প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:৩৪ এএম
পেস বোলারদের স্বর্গরাজ্য দক্ষিণ আফ্রিকা। যেখানে খেলতে যাওয়ার আগে হাসিমুখ থাকে পেসারদের। কারণ বল হাতে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ভয় পাইয়ে দিতে উইকেট থেকেও যে তারা সেখানে বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন। বিশ্বকাপ মিশনে এখন প্রোটিয়াদের রাজ্যে বাংলাদেশ। তার আগে টাইগ্রেসদের পেসার জাহানারা আলম হাওয়ায় উড়ছেন! রংধনুর দেশে প্রস্তুতি পর্বেই ছন্দে বাংলাদেশের এই তারকা ক্রিকেটার।
ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনই বিশ্বকাপের আন-অফিসিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশের মেয়েরা। যেখানে কি না যোগ্যতার পরিধিটা আরও একবার দেখিয়ে দিলেন জাহানারা। বোলিং তোপে প্রতিপক্ষকে তছনছ করে এই পেসার প্রমাণ দিলেন তিনিই দেশসেরা পেসার।
ম্যাচে আইরিশদের চার উইকেট তুললেন জাহানারা। তারচেয়েও বড় কথা তার তেজি বোলিংয়ে ভাঙল প্রতিপক্ষের উইকেটের বেলস। আসল লড়াইয়ের আগে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক বুঝিয়ে দিলেনÑ গতির ঝড় তুলতে প্রস্তুত ২৯-এ পা দেওয়া এই পেসার! অভিজ্ঞতাতেও সতীর্থদের চেয়ে এগিয়ে তিনি। বাংলাদেশের হয়ে ৭৫ টি-টোয়েন্টিতে তুলেছেন ৫৭ উইকেট। ৫০ ওয়ানডে ম্যাচে নিয়েছেন ৪৬ উইকেট।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ১০ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগে ৬ ও ৮ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে পাকিস্তান ও ভারতের মেয়েদের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলবে ‘এ’ গ্রুপে। যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কাকে।
১২ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন। ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ১৭ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড আর ২১ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লড়বেন জাহানারা-সালমা খাতুনরা। তার আগে দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা ওড়ালেন আশার ফানুস, ‘আমাদের দলের সবচেয়ে বড় শক্তিটা হচ্ছে আমাদের ঐক্য। আমরা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ একটা দল। আমাদের দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ও তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের মিশেল আছে। আমাদের দলটা সব সময়ই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত থাকে।’
আলাদা করে দলের তারকা ক্রিকেটার জাহানারা-সালমাদের কথাও বললেন ক্যাপ্টেন জ্যোতিÑ ‘সালমা খাতুন বেশ ভালো একজন অলরাউন্ডার, নাহিদা আক্তার, জাহানারা আলমও আমাদের বোলিং আক্রমণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের তরুণ ‘সুপারস্টার’ মারুফা আক্তারকে দেখতে আমি মুখিয়ে আছি।’
আসল লড়াইয়ের আগে গতির ঝড়ে বেল ভেঙে দলের পেসারদের জাগিয়ে দিয়েছেন জাহানারা। যদিও ২০ ওভারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ইতিহাস ভুলে যাওয়ারই মতো। ১৭ ম্যাচে মাত্র ২ জয়। এবার সেই ব্যর্থতার বলয় থেকেও বেরিয়ে আসার সুযোগ থাকছে জ্যোতি-জাহানারাদের সামনে!