প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:২৩ পিএম
জিতলেই সরাসরি ফাইনাল—এমন সমীকরণের ম্যাচে জিতল না কেউই। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ শেষ হয়েছে গোলশূন্য ড্রতে।
রবিবারের ম্যাচে ফেভারিট তকমা ছিল ভারতের। ম্যাচেও শুরু থেকে আধিপত্য ছিল তাদের। তবে কোচ মায়মল রকির দলকে গোল করতে দেননি রুপনা চাকমা। ৭ মিনিটে বাংলাদেশ রক্ষণ ভেঙে রুপনাকে একাই পেয়ে বসেছিলেন সুমতি কুমারি। তবে তার শটটা দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক। ভারত এরপরও সুযোগ পেয়েছে বেশ। ম্যাচের ১৪ মিনিটে কর্নার থেকে সুনিতা মুন্ডা ফাঁকা থেকেই করেছিলেন হেডটা। সেটাও রুপনা ঠেকিয়েছেন দারুণ দক্ষতায়।
শুরু থেকে খানিকটা অগোছালো বাংলাদেশ দ্রুতই নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে, ভারতের বিপদসীমায় চাপ বাড়িয়েছে। ২৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে চেষ্টা চালিয়েছিলেন স্বপ্না রাণী। সে শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকাতে হয়েছে ভারত গোলরক্ষক আনশিকাকে। ৩৮ মিনিটে ভারত বক্সের অনেক দূর থেকে ফ্রি কিক পায় বাংলাদেশ। শাহেদা আক্তারের নেওয়া ফ্রি কিকটা বেরিয়ে যায় বক্সের অনেক বাইরে দিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই গতিতে এগিয়েছে ম্যাচ। ৬২ মিনিটে ভারত পেয়েছিল সুযোগ। তবে আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা নেহা সে সুযোগটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ৭৮ মিনিটে একই পরিণতি হয় বাংলাদেশ অধিনায়ক শামসুন্নাহারের শটেরও। লক্ষ্যের অনেক বাইরে দিয়ে চলে যায় বল। শেষ দিকে দুই দলই সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে আলোর মুখ দেখেনি তার কোনোটিই। ফলে গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়েছে ম্যাচটি।
এই ড্রয়ের ফলে শেষ রাউন্ডের আগে কারো ফাইনালে খেলাই নিশ্চিত হলো না। প্রথম ম্যাচে জেতা বাংলাদেশ ভারতের যেমন সুযোগ আছে, প্রথম ম্যাচে হারলেও গতকাল ভুটানকে হারানো নেপালের সুযোগটাও থাকছে সমানভাবে।
তবে বাস্তবতার হিসেবে সুযোগটা বেশি বাংলাদেশেরই। দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করা ভুটান যে মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ! সে ম্যাচে হার এড়াতে পারলেই যে ফাইনালে চলে যাবে বাংলাদেশ! আর শেষ ম্যাচে ভারত মুখোমুখি হবে নেপালের, যাদের দুই দলেরই সুযোগ থাকবে সমান। ফলে কেউ ছেড়ে কথা বলবে না কাউকে।
বাংলাদেশ আরও এক দিক থেকে পাচ্ছে বাড়তি সুবিধা। শামসুন্নাহারদের ম্যাচটা সেদিন রাতে, আর ভারত-নেপালের ম্যাচটা হয়ে যাবে বিকেলেই। ফলে ফাইনালে যেতে হলে কী করতে হবে, সে হিসেবটা কষেই মাঠে নামতে পারবে কোচ গোলাম রাব্বানি ছোটনের শিষ্যরা।