ফ্রান্স-স্পেন দ্বৈরথ
নেশন্স লীগে লামিন ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপে। ছবি: রয়টার্স
গত দুইবারের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স সবার আগে টিকিট কেটেছে সেমিফাইনালের। শুক্রবার রাতে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্সকে পেয়েছে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
ফ্রান্স এবং স্পেন দুই দেশই বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার, এবারের আসর শুরুর আগে থেকেই এমনটা বলে আসছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
তবে ইউরোপের এই দুই মহাশক্তিধর দেশের ফাইনালে নয়, দেখা হচ্ছে সেমিফাইনালেই। মঙ্গলবার ডালাসে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে চলতি আসরের বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচটি।
গোলমেশিন কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমির লড়াইয়ের আগে আলোচনার কেন্দ্রে সুপার সাব মিকেল মেরিনো। এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সুপার সাব না সুপার ঘাতকÑ এটাই এখন সবার মুখে।
ফুটবল সেনসেশন পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচটা যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই যেন বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচটা শুরু করেন মেরিনো।
বদলি নেমে শেষ মুহূর্তের গোলে পর্তুগালকে বিদায় করে স্পেনকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন মেরিনো।
শেষ আটের লড়াইয়ে বেলজিয়ামকেও একইভাবে শেষ মুহূর্তে বদলি নেমে বিদায়ঘণ্টা বাজালেন মেরিনো।
ম্যাচের ৮৮ মিনিটে তার গোলেই সর্বনাশটা হয় বেলজিয়ামের। এর মধ্য দিয়ে ১৬ বছর পর আরও সেমিফাইনালের ছাড়পত্র পেয়েছে স্পেন।
এদিন ম্যাচের ৭২ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়া কোর্তোয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন লামেন্স। এই সেই লামেন্সই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে করেছেন বড় ভুল, যা কাজে লাগিয়েছেন মেরিনো।
বিষয়টি অবশ্য স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের জন্য নতুন কিছু নয়। এই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শেষ দিকে জয়সূচক গোল করলেন।
এর আগে শুরু থেকে স্পেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল ম্যাচ। সুযোগ পেলে বেলজিয়ামও চেষ্টা চালায় আক্রমণ গড়ার। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচটি।
৩০ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে দানি ওলমোর প্রচেষ্টা রুখে দেন বেলজিয়াম গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া, ফিরতি শটে বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন ফাবিয়ান রুইজ।
পিছিয়ে পড়ে গোল পরিশোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪১ মিনিটে গোল পরিশোধ করে দলটি।
টিমোথি কাস্তানিয়ের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে লক্ষ্যভেদ করেন চার্লস ডি কেটেলারার। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপে টানা ৬০০ মিনিটের বেশি সময় গোল না খাওয়া স্পেন অবশেষে গোল খাওয়ার স্বাদ পায়।
সমতা ফেরালেও ম্যাচে স্পেনের সঙ্গে গতি, আক্রমণ ও সুযোগ তৈরিতে পেরে ওঠেনি বেলজিয়াম।
স্পেনের কাছে হেরে বিদায়ের মধ্য দিয়ে বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের শেষ তিন প্রতিনিধিরও বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন থেমে গেল।
২০৩০ সালে ৩৭ বছর বয়সী রোমেলু লুকাকু, ৩৮ বছর বয়সী থিবো কোর্তোয়া এবং ৩৯ বছর বয়সী কেভিন ডি ব্রুইনার বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে সবচেয়ে সফল বলা হচ্ছে।
এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও দেজিরে দুয়ের সমন্বয়ে গড়া আক্রমণভাগ যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই বড় হুমকি। তবে এই ভয়ংকর আক্রমণভাগকে যদি কোনো দল আটকাতে পারে, তাহলে সেটি সম্ভবত স্পেন।
বেলজিয়ামের চার্লস ডি কেটেলারার গোলের আগে পুরো টুর্নামেন্টে একটিও গোল হজম করেনি স্পেন। কেপ ভার্দে, সৌদি আরব, উরুগুয়ে, অস্ট্রিয়া ও পর্তুগালের বিপক্ষে টানা পাঁচটি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছিল তারা।
এসব আলোচনার মাঝেই স্প্যানিশ ভক্তদের অভয় দিলেন দলটির প্রাণভোমরা লামিনে ইয়ামাল। সেমিফাইনালে উঠেই ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইয়ামাল।
তার দাবি, কিলিয়ান এমবাপেদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং ফ্রান্সেরই উচিত তাদের সমীহ করা।
সেমিফাইনালে চাপে থাকবে এমবাপের দল মনে করছেন ১৮ বছরের এই স্ট্রাইকার।
বলেছেন, “আমরা সত্যিই খুব উত্তেজিত। বিশ্বকাপ শুরুর সময়েই আমরা এই ম্যাচটা খেলার আশায় ছিলাম। আমার মতে, প্রতিযোগিতার সেরা দুটো দল মুখোমুখি হতে চলেছে।”
যোগ করেন, “এমন একটা দলের বিরুদ্ধে খেলা পড়েছে, যারা নিশ্চিতভাবে আমাদের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করবে। তবে গোটা ম্যাচ চাপে রাখতে পারবে না। ফ্রান্স যদি কোনো দলকে সমীহ করে, সেটা আমরাই। কারণ আমরাই ওদের আগের প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে দিয়েছিলাম।”
২০২৪ সালের ইউরোর সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তাদের ২-১ ব্যবধানে জয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন ইয়ামাল। যখন তার বয়স ছিল মোটে ১৬।