প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:৪৯ পিএম
আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:৩৯ পিএম
বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের জালে ভিনিউসের সেই গোল। অফসাইডের কারণে পরে সেই গোল বাতিল হয়। ছবি : সংগৃহীত
কাতার বিশ্বকাপে আলোচনার ঝড় তুলেছিল অফসাইড। সুইজারল্যান্ড-ব্রাজিল ম্যাচে রিচার্লিসন বলের ধারেকাছেও ছিলেন না। ভিনিসিউস বল পেয়েই গোলপোস্টে বল জড়িয়ে ফেলেন। ভিনি বল স্পর্শ করার আগেই রিচার্লিসন অফসাইডে চলে যাওয়ায় বাতিল হয় ওই গোল। ভিনি বল স্পর্শ করার পর রিচার্লিসন অফসাইডে থাকলে গোল বাতিল হতো না।
গত পরশু ম্যানচেস্টার ডার্বিতেও ঘটেছে একই ঘটনা। ফার্নান্দেজ বল জালে জড়ানোর সময় দৌড়ে সিটিজেনদের ডি-বক্সের সামনে দাঁড়ান রাশফোর্ড। সঙ্গে সঙ্গেই সহকারী রেফারি অফসাইড দিলেও ভিএআরে তা বাতিল হয়। ভিএআর গোল বহালের আগে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন ইউনাইটেডের খেলোয়াড়রা।
রেফারি কেন গোলের সিদ্ধান্তে ফিরলেন? এই প্রশ্নের জবাব আছে ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) নিয়মরীতিতে। একই দলের কোনো খেলোয়াড় বল স্পর্শ কিংবা ছাড়ার সময় চারটি সুনির্দিষ্ট নিয়মে হবে অফসাইড। ১) নির্দিষ্ট সেই খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের বল ধরতে বাধা ও দেখতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন, অথবা ২) প্রতিপক্ষকে বলের জন্য চ্যালেঞ্জ জানান, অথবা ৩) বল প্রতিপক্ষের খুব কাছে থাকা অবস্থায় তিনি সক্রিয়ভাবে খেলার চেষ্টা করেন, অথবা ৪) তার গতিবিধি প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের খেলায় প্রভাব ফেলে।
অফসাইডের কোনো নিয়মই ভঙ্গ করেননি মার্কাস রাশফোর্ড। সিটিজেনদের ডি-বক্সে জায়গা করে নিলেও বল স্পর্শ কিংবা প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জন্য ভীতিকর কোনো পরিস্থিতির তৈরি করেননি। বরং ফার্নান্দেজকে আটকাতেই ভুলে গিয়েছিল সিটিজেন ডিফেন্ডাররা। নিয়ম না ভাঙায় তাই ভিএআর রেফারি স্টুয়ার্ট অ্যাটওয়েল পুনর্বহাল করেন গোল। ম্যাচ শেষে একই কারণ দেখিয়ে গোল বহাল রাখার সিদ্ধান্তে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ। ম্যাচ শেষে ব্রডকাস্টারদের মাধ্যমে বিষয়টি জানায় তারা।
রেফারির সিদ্ধান্তের পর ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন সাবেক ফুটবলাররা। ইংলিশ কিংবদন্তি অ্যালান শিয়েরার তার টুইট বার্তায় লেখেন, ‘দলকে সমতায় ফেরাতে ব্রুনো ফার্নান্দেজকে দিয়ে গোল করিয়ে চতুর কাজ করেছেন রাশফোর্ড।’ বিপরীত সুরে সাবেক গোলরক্ষক পিওতর চেক বলেন, ‘যারা নিয়ম বানায়, তারা খেলাটাই বোঝেন না।’ ভিন্ন ভিন্ন সুরে সাবেক ফুটবলাররা কথা বললেও ম্যাচ শেষে দুই দলের কোনো কোচই তাদের মত জানাননি।
পরশু ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যাচের ৬০ মিনিটে জ্যাক গ্রিলিশের গোলে এগিয়ে যায় ম্যানচেস্টার সিটি। পরে ৭৮ মিনিটে ‘বিতর্কিত’ গোলে ইউনাইটেডকে সমতায় ফেরান ফার্নান্দেজ। মিনিট চারেক পর জয়সূচক গোল করেন মার্কাস রাশফোর্ড। ম্যানচেস্টার ডার্বি শেষে দুই দলের পয়েন্ট পার্থক্য দাঁড়িয়েছে ১ পয়েন্টে। সমান ১৮ ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ম্যানসিটি আর ৩৮ পয়েন্টে তিনে আছে ম্যানইউ।