প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:১৬ পিএম
ফুটবলার
তৈরি করা ও সারা বিশ্বের ক্লাবগুলোতে ফুটবলারের জোগান দেওয়ায় ব্রাজিলের জুড়ি নেই। বিশ্বকাপে
বরাবরই অন্যতম ফেবারিট তারা। এখন পর্যন্ত রেকর্ড পাঁচবার শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে লাতিন
আমেরিকার দেশটি। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। মুদ্রার এক পিঠে গৌরব থাকলেও তার উল্টো
পিঠ জুড়ে লেপ্টে আছে দলটির ফুটবলারদের বিতর্কিত সব কর্মকাণ্ড। প্রায়শই দলটির খ্যাতনামা
ফুটবলারদের জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় যৌন কেলেঙ্কারিতে। যার সবশেষ নাম ৩৯ বছর বয়সি দানি
আলভেজ।
সম্প্রতি স্পেনের এক তরুণীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন আলভেজ। যদিও ওই নারীকে চেনেন না বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তবে তার সেসব কথা শোনেনি স্প্যানিশ আদালত। এদিকে তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে তার বর্তমান ক্লাব পুমাস। ওই নারীর অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই গত ৩০ ডিসেম্বর বার্সেলোনার একটি নৈশক্লাবে তাকে যৌন হয়রানি করেছেন আলভেজ।
তবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়ানো নতুন কিছু নয়। আলভেজ ছাড়াও যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন বহু ব্রাজিলিয়ান। যাদের মধ্যে বর্তমান ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার ছাড়াও রয়েছে বেশকিছু কিংবদন্তি ফুটবলারের নামও। যাদের মধ্যে অন্যতম রোনালদো নাজারিও, রোনালদিনহো, রবিনহো, ব্রান্ডাওর এবং কোচ কুকা।
২০১৯ সালে নেইমারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন এক মডেল। তার দাবি, প্যারিসের একটি হোটেলে নেইমার তাকে ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনার তিন বছর আগেও একই অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন নেইমার। সে সময় নাইকির এক কর্মচারী নেইমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, তার সঙে জোরাজুরি করেছিলেন নেইমার।
ব্রাজিলের হয়ে দুইবার বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার রোনালদো নাজারিও জড়িয়েছেন যৌন কেলেঙ্কারিতে। ২০০৮ সালে এসি মিলান থেকে ছুটিতে রিও ডি জেনিরোতে গিয়ে যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়ান তিনি। নাইটক্লাব থেকে তিনজন পতিতাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে রোনালদো জানান, ‘মজা করতে চেয়েছিলেন তিনি, আর এটি কোনো অপরাধ নয়। যৌন সম্পর্কের জন্য অর্থ প্রদান করা অবৈধ নয়।’
আরেক কিংবদন্তি রোনালদিনহো যেন সবাইকেই ছাড়িয়ে গেছেন। প্রায়শই বিভিন্ন মেয়েদের নিয়ে নাইটক্লাবে দেখা যায় তাকে। সেই সঙ্গে একাধিক সুন্দরী তরুণীকে নিয়ে দ্বীপে ঘুরতে যান তিনি। সেই ছবি শেয়ার করেন নিজেই। বার্সার এই সাবেক তারকার নামে একটি কনডম কোম্পানিও রয়েছে। ২০১৩ সালে প্লেবয় ম্যাগাজিনকে তিনি বলেন, ‘বার্সেলোনায় আমার সময়কালে, আমি প্রায়ই গেমের আগে যৌনতা অনুশীলন করতাম। কেননা এটি আমাকে মাঠের খেলায় সুখী রাখার সুবিধা দিত। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে দুই মহিলার সঙ্গে ত্রিমুখী সম্পর্কের অভিযোগ আনা হলে তিনি দুজনকেই বিয়ে করতে রাজি আছেন বলে জানান।
রোনালদিনহোর এই বেপরোয়া জীবনযাপনের প্রতি আগ্রহ আছে ব্রাজিলের বর্তমান তারকা রিচার্লিসনের। কদিন আগেই তিনি বলেছিলেন, অবসর নেওয়ার পরে রোনালদিনহোর মতো অনেক মহিলার সঙ্গে একটি দ্বীপ কিনবেন তিনি। যেখানে রোনালদিনহোর মতো অনেকগুলো মেয়েকে একসঙ্গে নিয়ে থাকবেন তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা ব্রাজিলিয়ান তারকা রবিনহোও জড়িয়েছেন যৌন কেলেঙ্কারিতে। ২০১৩ সালে মিলানের একটি নাইটক্লাবে এক তরুণীকে গণধর্ষণে অংশ নেওয়ায় ২০১৭ সালে তাকে ৯ বছরের জেল দেয় দেশটির আদালত।
ব্রাজিলের
কোচ কুকার বিরুদ্ধেও অভিযোগ ছিল যৌন হয়রানির। ১৯৮৭ সালে ১৩ বছরের এক মেয়ের সঙ্গে যৌন
সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। এছাড়া এক তরুণীকে ধর্ষণের দায়ে দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া
হয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ব্রান্ডাওরকে।