আজ থেকে শুরু হচ্ছে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির ১৬তম আসর। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে চার ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে নাগপুরে। ম্যাচ শুরু বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায়। তবে আর পাঁচটা সাধারণ সিরিজের মতো নয় এটি। দুই দেশের দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার অ্যালান বর্ডার ও সুনীল গাভাস্কারের নামে ১৯৯৬ সালে চালু হওয়া এই সিরিজটি এখন দুই দেশের ক্রিকেট ঐতিহ্যের লড়াইও বটে। এখন পর্যন্ত ১৫টি বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। ১৬তম আসর সামনে রেখে চোখ ভুলিয়ে নেওয়া যাক অতীত পরিসংখ্যানের পাতায়।
বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার থেকে ভারতই এগিয়ে। এখন পর্যন্ত মোট ১৫টি সিরিজে ৫২টি টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার মধ্যে ৯টিতেই জয় তুলেছে ভারত। ম্যাচ জিতেছে ২২টি। পাঁচ জয় আছে অস্ট্রেলিয়ার। তাদের জয়ের সংখ্যাটা ১৯। ড্রয়ে নিষ্পত্তি হয়েছে একটি সিরিজ। সব মিলিয়ে ড্র মোট ১১টি।
এখন পর্যন্ত হওয়া বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি সিরিজের ৮টি হয়েছে ভারতের মাটিতে। যেখানে সাতবারই জয় পেয়েছে ভারত। ২০০৪ সালে ভারতের মাটিতে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি জয়ের স্বাদ নিয়েছিল অজিরা। এরপর আর জেতা হয়নি। তবে এবার আর খালি হাতে ফিরতে চায় না প্যাট কামিন্সের দল। ১৮ বছর পর ফের ভারতের মাটিতে শিরোপা জিততে চায় তারা।
বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিসহ এখন পর্যন্ত মোট ১০২টি টেস্ট ম্যাচ হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। সেই পরিসংখ্যানে অবশ্য ভারতের চেয়ে ঢের এগিয়ে অজিরা। ভারতের টেস্ট জয় শতকরা ২৯.৪১ শতাংশ। যেখানে ৪৩ হারের বিপরীতে তাদের জয় ৩০টি। বাকি ২৮টি ম্যাচ ড্র ও অন্য ১টি পরিত্যক্ত হয়েছে।
দুই দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকার। অজিদের বিপক্ষে ৩৬৩০ রান শচীনের। ৩৯ টেস্টে তার ব্যাটিং গড় ৫৫। অজিদের বিপক্ষে তার থেকে বেশি রান আছে শুধু ইংলিশদের সাবেক কিংবদন্তি জ্যাক হোবসের। ৪১ টেস্টে ৫৪.২৬ গড়ে তার মোট রান ৩৬৩৬। অজিদের বিপক্ষে শচীনের টেস্ট সেঞ্চুরি আছে ১১টা, সব ফরম্যাট মিলিয়ে অঙ্কটা ২০, যা অজিদের বিপক্ষে নির্দিষ্ট কোনো ব্যাটারের জন্য রেকর্ড।
টেস্ট ক্রিকেটে দুই দেশের মধ্যে হ্যাটট্রিকও হয়েছে একটি। ২০০০-০১ সালে কলকাতা টেস্টে রিকি পন্টিং, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও শেন ওয়ার্নকে আউট করে হ্যাটট্রিক আদায় করে নেন হরভজন সিং।
২০০১ সালের ওই সিরিজেই এক কীর্তি গড়ে ভারত। প্রথম ইনিংসে ১৭১ রানে অলআউট হয়ে ফলোঅনে পড়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৫৭ রান তুলে ভারত ম্যাচ জিতে ১৭১ রানে।
এ ছাড়া ওই সিরিজে অনেকগুলো কীর্তি হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটারদের। তিন টেস্টের সিরিজে ৮৩.৮৩ গড়ে মোট ৫০৩ রান করেন কিংবদন্তি ভিভিএস লক্ষণ। সিরিজে ৪৫২ বলে ২৮৩ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংসও আছে লক্ষণের। অন্যদিকে ১৭.০৩ গড়ে মোট ৩২ উইকেট শিকার করেন হরভজন।
বোলিংয়েও সেঞ্চুরি দেখেছে দুই দেশের এই মহারণ। অনিল কুম্বলে অজিদের বিপক্ষে টেস্টে উইকেটের সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন।
কীর্তি আছে এ সময়ের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার বিরাট কোহলিরও। অজিদের বিপক্ষে ২০১৪-১৫ সালে এক সিরিজে চারটি সেঞ্চুরি হাঁকানোর রেকর্ড আছে তার। সিরিজে ৮৬.৫০ গড়ে মোট ৬৯২ রান করেন কোহলি, যা আজও টপকাতে পারেননি কেউ।
কোহলির রেকর্ড আছে আরও। ২০১৪ সালে অ্যাডিলেডে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচেই পরপর দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। এর আগে এমন কীর্তি ছিল শুধু অজি কিংবদন্তি গ্রেগ চ্যাপেলের। ১৯৭৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এমন কীর্তি গড়েন তিনি।
অজিদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক শচীন টেন্ডুলকার হলেও বর্তমানদের মধ্যে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে এগিয়ে চেতেশ্বর পূজারা। এখন পর্যন্ত বিশেষ এই সিরিজে ৩৭ বার ব্যাট করতে নেমে তার মোট রান ১৮৯৩। বোলিংয়ে রেকর্ডটা অজি স্পিনার নাথান লায়নের দখলে। ৪১ ইনিংসে হাত ঘুরিয়ে তার দখলে রয়েছে ৯৪ উইকেট। এই সিরিজেই সেঞ্চুরির প্রত্যাশায় আছেন তিনি। ভারতীয় ব্যাটারদের ভাবনার জায়গা জুড়েও আছেন তিনিই।
ভারতীয়দের মধ্যে রাহুল দ্রাবিড় ও ভিভিএস লক্ষণের ২০০১ সালে করা পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৩৭৬ রান এখনও সেরা। অন্যদিকে ২০১১-১২ সালে অ্যাডিলেড টেস্টের চতুর্থ উইকেট জুটিতে রিকি পন্টিং ও মাইকেল ক্লার্কের করা ৩৮৬ রানের জুটিতে অজিদের জন্য সেরা।