ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে লামিনে ইয়ামাল এবং কিলিয়ান এমবাপে। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কিলিয়ান এমবাপে যখন ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে শিরোপা জেতানোর নায়ক! তখন লামিনে ইয়ামালের বয়স মাত্র ১১ বছর। আট বছরের মাথায় সেই ইয়ামালই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ তারকাদের একজন। বিশ্ব ফুটবলে দুই প্রজন্মের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র কিলিয়ান এমবাপে আর লামিনে ইয়ামাল।
একজন বিশ্বকাপজয়ী, অন্যজনকে বলা হচ্ছে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় তারকা। এবার ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে তাদের দল ফ্রান্স ও স্পেন। সেই সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলও অপেক্ষা করছে এমবাপে-ইয়ামাল দ্বৈরথের আরেকটি নতুন অধ্যায়ের। আজ যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত হবে এই সেমিফাইনাল। বিশ্বকাপে এই প্রথম একে অপরের বিপক্ষে খেলবেন এমবাপে ও ইয়ামাল। তবে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এর আগে ১০ বার দেখা হয়েছে দুজনের। সেই লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এগিয়ে রয়েছেন স্পেনের তরুণ উইঙ্গার ইয়ামাল। ১০ ম্যাচের মধ্যে ৮টিতেই জয় পেয়েছেন তিনি। জাতীয় দলের জার্সিতে দুজনের প্রথম দেখা হয়েছিল ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে। মিউনিখে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ২-১ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে স্পেন। ম্যাচটিতে ইয়ামালের দূরপাল্লার দুর্দান্ত গোল ছিল অন্যতম আকর্ষণ। সেই গোলই তাকে ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত তরুণদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এর এক বছর পর উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালেও আবার মুখোমুখি হয় দুই দল। জার্মানির স্টুটগার্টে ৯ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৫-৪ ব্যবধানে জয় পায় স্পেন। ইয়ামাল করেন দুটি গোল, এমবাপেও গোল করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় উদযাপন করে স্পেনই।
দুজনের প্রথম ক্লাব-পর্যায়ের লড়াই হয়েছিল ২০২৪ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে। প্রথম লেগে বার্সেলোনা প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে ৩-২ গোলে হারালেও দ্বিতীয় লেগে জোড়া গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তোলেন এমবাপে। সেটিই ছিল ইয়ামালের বিপক্ষে তার সবচেয়ে স্মরণীয় পারফরম্যান্স। ২০২৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর এমবাপে ও ইয়ামালের দ্বৈরথ নতুন মাত্রা পায়। এল ক্লাসিকোয় তারা ছয়বার মুখোমুখি হয়েছেন। এই সময়ে স্প্যানিশ সুপার কাপের দুটি ফাইনাল এবং কোপা দেল রের ফাইনালে জয় পেয়েছে ইয়ামালের বার্সেলোনা। যদিও ২০২৫ সালের অক্টোবরে লা লিগায় বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রথম জয় তুলে নেন এমবাপে। সেই ম্যাচেও গোল করেছিলেন তিনি। মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলাফলে ইয়ামাল এগিয়ে থাকলেও গোলসংখ্যায় এগিয়ে এমবাপে। এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচে ফরাসি ফরোয়ার্ডের গোল ৯টি, আর ইয়ামালের ৬টি। অর্থাৎ ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রে ইয়ামাল সফল হলেও ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে এমবাপেও কম যান না। বিশ্বকাপে দুজনের গল্প অবশ্য ভিন্ন। ২০১৮ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন এমবাপে। সাত ম্যাচে চার গোল করে টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি। অন্যদিকে ইয়ামাল খেলছেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ। ১৮ বছর বয়সেই ছয়টি ম্যাচ খেলে নতুন নজির গড়েছেন স্পেনের এই উইঙ্গার। এখন পর্যন্ত তার গোল একটি হলেও পারফরম্যান্সে তিনি দলের অন্যতম ভরসার নাম। গোল নিয়ে অবশ্য খুব বেশি ভাবছেন না ইয়ামাল। বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে তিনি বলেছিলেন, ‘ইউরো ২০২৪-এ একটি গোল করেই শিরোপা জিতেছিলাম। এবারও যদি বিশ্বকাপ জিততে পারি, তাহলে কত গোল করেছি, সেটা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ হবে না।’ অন্যদিকে এমবাপের সামনে সুযোগ রয়েছে ফ্রান্সকে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলার। একই সঙ্গে ইয়ামালের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ের ব্যবধানও কমিয়ে আনার সুযোগ থাকবে তার সামনে। ডালাসের এই সেমিফাইনাল তাই শুধু দুটি দলের ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়। এটি বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা দুই ফুটবলারের শ্রেষ্ঠত্বের আরেকটি পরীক্ষা। একদিকে বিশ্বকাপজয়ী এমবাপের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ইয়ামালের তরুণ উদ্যম। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ তাই থাকবে এই দুই তারকার দিকেই। কারণ ম্যাচের ফল যাই হোক, এমবাপে-ইয়ামাল দ্বৈরথ বিশ্ব ফুটবলে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় রচিত হচ্ছে।