প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:৫১ পিএম
ফরাসি লিগ ওয়ানের শীর্ষে থাকলেও পিএসজির সময়টা ভালো কাটছিল না। দলটা তারকায় ঠাসা, সে দল নিয়েই কি না প্যারিসের ক্লাবটি ধুঁকছিল রীতিমতো! লিগ ম্যাচে রেনেঁর কাছে হারার পর রেইমসের কাছেও খুইয়েছিল পয়েন্ট। দুই ম্যাচ জয়বঞ্চিত থাকার পর অবশেষে পুরোনো ধারায় ফিরেছে ক্রিস্তোফ গালতিয়েরের দল। মঁপেলিয়ের বিপক্ষে জিতেছে ৩-১ গোলে।
তবে সেই স্বস্তি ছাপিয়ে দলটিতে এখন অস্বস্তি। পূর্ণ পয়েন্ট তোলার ম্যাচে পাওয়া-না পাওয়ার খেরো খাতায় কলম ঘুরিয়ে পাল্লাটা হারানোর দিকেই ঝুঁকছে বেশি! কী হবে যদি দলের তিন তারকাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে না পাওয়া যায়! এমন একটা হারানোর সুরও হয়তো বাজছে লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়নদের বসের মনে।
ফেব্রুয়ারির ৪ থেকে ১৯ তারিখের মধ্যে পিএসজি মাঠে নামবে পাঁচবার। এর মধ্যে রয়েছে ইউরোপসেরার মঞ্চের শেষ ষোলোর প্রথম লেগও। পাখির চোখ করা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে লড়বে পিএসজি। দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে জার্মান জায়ান্টদের বিপক্ষে চোটের কারণে গালতিয়ের নাও পেতে পারেন কিলিয়ান এমবাপে ও সার্জিও রামোসকে। আক্রমণভাগের আরেক সেরা তারকা নেইমারও রয়েছেন শঙ্কায়।
লিগে সবশেষ ৩-১ গোলে জেতার ম্যাচে তাই কার্যত দুঃসংবাদই শুনেছেন গালতিয়ের। তবে এসব ভাবতে নারাজ তিনি, ‘খুব বেশি চিন্তিত নই। সতর্কতামূলক ভাবে এমবাপেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। কী হয়েছে, এখনও জানি না। ম্যাচের মধ্যে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইনি। তবে খুব জটিল কিছু মনে হচ্ছে না।’
মাঠের মাঝে এমবাপের কাতরানোর ভঙ্গি বলছে ভিন্ন কথা। পেনাল্টি মিসের রাতে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোটটাও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, খেলার ২১ মিনিট পর মাঠ ছাড়েন ফরাসি স্ট্রাইকার। মিনিট দশেক পর তাকে অনুসরণ করেন রামোস। হেড করতে গিয়ে মাথায় ব্যথা পেয়েছিলেন। মাঠ ছাড়ার সময় সেখানেই ইঙ্গিত দেন স্প্যানিশ রক্ষণ তারকা। ওদিকে হালকা চোটে থাকা নেইমারকে পরের ম্যাচের কথা চিন্তা করে খেলাননি গালতিয়ের।
খুব বেশি শঙ্কায় না হলেও এমবাপে-রামোসের চোট পিএসজির জন্য বড় অস্বস্তির। দলের অন্যতম সেরা দুই তারকার চোটে পড়াও ভাবাচ্ছে ফ্রেঞ্চ কোচকে।
তাহলে মঁপেলিয়ে ম্যাচে কী পাওয়া হলো পিএসজির? লিগের তলানির দিকের দলের বিপক্ষে কার্যত ধুঁকেছিল লিগের শীর্ষ ক্লাব। আক্ষেপ আর হতাশার বনে যেতে বসা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত মেসির গোলে তিন পয়েন্ট তুলেছে পিএসজি। লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা মার্শেইর সঙ্গে ব্যবধান বাড়িয়েছে ৫ পয়েন্ট। এমবাপের ঘাটতি দুর্দান্তভাবে মিটিয়েছেন ফাবিয়ান রুইস। স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মনে রাখার মতো করে বল জালে জড়িয়ে পেয়েছেন ক্লাবের হয়ে প্রথম গোল। দশ মিনিট পর লিওনেল মেসিকে দিয়ে গোল করিয়ে এনেছেন লিড। শেষদিকে মঁপেলিয়ে এক গোল শোধ দিয়ে আশা জাগালেও সেখানে শেষ পেরেক ঠুকে দেন ১৬ বর্ষী ফ্রেঞ্চ তারকা ওয়ারেন যাইর-এমিরি। ৬৯ মিনিটে বদলি নামা তরুণ যোগ করা সময়ে আনেন দলের তৃতীয় গোল, বনে যান পিএসজির ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সের গোলস্কোরার। ‘হারানোর’ ম্যাচে নতুনকে পাওয়া কম কিসে!