প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৩:২১ পিএম
কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে টার্ফ বসেছে, সেখানে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাত বছর ধরে। তবে শেষ কিছু দিন এই মাঠের টার্ফ নিয়ে যেন অভিযোগের শেষ নেই। চলমান নারী যুব সাফে খেলতে আসা ভুটান ও নেপাল সবশেষ অভিযোগ তুলল এই মাঠ নিয়ে।
ভুটান প্রথম ম্যাচের পরই হারিয়ে বসেছিল দলটির মূল তিন খেলোয়াড়কে। গতকাল নেপালের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে হারিয়েছে আরও একজনকে। কোচ কারমা ডেমা জানালেন, এই চোটের কারণ কমলাপুরের টার্ফ। জানালেন, এই টার্ফের মান ‘খুবই বাজে’।
তার ভাষ্য, ‘আমাদের টার্ফের সঙ্গে তুলনা দিলে এখানকার টার্ফ খুবই বাজে। এই ধরনের মাঠে আমরা এই প্রথম খেলছি। আমার মেয়েদের প্রায় সবারই চোটটা লেগেছে পায়ে। আমার দলের একজনের তো পা-ই ভেঙে গেছে! এখানকার টার্ফ খুবই বাজে।’
টার্ফে খেলে চোট সমস্যায় পড়েছে নেপালও। দলটির ফুটবলার কুসুম কাতিওরা হাঁটুর চোট নিয়ে ছিটকে গেছেন টুর্নামেন্ট থেকেই। কারমার মতো নেপাল কোচ ইয়াম প্রসাদ গুরং সংবাদ সম্মেলনে এসে জানালেন, নিজ দেশে যে টার্ফে খেলে অভ্যস্ত, তার সঙ্গে কমলাপুরের টার্ফের ফারাকটা বিশাল। তার কথা, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা দিতে পারেনি। আমি আগেও বলেছি বল আর টার্ফ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। নেপাল আর এখানকার টার্ফ পুরোপুরি আলাদা। এখানে খেলে প্রথম ম্যাচেই আমাদের মূল খেলোয়াড়দের একজন কুসুম কাতিওরা হাঁটুর চোট নিয়ে মাঠের বাইরে চলে গেছে, পুরো টুর্নামেন্টেই আর ও খেলতে পারবে না।’
কমলাপুরের টার্ফ নিয়ে শুরু থেকেই ফুটবলারদের অভিযোগ, এখানকার টার্ফ গতানুগতিক টার্ফ থেকে একটু বেশিই শক্ত, বেশিই ভারী। নেপাল কোচের মূল্যায়নও প্রায় একই। বললেন, ‘এখানকার টার্ফটা অনেক শক্ত। এখানে খেললে হ্যামস্ট্রিং চোট, মাসল ক্র্যাম্প, হাঁটুর চোট হওয়ার সম্ভাবনা বেশ।’
কমলাপুরের মাঠে খেলে চোটে পড়ার নজিরটা নতুন কিছু নয়। গেল মৌসুমে স্বাধীনতা কাপ আয়োজিত হয়েছিল এই মাঠে। চোটে পড়েছিলেন তপু বর্মণ, তারিক কাজী, জোনাথন ফার্নান্দেজদের মতো খেলোয়াড়রা। যে কারণে প্রতিবাদ জানিয়ে একই মাঠে অনুষ্ঠিত ফেডারেশন কাপে খেলেনি বসুন্ধরা কিংস। এ ছাড়া চ্যাম্পিয়নশিপ লিগসহ এই মাঠে অনুষ্ঠিত অন্যান্য লিগে খেলে অহরহ চোটে পড়ার নজির রয়েছে ফুটবলারদের।
ছেলেদের ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ের টুর্নামেন্টগুলো গেল মৌসুমের ফেডারেশন কাপের পর থেকে আর এই মাঠে আয়োজিত হয়নি। তবে মেয়েদের ফুটবলের দৃশ্যটা ভিন্ন। সাবিনা খাতুনরা এই মাঠে খেলেছেন এই গেল বছরই। সেবার প্রীতি ম্যাচের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়াও এই মাঠ নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছিল। তবে নারী ফুটবল সরেনি এই স্টেডিয়াম থেকে।
এ বিষয়ে বাফুফে নারী উইংয়ের চেয়ারপারসন মাহফুজা আক্তার কিরণ জানান, মূলত মাঠ সংকটের কারণেই এই মাঠে খেলাতে হচ্ছে দলকে। শিগগিরই এই সমস্যার সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।