কোয়ার্টার-ফাইনাল
আর্নিং হালান্ড। ছবি: রয়টার্স
২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে শনিবার রাতে মিয়ামিতে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল ইংল্যান্ড ও নরওয়ে।
একদিকে সেমিফাইনালে ফেরার স্বপ্নে বিভোর ইংলিশরা, অন্যদিকে ব্রাজিলকে বিদায় করে ইতিহাস গড়া নরওয়ে।
হালান্ড–কেইনের গোলযুদ্ধ, মাঝমাঠের দখল, রক্ষণভাগের লড়াই এবং মিয়ামির তীব্র গরম, সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে যাচ্ছে এটি।
ব্রাজিলকে হারিয়ে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফিরে আসা নরওয়ে ইতোমধ্যে টানা দুই নকআউট ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়েছে। তবে এবার তাদের সামনে অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ডের কঠিন চ্যালেঞ্জ।

ইংলিশরা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে যেমন মরিয়া, তেমনি অষ্টমবারের মতো কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায় এড়ানোর লক্ষ্যও তাদের সামনে।
ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে আর্লিং হালান্ড ও হ্যারি কেনের গোলযুদ্ধ।
চার ম্যাচে সাত গোল করে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন হালান্ড। টানা ১৪ আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করে তিনি দেশের হয়ে ৫৪ ম্যাচে ৬২ গোলের মালিক।
অন্যদিকে কেনও ছয় গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সমানতালে রয়েছেন।
প্রিমিয়ার লিগে বহুবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা এই দুই স্ট্রাইকারের মুখোমুখি লড়াই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
হালান্ডকে থামানোর দায়িত্ব পড়তে পারে ইংল্যান্ডের লম্বা ডিফেন্ডার ড্যান বার্নের কাঁধে।
নিউক্যাসল তারকা ক্লাব ফুটবলে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারকে বেশ কয়েকবার সফলভাবে আটকে রেখেছেন।
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে বার্নের বিপক্ষে আট ম্যাচে হালান্ড মাত্র একবার গোল করেছেন, যা ইংল্যান্ডকে কিছুটা আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
মাঝমাঠেও অপেক্ষা করছে দারুণ এক লড়াই।
নরওয়ের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ব্রাজিলের বিপক্ষে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে দলের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
তার বিপরীতে থাকবেন আর্সেনালে দীর্ঘদিনের সতীর্থ ডেকলান রাইস।
একে অপরের খেলার ধরন সম্পর্কে দুজনেরই ভালো ধারণা থাকায় এই দ্বৈরথ ম্যাচের অন্যতম নির্ধারক হতে পারে।
রক্ষণভাগের ডান পাশে ইংল্যান্ডের জন্য বড় প্রশ্ন রিস জেমসের ফিটনেস।
তিনি খেলতে না পারলে নরওয়ের দ্রুতগতির উইঙ্গার আন্তোনিও নুসা কিংবা বদলি হিসেবে দারুণ ছন্দে থাকা আন্দ্রেয়াস শেলডেরুপ সেই দিক দিয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারেন।
ব্রাজিলের বিপক্ষে শেলডেরুপের নৈপুণ্যই নরওয়ের আক্রমণে নতুন গতি এনে দিয়েছিল।
মিয়ামির আবহাওয়াও ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। প্রায় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও উচ্চ আর্দ্রতার মধ্যে খেলতে হবে দুই দলকে।
নরওয়ে টুর্নামেন্টে এমন পরিবেশে কয়েকটি ম্যাচ খেলায় কিছুটা অভ্যস্ত হলেও ইংল্যান্ডকে তুলনামূলক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।
সব মিলিয়ে হালান্ড-কেইনের গোলযুদ্ধ, ওডেগার্ড–রাইসের মাঝমাঠের লড়াই, রক্ষণভাগের কৌশল এবং মিয়ামির কঠিন আবহাওয়া; এই চার উপাদানই নির্ধারণ করতে পারে কে উঠবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে।
বিশ্বের অন্যতম এই সেরা দুই স্ট্রাইকারের মুখোমুখি এই লড়াই তাই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে এক উপভোগ্য মহারণ।