সৈয়দ রাসেল
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:২৫ পিএম
পেস বোলারদের আজন্ম শত্রু ইনজুরি। এই শত্রুর কাছে হার মেনে কতশত ক্রিকেটার যে একটু আগেভাগেই শেষ করেছেন ক্যারিয়ার! সৈয়দ রাসেলও সেই দুর্ভাগাদের একজন। ৬ টেস্ট, ৫২ ওয়ানডে আর ৮ টি-টোয়েন্টির ক্যারিয়ার পেছনে ফেলে এখন কোচের ভূমিকায় এই পেসার। এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) আছেন সিলেট স্ট্রাইকার্সের সঙ্গে। দলটির পেস বোলিং কোচ তার শিষ্যদের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হতেই পারেন। দল ১০ ম্যাচের ৮টিতে জিতে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে প্লে অফে। দুর্দান্ত ছন্দে পেসাররাও!
দলটির পেস বোলার রেজাউর রহমান রাজা আলাদা করেই নজর কাড়লেন। যিনি এখন অবধি ৭ ম্যাচে ১২ উইকেট শিকার করেছেন। এই পেসারকে নিয়ে কথা উঠতেই সৈয়দ রাসেল বলছিলেন, ‘এবার বিপিএলে খেলে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে, ওটা বেশ কাজে দেবে ওর। আশা করা যায় ও অনেকদূর যাবে। যখন কোনো পেসার সাফল্যের মধ্যে থাকে তখন তার জন্য জাতীয় দলে ঢোকা সহজ হয়ে যায়।’
একই সঙ্গে বল হাতে দাপট দেখাচ্ছেন সৈয়দ রাসেলের বন্ধু মাশরাফি বিন মর্তুজাও। ১০ ম্যাচে ৩২.১ ওভারে ২৪৩ রান দিয়ে তুলেছেন ১২ উইকেট। অনেকে তো বলছেন ঘরোয়া ক্রিকেট যদি জাতীয় দলে পা রাখার মঞ্চ হয়, তবে মাশরাফিরও আরেকটা সুযোগ পাওয়া উচিত। সৈয়দ রাসেলও সেই কথাটাও মনে করিয়ে দিলেন। সিলেটে তিনি মাশরাফির কোচ হলেও দুজন দীর্ঘদিনের বন্ধু।
গোটা ক্যারিয়ারে মাশরাফির সংগ্রামের গল্পটা রাসেলের চেয়ে আর কে ভালো জানেন। দুজনই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উঠে আসা। এবার কোচের ভূমিকায় থেকে অপ্রতিরোধ্য মাশরাফিকে দেখে দারুণ খুশি রাসেল, ও ক্রিকেট খেলছে ২২-২৩ বছরের বেশি সময় ধরে। একটা খেলা যখন আপনি এতদিন ধরে খেলবেন তখন অনেক কিছুই সহজ হয়ে যায়। ওর যে অবস্থা কোনো কিছুই আর নতুন নয়। ওর চোখ বেঁধে দিলেও দেখবেন ঠিক জায়গায় বল ফেলতে পারবে। ও এখন যেটা করা শুধু ফিটনেসটা ধরে রাখা।’
এখন মাঠের বাইরেও ব্যস্ততা বেড়েছে মাশরাফির। জনপ্রতিনিধি হিসেবেও সময় দিতে হয় এলাকার মানুষদের। তারপরও অনুশীলনে সিরিয়াসনেসের কমতি নেই। কাছ থেকে দেখা অভিজ্ঞতা থেকেই রাসেল বলছিলেন, ও কিন্তু নিয়মিত জিম করে। নিজের ফিট রাখার লড়াইটা চালিয়ে যায়। মাশরাফি ফিট থাকলে এখন কেন আরও দশ বছর পরও খেলতে পারবে। বোলিং নিয়ে ওর আর কোনো কাজ করার নেই।’
শুধু মাশরাফি নয়, এবার বিপিএলে পুরো সিলেট স্ট্রাইকার্স দলটাও জয়টাকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছে। অন্যরা পথ হারালেও সিলেট অপ্রতিরোধ্য। অথচ শুরুতে তাদের নিয়ে তেমন কথা হয়নি। রাসেল পুরো ব্যাপারটাই জানেন—দেখুন, শুরুতে আমাদের নিয়ে কেউ কথা বলেনি। তবে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম—শুরুতেই কিছু একটা করব। অন্যরা প্রস্তুত হওয়ার আগেই আমরা জয়ের ছন্দে চলে যাব। তাছাড়া আমাদের মধ্যে বোঝাপড়াটাও ভালো ছিল। আমাদের কোচিং স্টাফের সবাই বন্ধু। একটা পরিবারের মতো আমরা।’
শুধু কোচিং স্টাফ নয়, পুরো দলের সবাই এখন একটা পরিবার। রাসেল বলছিলেন, আমাদের এখানে কে টিমের মালিক, কে কোচিং স্টাফ, আবার কে জুনিয়র প্লেয়ার—এসব হিসাব নেই। আমাদের বন্ধনটা শুরু থেকেই বেশ ভালো।’
একটা দলের সাফল্যের পেছনের গল্পটা তো এমনই। যেখানে একই সুতোয় গাঁথা থাকবে পুরো দল। যেমনটা সিলেট স্ট্রাইকার্স!