ভিএআর ফুটেজ পর্যালোচনা করছেন রেফারি। ছবি: ফিফা
নানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ থেকে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সেরা চার দল। তবে চলতি বিশ্বকাপে মাঠের ফুটবলের চেয়ে কম আলোচিত নয় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)।
টুর্নামেন্টজুড়ে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গোল বাতিল, অফসাইডের ব্যাখ্যা, পেনাল্টি বা ফাউলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সবশেষ নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের বিদায়ের পর ভিএআর বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। অনেকের কাছেই এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ভিএআর।
কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নরওয়ের ম্যাচেও তৈরি হয় বিতর্ক। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নরওয়ে বল জালে জড়ালেও ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করেন ম্যাচ কর্মকর্তারা। সিদ্ধান্তটি মেনে নিতে পারেননি নরওয়ের খেলোয়াড়, কোচ কিংবা সমর্থকরা।
তাদের দাবি, ম্যাচের গতি ও মানসিকতায় বড় প্রভাব ফেলেছে ওই সিদ্ধান্ত। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় আর্লিং হলান্ডের দল। বিশ্বকাপের স্বপ্নও থেমে যায় সেই ম্যাচেই।
আগে কখনোই নকআউট পর্বে কোনো জয় না পাওয়া নরওয়ে এবার ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়। এই দলটিই আসরের শুরু থেকে দারুণ সব পারফরম্যান্সে চমকে দেয় সবাইকে।
গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে ওঠে শেষ বত্রিশে তারা হারায় আইভরি কোস্টকে। ইউরোপের দলটি এরপর বিদায় করে দেয় রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে।
নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে নেমে, ইংল্যান্ডেরও চোখে চোখ রেখে লড়াই করে নরওয়ে। ম্যাচের শুরুর দিকে চিত্র অবশ্য ভিন্ন ছিল। বল দখলে রাখা ও আক্রমণ, দুইভাবেই শুরু থেকে চাপ তৈরি করে ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেও, তাদের গোলরক্ষককে অবশ্য তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারছিল না তারা।
এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালেও নতুন করে আলোচনায় আসে ভিএআর। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সুইজারল্যান্ডের কোচ ভিএআরের কিছু নিয়মকে ‘অগ্রহণযোগ্য’বলে মন্তব্য করেন।
তার অভিযোগ, প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে আপত্তি নেই, কিন্তু নিয়মের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগে ধারাবাহিকতা না থাকায় খেলার স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হচ্ছে। একই ধরনের ঘটনায় এক ম্যাচে এক রকম, অন্য ম্যাচে ভিন্ন সিদ্ধান্ত এটিই সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বলে জানান তিনি।
এর আগে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচেও ভিএআর নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রেফারির সিদ্ধান্ত বদলে যায় ভিডিও পর্যালোচনার পর। বিশেষ করে ফাউল এবং আক্রমণভাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে মিসরীয় শিবির অসন্তোষ প্রকাশ করে।
সামাজিক মাধ্যমেও সেই ম্যাচের একাধিক ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ভক্তরা সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শুধু নকআউট পর্বই নয়, গ্রুপপর্বেও ভিএআর একাধিকবার আলোচনায় এসেছে।
আধা-স্বয়ংক্রিয় অফসাইড প্রযুক্তির মাধ্যমে মিলিমিটারের ব্যবধানে গোল বাতিল, হ্যান্ডবলের ব্যাখ্যা এবং পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন ম্যাচে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অনেক সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকের মতে, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, নিয়মের ব্যাখ্যায় অসঙ্গতি থাকলে বিতর্ক থামানো সম্ভব নয়। তবে ফিফা শুরু থেকেই ভিএআরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
সংস্থাটির দাবি, প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে মানবিক ভুল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আরও নির্ভুল হয়েছে। যদিও প্রতিটি সিদ্ধান্ত সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না, তবুও নির্ধারিত নিয়ম অনুসারেই ভিএআর পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।