নিয়ম অনুযায়ী লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়তে বলা হয় সুইস স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলোকে। ছবি: বিবিসি
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ড।
ম্যাচে সমতা ফেরানোর কিছুক্ষণ পর ‘সিমুলেশন’ বা ইচ্ছাকৃতভাবে পড়ে যাওয়ার অভিযোগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এমবোলোকে। ভিএআরের সহায়তায় পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরোর এই সিদ্ধান্তের পর ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের গতিপথও বদলে দেয়।
ম্যাচের ৭২তম মিনিটে আর্জেন্টিনার অর্ধের বাঁ দিকের মাঝামাঝি এলাকায় এমবোলোর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান লিয়ান্দ্রো পারেদেস। প্রথমে ঘটনাটিকে ফাউল হিসেবে ধরে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। কিন্তু খেলা শুরুর আগে ভিএআরের পরামর্শে মাঠের পাশের মনিটরে গিয়ে পুরো ঘটনাটি আবার পর্যালোচনা করেন তিনি।
রিভিউ শেষে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। দেখা যায়, পারেদেসের ফাউলের পরিবর্তে এমবোলো নিজেই ইচ্ছাকৃতভাবে পড়ে গিয়ে রেফারিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। ফলে পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করা হয় এবং ‘সিমুলেশন’এর দায়ে এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
এর আগে একটি হলুদ কার্ড থাকায় সেটিই তার দ্বিতীয় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়ায়। নিয়ম অনুযায়ী সঙ্গে সঙ্গে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়তে বলা হয় সুইস স্ট্রাইকারকে। মাঠ ছাড়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এমবোলো।
রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচের পরপরই আলোচনা শুরু হলেও ফুটবল বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশের মতে, বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।
এবারের বিশ্বকাপে ফিফা কার্যকর করেছে ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি রুল’, যার মাধ্যমে ভিএআরের সাহায্যে রেফারি ভুল খেলোয়াড়কে দেখানো হলুদ বা লাল কার্ড সংশোধন করতে পারেন। কোনো খেলোয়াড়কে ভুলবশত শাস্তি দেওয়া হলে তা বাতিল করে প্রকৃত অপরাধীকে কার্ড দেখানোর সুযোগ রয়েছে এই নিয়মে।
এই আইনই এমবোলোর ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। যদি প্রথমেই পারেদেসকে হলুদ কার্ড না দেখানো হতো, তাহলে রেফারি চাইলে এমবোলোকে মৌখিকভাবে সতর্ক করেও ছেড়ে দিতে পারতেন। কিন্তু ভুল পরিচয়ের ভিত্তিতে দেওয়া কার্ড সংশোধনের পর প্রকৃত অপরাধী হিসেবে এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেখানো বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। আর সেটিই তার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড হওয়ায় লাল কার্ড এড়ানোর সুযোগ থাকেনি।