প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:৪৯ এএম
আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:১৩ পিএম
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ছবি : প্রবা
এবারের বিপিএলে ডিআরএস নেই। তাই এডিআরএস। তার আগে ছোট করে জেনে নেই ডিআরএস জিনিষটা কী? ডিসিশন রিভিউ সিস্টেমের সংক্ষিপ্ত নাম ডিআরএস। মাঠে আম্পায়ারের কোনো সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ হলে ক্রিকেটাররা থার্ড আম্পায়ারের কাছে নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিআরএস চাইতেই পারেন। তবে এবারের বিপিএলে ডিআরএস রাখা হয়নি। রাখা হয়েছে অল্টারনেটিভ রিভিউ সিস্টেম বা এডিআরএস। আর এই এডিআরএস নিয়ে এবারের বিপিএলের সেই শুরুর ম্যাচ থেকেই চলছে নানা বিতর্ক। এডিআরএস অনুযায়ী সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন আম্পায়াররা।
কিন্তু খালি চোখে সেই সিদ্ধান্তকে বড় ভুল মনে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে মূলত এলবিডব্লিউ আউটকে ঘিরে। এডিআরএস এখন চলতি বিপিএলে মূলত বিষফোঁড়ায় রূপ নিয়েছে। চারধারের যা পরিস্থিতি তাতে এটি এখন অল্টারনেটিভ রিভিউ সিস্টেম না বরং অ্যাডিশনাল সমস্যায় পরিণত হয়েছে!
খুলনা টাইগার্সের পাকিস্তানি পেসার ওয়াহাব রিয়াজও কাল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাবার্তায় জানিয়ে দিলেন, এই রিভিউ সিস্টেম আসলে ভীষণ কনফিউজিং। এটি না থাকাই উত্তম। শনিবার রাতের ম্যাচে হারের পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ সালাউদ্দিন আহমেদও জানান, এডিআরএস থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।
এডিআরএস তো হঠাৎ করে উড়ে এসে বসেনি। বিপিএল শুরুর আগে এই রিভিউ সিস্টেম মেনে নিয়েই টুর্নামেন্টে খেলতে নামে সবগুলো দল। অল্টারনেটিভ রিভিউ সিস্টেম বা এডিআরএস ঠিক কীভাবে কাজ করে এবং বলের পিচিং, লাইন ও গতিপথ এই সিস্টেমে কীভাবে স্থির হয়- সেই নিয়মকানুনগুলো প্লেয়িং কন্ডিশনে পরিষ্কারভাবে লেখাই আছে। সমস্যা হলো পরিমার্জিত ও পরিবর্তিত সেই নিয়মগুলো বিপিএলে অংশ নেওয়া দলগুলোর কেউ পড়ে দেখার সময়ই পাননি!
না পড়েই সেই নিয়মকানুনের নিচে সই করে বিপিএলে খেলতে নেমে পড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। এখন টুর্নামেন্ট শুরুর পর তারা সেই না পড়া, না জানা নিয়মকানুনের সমালোচনা করছেন। এই রিভিউ সিস্টেম বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন।
এই প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ‘আমি ভেবে অবাক হচ্ছি তারা এসব বিষয় বিপিএল শুরুর আগে কেন তুলে ধরেননি। এখন এতগুলো ম্যাচ হওয়ার পর সেই নিয়ম বাতিলের দাবি তুলছেন। তাও আবার শুধু মিডিয়ার সামনে গলা চড়াচ্ছেন। কই তাদের কেউ আমাদের কাছে এসে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত একটা শব্দও তো বললেন না! তারা যদি এটা নাই-ই চান, তাহলে আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যদি বলে এডিআরএস না থাকা ভালো, তাহলে ফাইন। আমরা তেমন কিছুই সিদ্ধান্ত নেব। আম্পায়াররা এডিআরএসে যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন সেটা তো তারা নিয়ম অনুযায়ীই নিচ্ছেন। তারা তো আর নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। অথচ সেটা না জেনে না বুঝে খামোকা অনেকেই চেঁচামেচি করছেন। তাতে খেলার মাঠের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এমন না যে এডিআরএস এবারই প্রথম এসেছে। এই সিস্টেম তো গত বিপিএলেও ছিল। আর এই নিয়ম তো আমরা টেবিলে বসে বানাইনি। এডিআরএস পদ্ধতির সঙ্গেই রয়েছে এই নিয়মগুলো। এই নিয়মগুলো না মানলে আপনি এডিআরএস পদ্ধতি পরিচালনাই করতে পারবেন না। বিষয়টা হলো আপনি এডিআরএস রাখতে চাইলে এই নিয়মের মধ্যেই থাকতে হবে। আর যদি নিয়মের মধ্যে থাকতে না চান তাহলে এডিআরএস বাতিল করতে দেন। এবং অবশ্যই সেটা তাদের টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আমাদের জানানো উচিত ছিল। এখন এই সময়ে এসে এসব নাটক করার কোনো মানে হয় না। তারা তো এসব কথা বলে এখন মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।’
ডিআরএস যে এবার বিপিএলে পাওয়া যাবে না সেটা জেনেই সূচি সাজিয়েছে বিসিবি। পাপন সেই প্রসঙ্গে বলছিলেন, ‘ডিআরএস তো গত বছরের বিপিএলেও ছিল না। সেবারও এডিআরএস দিয়েই কাজ চালানো হয়েছিল। কই তখন তো কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি এটা নিয়ে কিছু বলেননি। কেউ তো কোনো অবজেকশনও দেননি। তারা যদি এখন এটা না চান, তাহলে সেটা প্রপার চ্যানেলে এসে আমাদেরকে জানাতে হবে। এখনও যদি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বলে আমরা এটা চাই না, তাহলে আমরা এডিআরএস বন্ধ করে দেব। সমস্যা হলো তাদের অনেকে টিভিতে বলে এডিআরএস ভালো না। কিন্তু আমি যদি এখন তাদের ডাকি, তখন তারা বলবে না, এডিআরএস ঠিক আছে! এটাই তো বড় সমস্যা!’