পার্থ প্রতীম রায়
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৩ ০৯:৫২ এএম
আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৩ ০৯:৫২ এএম
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ফাইল ফটো
বিশ্বকাপ চলাকালীন দুইপক্ষের সমঝোতায় নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগে ছেদ ঘটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সম্পর্কে। ইউনাইটেড ছাড়ার ৩৯ দিন পর ১ জানুয়ারি সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে যোগ দেন।
নতুন ক্লাবে নাম লেখানোর ২১ দিন পর আজ রাতে সৌদি ক্লাবটির জার্সিতে প্রথম মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকবেন। রাত সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া ম্যাচে আল ইত্তেফাককে আতিথ্য দেবে আল নাসর। এর আগে অবশ্য ক্লাবটির জার্সিতে পিএসজির বিপক্ষে খেলেন। প্রীতি ম্যাচ হওয়ায় সেটাকে অভিষেক হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। এছাড়া পিএসজির প্রতিপক্ষ ছিল মূলত রিয়াদের দুই ক্লাব আল হিলাল ও আল নাসরের সম্মিলিত একাদশ।
আল নাসরের জার্সিতে অভিষেকের আগে স্পোর্টিং সিপিতে ক্যারিয়ার শুরু করা রোনালদো খেলেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্তাসের মতো ইউরোপ মাতানো ক্লাবগুলোতে। ক্লাবগুলোর হয়ে অভিষেক ম্যাচে কেমন ছিল রোনালদোর পারফরম্যান্স? প্রতিদিনের বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য রোনালদোর অভিষেকের সেই গল্প এই রিপোর্টে।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে রোনালদো স্পোর্টিং সিপির মূল দলের কোচ লাসজলো বোলোনির নজরে আসেন। ২০০১-০২ মৌসুমে স্পোর্টিং সিপির অনূর্ধ্ব-১৬, ১৭, ১৮ দলের সঙ্গে ‘বি’ দলের হয়ে খেলে মূল দলে জায়গা করে নেন। মাঠে নামার প্রথম সুযোগ আসে ২০০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পর্তুগিজ প্রিমিয়ার লিগে ব্রাহার বিপক্ষে। অভিষেক ম্যাচে গোল করেননি। অভিষেকের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ অক্টোবর মোরেইরেন্সের বিপক্ষে প্রথম গোল করেন। সেই ম্যাচে জোড়া গোল নিয়ে ফেরেন রোনালদো।
স্পোর্টিং সিপি থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়েও অভিষেক ম্যাচে গোলের দেখা পাননি রোনালদো। ২০০৩ সালের ১৬ আগস্ট বোল্টন ওয়ান্ডার্সের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে শেষ ৩০ মিনিটে মন জুড়ানো পারফরম্যান্সে তাকে ‘স্ট্যান্ডিং ওভিয়েশন’ দেন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে থাকা রেড ডেভিল সমর্থকরা। এমনকি রায়ান গিগসের জোড়া গোলের পরও ম্যাচসেরা ছিলেন রোনালদো। ইউনাইটেডের জার্সিতে প্রথম গোল পেতে ১৮ বছরের রোনালদোর অপেক্ষা ছিল ১ নভেম্বর পর্যন্ত। ওইদিন পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ফ্রি-কিকে দারুণ এক গোল করেন এই পর্তুগিজ তারকা।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে প্রথম অধ্যায় শেষে রোনালদোর ঠিকানা হয় স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে। গ্যালাক্টিকোসদের জার্সিতে নাম লিখিয়ে অভিষেক ম্যাচে পান গোলের দেখা। শুরুর পর পুরো সময়জুড়েই রিয়ালের অন্যতম কাণ্ডারি ছিলেন পর্তুগিজ তারকা। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দোপোর্তিভো লা করুণার বিপক্ষে খেলেন অভিষেক ম্যাচ। ওই ম্যাচে গ্যালাক্টিকোসদের ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পথে পেনাল্টি থেকে গোল করেন। রিয়ালের প্রথম ফুটবলার হয়ে প্রথম চার ম্যাচে গোলের দেখা পাওয়া ফুটবলার ছিলেন রোনালদো।
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের পর হুট করে রিয়াল ছেড়ে ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্তাসে নাম লেখান রোনালদো। সেখানে ১৮ আগস্ট শিয়েভা ভেরোনার বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে গোলের দেখা পাননি। মাসখানেক পর ১৬ সেপ্টেম্বর জুভেন্তাসের জার্সিতে প্রথম গোল করেন। সাসুলোর বিপক্ষে গোলের দেখা পান। এটা ছিল সব লিগ মিলিয়ে তার ৪০০তম গোল।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে শৈশবের ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরেন। ২০২১ সালে ইউনাইটেডে ফিরে শুরুটা করেছিলেন দুর্দান্তভাবে। ১১ সেপ্টেম্বর রেড ডেভিলদের জার্সিতে দ্বিতীয় দফায় মাঠে ফিরে জোড়া গোলে প্রত্যাবর্তন রাঙান। নিউক্যাসলের বিপক্ষে ম্যাচে দারুণ শুরু হলেও বিদায়টা ছিল বিতর্কিত। সেই বিতর্ক পেরিয়ে আবারও অভিষেকের অপেক্ষায় রোনালদো। এবার আল নাসরের জার্সিতে তার অভিষেক কেমন হয়, সেটাই দেখার অপেক্ষায় সবাই।