প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:১২ পিএম
ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির মতো ক্লাবে। কিন্তু মনে ছিল না শান্তি। সুখটা উবে গিয়েছিল সে কবেই। কারণটা তো কারো অজানা নয়। কোচ পেপ গার্দিওলার দলে একসময় যে নিয়মিত মুখ ছিলেন। কিন্তু শেষ দিকে শুরুর একাদশে জায়গা পাচ্ছিলেন না সেই জোয়াও ক্যানসেলো। সেই কষ্টটাই পুড়িয়ে মারছিল এ পর্তুগিজ ফুটবলারকে।
বিশ্বকাপ শেষে ম্যানসিটি খেলেছে ১০ ম্যাচ। কিন্তু তার মধ্যে মাত্র তিন ম্যাচে সেরা একাদশে জায়গা করে নিয়েছিলেন তারকা এ লেফট ব্যাক। এ কারণে কোচ পেপ গার্দিওলার সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরে ক্যানসেলোর। উপায়ান্তর না পেয়ে কোচের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে ছাড়েন ইতেহাদ শিবির। পাড়ি জমান জার্মানিতে। নাম লেখান বায়ার্ন মিউনিখে।
ক্লাবে থাকাকালীন ফুটবল গুরু পেপ গার্দিওলার সঙ্গে হয়তো পেরে উঠেননি। সরাসরি কথার লড়াই জমিয়ে হয়তো কিছু বলতে সাহসই পাননি। তবে নতুন ঠিকানায় গিয়েই কাতালান কোচকে যোগ্য জবাবই দিলেন ক্যানসেলো। ক্লাব বদলের এক দিন পরই বায়ার্নের হয়ে মাঠে নেমেই দুরন্ত ঝলকে সবার নজর কাড়লেন। জার্মান কাপে মেইঞ্জের বিপক্ষে সতীর্থের গোলে রাখলেন অবদান।
ক্যানসেলো দলের জন্য যেন সৌভাগ্যই বয়ে এনেছে। তার অ্যাসিস্টে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় বুন্দেসলিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আগের চার ম্যাচে টানা ড্র করলেও অবশেষে বুধবার রাতে নতুন বছরে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে বায়ার্ন। কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের শিষ্যরা প্রতিপক্ষ মেইঞ্জকে হারিয়েছে ৪-০ গোলে। দুর্বার এ পারফরম্যান্সে জয়ের ধারায় ফিরেছে অ্যালিয়াঞ্জ এরিনা শিবির।
বায়ার্নে ধারে খেলতে গিয়েই শুরুর একাদশেই জায়গা পেয়ে যান ক্যানসেলো। রাইট উইং ব্যাক হিসেবে মাঠের লড়াইয়ে পার্থক্যটা গড়ে দিতে খুব বেশি সময় নেননি এ পর্তুগিজ ফুটবলার। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে তার ক্রস থেকে উড়ে যাওয়া বল পেয়েই শত্রু শিবিরের জালে জড়িয়ে দেন চুপো মোটিং। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বায়ার্নের হয়ে পরে একে একে গোল করেন জামাল মুসিয়ালা, লেরয় স্যান ও আলফানসো ডেভিস।
ক্যানসেলোর মাঠের পারফরম্যান্সে অবাক নন বায়ার্ন কোচ নাগেলসমান। বরং খুশি, ‘জোয়াও দারুণ খেলেছে। মাঠে সে বেশ সৃজনশীল ছিল। অসাধারণ কিছু পাস দিয়েছে। বল নিয়ে চমৎকার দৌড়ও দিয়েছে। তাকে শুধু বলেছিলাম, বেশি কিছু না ভাবতে। তার সহজাত খেলাটা খেলতে বলেছি কেবল। তার পারফরম্যান্সে মোটেই অবাক নই।’
এখন ধারেই খেলছেন বায়ার্ন মিউনিখে। চলতি মৌসুম শেষে ৬১ মিলিয়ন পাউন্ডে কানসেলোকে স্থায়ীভাবে কিনে নিতে পারবে বায়ার্ন।