা তাই একটু স্পষ্ট করেই দেখা যায়। নাফিসা যেমন বললেন, ‘অনেক পার্থক্য দেখতে পাই আসলে। শুরুর দিকে এমনটা ছিল না। এখন হচ্ছে যেহেতু আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা ২০১৫ সাল থেকে এখানে আছি, আমাদের উপস্থিতিটা গুরুত্বপূর্ণ, ধারাবাহিকতাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
২০১৫ সাল থেকে কুমিল্লা আছে বিপিএলে। দলের মালিক তো বটেই, আর সব কাঠামোতেও পরিবর্তন আসেনি তেমন। ঘুরেফিরে একটা নির্দিষ্ট পুলের দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়; দেশি ক্রিকেটাররা তো বটেই, সুনীল নারাইন আর আন্দ্রে রাসেলের সঙ্গে দলের সম্পর্কটা সেই ২০১৫ বিপিএল থেকেই। কোচিং স্টাফেও সেই পরিচিত মুখ; এমনকি দলের সাপোর্টিং স্টাফ প্রায় একই। এই ধারাবাহিকতাটা দলটাকে বাইরের খেলোয়াড়দের কাছেও দিয়েছে বাড়তি আস্থা। সঙ্গে বিশ্বজুড়ে দলের নেটওয়ার্ককেও শক্তিশালী করেছে বেশ।
আরও পড়ুন: সিলেটের ফাইনাল হারের পাঁচ কারণ
নাফিসার ভাষ্য, ‘এখন যখন আমরা বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলি... অনেক কথা হয়েছে এখানে যে টাকা-পয়সার ব্যাপারে, টাকা থাকলেই যে বিদেশি খেলোয়াড় পাওয়া যাবে, বিষয়টা এমন নয়। আমরা এজেন্টদের কাছ থেকে, বিদেশি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে প্রথম কলটা পাই, যখন তারা বিপিএলে আসতে চায়, আমরাই প্রাধান্য পাই। অন্য দলের অনেক আগেই আমাদের কাছে কলগুলো আসে, ওদের অ্যাভেইলেবলিটি নিয়ে। আমি অক্টোবর মাসের ১৭ তারিখ সুনীল নারাইন আর মঈন আলিকে দলে ভিড়িয়েছি, আমি তাদের দলে ভিড়িয়েছি এলিমিনেটর আর ফাইনালের জন্য। অন্য কোনো দল অক্টোবরে বসে এলিমিনেটর, ফাইনালের ভাবনা ভাবতেই পারবে না। আমরা এভাবেই চিন্তা করি, আমরা লম্বা চিন্তা করি। বিশ্বজুড়ে আমাদের নেটওয়ার্কটা এখন অনেক শক্তিশালী হয়ে গেছে।’
এ বছর বিপিএলের প্রায় কাছাকাছি সময়েই শুরু হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএলটি-২০ আর দক্ষিণ আফ্রিকার এসএটি-২০। সঙ্গে পাকিস্তান সুপার লিগের সময়টাও পড়েছে বিপিএলের শেষ দিকে। এতে করে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে পড়তে হয়েছে বেশ সমস্যায়। বিদেশি খেলোয়াড়দের পাওয়ার সম্ভাবনাটা যে কমে গেছে অনেকটাই!
আরও পড়ুন: দলে ডাক পেয়ে খুশি হৃদয়
তবে কুমিল্লা এদিক থেকে ছিল বেশ নিশ্চিন্ত। লিগ শুরুর বহু আগেই যে খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোর কাজটা সেরে ফেলেছিল দলটি! নাফিসা জানালেন, সুনীল নারাইন আর মঈন আলিকে দলে টেনেছিলেন সেই ১৭ অক্টোবর, বিপিএল শুরুর প্রায় আড়াই মাস আগে। বাকিদের নিয়েও কুমিল্লা কোনো ভাবনায় ছিল না, মাঠের বাইরের কাজটা যে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই সেরে নেওয়া হয়েছিল!
নাফিসার কথা, ‘এই বিপিএলে আমার মনে হয় দলগুলো বিদেশি খেলোয়াড় নিয়ে স্ট্রাগল করেছে। মনোযোগটা খেলা থেকে সরে গেছে খেলার বাইরে। প্রতিদিন আমরা দেখেছি খেলোয়াড়রা বিমানবন্দরে নামছে, উঠছে... এই দিক থেকে আমরা আগে থেকেই জানতাম যে এই তারিখ এই খেলোয়াড়রা আসবে, এই তারিখ যাবে, আমাদের একটা সেট প্ল্যান ছিল আমাদের বিদেশি খেলোয়াড়দের নিয়ে। তাই আমাদের মনোযোগটা খেলার ওপরই ছিল। আমাদের বাইরের এই ইস্যু নিয়ে ভাবতে হয়নি।’
নাফিসা কামালের সংবাদ সম্মেলনের সার কথা, কুমিল্লা টুর্নামেন্টের অনেক আগে থেকেই সব বিষয় সামলেছে খুবই পেশাদারভাবে। ৭ বিপিএলে ৪ শিরোপা সে পেশাদারত্বেরই সুফল।