প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:৪৫ পিএম
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬৭৮ দিন পর ফেরাটা সুখকর হয়নি জোফরা আর্চারের। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ১ উইকেটে এলেও ছিলেন খরুচে। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ছিলেন না ডানহাতি পেসার। হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে ফিরে দেখিয়েছেন চমক। ডেভিড মালান ও জস বাটলারের সেঞ্চুরি ম্লান করে আলো কেড়েছেন বল হাতে ঝড় তুলে। সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি ব্যাটার ডি ভিলিয়ার্স তো বলেই দিয়েছেন, ‘আর্চারের বোলিং স্পেল শেষ হলে ডাক দিও। আমি ঘুমাচ্ছি।’
কিমবার্লির ডায়মন্ড ওভালে আর্চারের অবশ্য বোলিং কোটা পূরণ করা লাগেনি। তার আগেই গুটিয়ে গেছে ২৮৭ রানে। ৩৪৭ রানের লক্ষ্যে স্বাগতিকরা থেমেছেন ৫৯ রান পেছনে। শেষ ম্যাচ হারলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করেছে টেম্বা বাভুমার দল।
কোটার ৯.৪ ওভারে ৪০ রান খরচ করে আর্চার নিয়েছেন ৬ উইকেট। এক দিনের ক্রিকেটে এটিই ডানহাতি ব্যাটারের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। আগের সর্বোচ্চ বোলিং ফিগার ছিল ২৭ রানে ৩ উইকেট। শেষদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সমীকরণ এনেছিল ৬০ বলে ৭০ রান। ব্যাটিংয়ে ক্লাসেন ও পারনেল দেখাচ্ছিলেন জয়ের পথ। সেখানে ফের তোপ দাগেন দীর্ঘদিন চোটের কারণে দলের বাইরে থাকা আর্চার। এ দুজন বাদে আরও চার প্রোটিয়াকে ফিরিয়েছেন ইংলিশ পেসার।
আগুন-ঝরা বোলিংয়ে দলকে জিতিয়ে আর্চার বলেছেন, ‘দীর্ঘ বিরতির পর ফেরার অনুভূতি অবিশ্বাস্য। এই অনুভূতি পাওয়া যায় শুধু খেলাতেই। লম্বা যাত্রায় এটা ছোট একটি পদক্ষেপ। এপ্রিল, জুন, জুলাই ও সেপ্টেম্বরে কী অবস্থায় আছি সেটা দেখতে চাই। এখন পথচলার শুরু মাত্র।’
আর্চারের ম্যাচে ঘূর্ণি দেখিয়েছেন রশিদ। ১০ ওভারে ৬৮ রান খরচায় নিয়েছেন ৩ উইকেট। গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান বাভুমা ২৭ বলে করেন ৩৫ রান। তিনে নামা ভ্যান ডার ডুসেন ব্যর্থ হলেও জয়ের পথে দলকে টানছিলেন মার্করাম ও ক্লাসেন। ওপেনার রেজা হেনড্রিকস ৫২ রান করে ফেরার পর ব্যর্থ হন মিলার ও মার্কো জানসেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে লুঙ্গি এনগিদির তোপে পড়ে ইংলিশ টপ অর্ডার। স্কোরবোর্ডে ১৪ রান জমা হতেই হারিয়ে ফেলে শুরুর ৩ উইকেট। পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৩৩২ রান আনেন ডেভিড মালান ও অধিনায়ক বাটলার। দুজনই পেয়েছেন ৩ অঙ্কের দেখা। ফেরার আগে ১১৪ বলে ১১৮ রান করেন মালান। বাটলার ইনিংস সাজান ৬ চার, ৭ ছক্কায়। ১২৭ বলে খেলেন ১৩১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। পরে মঈন আলির ২৩ বলে ৪১ রানের ঝড় সাড়ে তিনশর কাছাকাছি সংগ্রহ এনে দেয়। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ধবল ধোলাই এড়িয়ে ম্যাচসেরা হন বাটলার।