থিবো কোর্তোয়া। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে শুক্রবার মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উজ্জীবিত বেলজিয়াম।
লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়। রোনালদোর পর্তুগালকে বিদায় করে শেষ আটে ওঠা স্পেন যেমন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন দেখছে, তেমনি শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য বেলজিয়ামের।
চলতি বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। গ্রুপ পর্বে মিসর ও ইরানের বিপক্ষে টানা দুটি ড্রয়ের পর বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে যায় দলটি। তবে শেষ গ্রুপ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় তারা। এরপর নকআউট পর্বে সেনেগালের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় বেলজিয়াম। শেষ ষোলোয় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয় থিবো কোর্তোয়াদের দল। দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোর্তোয়া মনে করেন, এখন স্পেনকে হারানোর বিশ্বাসও তৈরি হয়েছে বেলজিয়ান শিবিরে। তার ভাষায়, দলের স্কোয়াড যথেষ্ট শক্তিশালী এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের চমকে দেওয়ার সামর্থ্য তাদের রয়েছে। কোর্তোয়া বলেন, ‘সব বড় প্রতিযোগিতাতেই অঘটন ঘটে। চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগ কিংবা বিশ্বকাপÑ প্রতিটি টুর্নামেন্টেই চমক থাকে। এবার সেই চমক দেওয়া দলগুলোর একটি হতে চাই আমরা। স্পেনকে হারাতে পারলে সেটি অবশ্যই বড় অর্জন হবে।’ তবে স্পেনকে ফেভারিট হিসেবেই দেখছেন বেলজিয়ান এই গোলরক্ষক। তিনি স্বীকার করেন, বলের দখল ধরে রাখা এবং বল হারানোর পর দ্রুত প্রেসিং করার ক্ষেত্রে স্পেন বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তবে রক্ষণভাগের পেছনের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগাতে পারলে বেলজিয়ামের সুযোগ থাকবে বলেও বিশ্বাস তার।
কোর্তোয়ার ভাষায়, ‘মানুষ আমাদের নিয়ে হতাশ ছিল। কিন্তু আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের ভুল শুধরে নিয়েছি। প্রতিটি ম্যাচে আমাদের পারফরম্যান্স আরও উন্নত হচ্ছে। অবশ্যই স্পেন ফেভারিট, কিন্তু তাদের বিপক্ষেও সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।’ অন্যদিকে স্পেনও কোয়ার্টার ফাইনালে সহজ পথ পাড়ি দেয়নি। শেষ ষোলোয় পর্তুগালের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত করে লা রোজা। ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলা স্পেন এবার প্রতিটি ম্যাচকেই ফাইনালের মতো গুরুত্ব দিচ্ছে।
স্পেনের মিডফিল্ডার দানি অলমো ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ম্যাচ ফাইনাল হিসেবেই দেখি। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে সব সময় আমাদের এভাবেই প্রস্তুত করেন। আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হলো সামনে যে ম্যাচটি।’ আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেনের টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড নিয়ে অলমো বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য রেকর্ড ধরে রাখা নয়, বরং বিশ্বকাপ জিতে জার্সিতে দ্বিতীয় তারকা যোগ করা। তিনি বলেন, ‘আমাদের আসল লক্ষ্য পুরো টুর্নামেন্ট জেতা এবং দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা অর্জন করা।’ স্পেনের বড় ভরসা ১৮ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল। ইনজুরি নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও ধীরে ধীরে নিজের ছন্দে ফিরছেন বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড। সৌদি আরবের বিপক্ষে গোল করার পর পর্তুগালের বিপক্ষেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন তিনি। ইয়ামালকে নিয়ে অলমো বলেন, ‘সে প্রতিদিন আরও আত্মবিশ্বাসী হচ্ছে। নিজেকে প্রমাণ করতে চায় এবং আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মাঠে বল থাকুক বা না থাকুক, আমরা একে অপরকে খুব ভালোভাবে বুঝতে পারি।’ অন্যদিকে কোর্তোয়াও ইয়ামালকে নিয়ে সতর্ক। তার মতে, একের বিপরীতে এক পরিস্থিতিতে এই তরুণ উইঙ্গার অত্যন্ত ভয়ংকর এবং মুহূর্তেই ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারেন। স্প্যানিশ ফুটবলের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন কোর্তোয়া। আতলেতিকো মাদ্রিদ ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে প্রায় ১১ বছর খেলা এই গোলরক্ষক স্পেনকে নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বলে উল্লেখ করলেও জানিয়েছেন, মাঠে নামার পর তার একমাত্র পরিচয় একজন বেলজিয়ান ফুটবলার। বিশ্বকাপের এই হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে অভিজ্ঞতা, ফর্ম ও পরিসংখ্যান স্পেনকে এগিয়ে রাখলেও আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত বেলজিয়াম যে বড় চমক দেখানোর স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামছে, তা কোর্তোয়াদের বক্তব্যেই স্পষ্ট। এখন অপেক্ষা, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের অভিযান অব্যাহত থাকে নাকি বেলজিয়াম লিখে নতুন এক বিশ্বকাপ রূপকথা।