প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০১:২৫ এএম
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:১৩ এএম
বাংলাদেশের কাছে হেরে নারী যুব সাফের মিশন শুরু করেছিল নেপাল। ম্যাচ শেষে কোচ ইয়াম প্রসাদ গুরং জানিয়েছিলেন, তার মেয়েরা শতভাগ দিতে পারেনি। দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে জিতল দল, কোচের প্রতিক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন এলো না। শেষ ম্যাচে ভারতকে হারাল নেপাল, শুরুর ম্যাচে যারা করেছিল ১২ গোল; এর পরও কোচ ইয়াম প্রসাদের প্রতিক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন এলো না। বললেন, বড়জোর ৬০-৭০ শতাংশ দিতে পেরেছে দল। তবে কোচ যতই বলুন সেরাটা দেওয়া এখনও বাকি, তার দল ঠিকই সবার আগে চলে গেছে ফাইনালে।
এই পরিণতির আভাস মঙ্গলবার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধ শেষেও মেলেনি। ভারত যে এগিয়ে ছিল ১-০ গোলে। ২১ মিনিটে সুমতি কুমারির ক্রসটা জালে জড়াতে সমস্যাই হয়নি ভারতের অপূর্ণা নারজারির।
নেপালকে ম্যাচটা জিততেই হতো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে দলটির দেহভাষ্যেই প্রকাশ পাচ্ছিল মরিয়া মনোভাবটা। ৪৮ মিনিটে ভারত রক্ষণে বলটা ছিল গোলরক্ষক আনশিকার পায়ে, তাকে দুই পাশ থেকে রীতিমতো ছেঁকে ধরলেন নেপালের দুই ফরোয়ার্ড। হাই প্রেস সামলাতে ব্যর্থ আনশিকা বলটা খুইয়ে বসেন। ফাঁকায় বল পেয়ে বলটা জালে জড়ান অঞ্জলি চাঁদ।
সেই ১টি গোলই খেলার গতিপথটা বদলে দেয়, ম্যাচ শেষে যা কোচ ইয়াম প্রসাদও মেনে নিয়েছেন অকপটে। ৬৮ মিনিটে ভারত বিপৎসীমায় ফাউলের শিকার হন নেপালের অঞ্জলি চাঁদ। পেনাল্টি থেকে প্রীতি রাই গোল করে এগিয়ে দেন নেপালকে।
পিছিয়ে পড়ে ভারত সমতা ফেরানোর চেষ্টাটা করেছে বটে, কিন্তু সফলতার মুখ দেখেনি শেষমেশ। উল্টো অন্তিম সময়ে গোল হজম করে বসে কোচ মায়মল রকির দল। ৮৯ মিনিটে বাঁ পাশ দিয়ে আক্রমণে উঠে অধিনায়ক প্রীতি ফাঁকি দেন ভারত রক্ষণকে, স্কয়ার করেন পাশে থাকা আমিশা কারকিকে। ফাঁকায় দাঁড়ানো আমিশা প্রথম ছোঁয়াতেই বলটা জড়ান জালে। ভারতের কফিনেও শেষ পেরেকটা ঠোকা হয়ে যায় তাতে।
৩-১ গোলের জয় নিয়ে নেপালের পয়েন্ট দাঁড়ায় ৬-এ। দলটির ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যায় সবার আগে। তবে এর পরও কোচ ইয়াম প্রসাদকে সন্তুষ্ট দেখাল না। জানালেন, ‘দেখুন, বল আর টার্ফ নিয়ে আমাদের সমস্যা ছিল আগেও। ম্যাচ জয়ের ফলে দৃশ্যটা বদলে যাচ্ছে না। আমার মেয়েরা নিজেদের সামর্থ্যের পুরোটা দিতে পারেনি। আজও বড়জোর ৬০-৭০ শতাংশ দিতে পেরেছে। আশা করছি ফাইনালে হয়তো শতভাগ দিতে পারবে!’