প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
আর্লিং হালান্ড। ছবি: গেটিইমেইজ
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সাবেক চ্যাম্পিয়নস ইংল্যান্ডের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের নাম আর্লিং হালান্ড। ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে ওঠার পথে নরওয়ের এই গোলমেশিনকে বাধা মনে করছেন ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার মর্গান রজার্স। তার মতে, হালান্ডকে পুরোপুরি থামানো হয়তো সম্ভব নয়, তবে তার কাছে বল পৌঁছানোর পথ বন্ধ করে দিতে পারলেই সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
মায়ামিতে শনিবার কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা হালান্ড ইতোমধ্যে সাত গোল করে নরওয়েকে শেষ আটে তুলেছেন। শেষ ষোলোতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করার ম্যাচেও তার উপস্থিতিই ছিল নরওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি।
হালান্ডের এই ধারাবাহিকতা অবশ্য নতুন কিছু নয়। ক্লাব ফুটবলেও দুর্দান্ত
মৌসুম কাটিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার। প্রিমিয়ার লিগে ৩৫ ম্যাচে ২৭ গোল
করে চার মৌসুমে তৃতীয়বারের মতো জিতেছেন গোল্ডেন বুট।
এমন এক প্রতিপক্ষ নিয়ে রজার্সের মূল্যায়ন, ‘বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার
সে। মাঠে থাকলে যেকোনো কিছু ঘটাতে পারে। হালান্ড দুই গোল করে ম্যাচ জিতিয়ে দেবেÑ এতে
অবাক হওয়ার কিছু নেই। ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় সে বারবার সেটাই করে এসেছে।’
হালান্ডকে থামানোর উপায় কীÑ এমন প্রশ্নের উত্তরে অ্যাস্টন ভিলার এই
মিডফিল্ডার বলেন, ‘আসলে কেউ কি কখনও আর্লিং হালান্ডকে পুরোপুরি থামাতে পেরেছে? আমার
তো মনে হয় না। তবুও আমাদের চেষ্টা করতে হবে। সে অসাধারণ একজন ফুটবলার। মাঠে যা করে,
যে পরিসংখ্যান গড়ে, তা সত্যিই বিস্ময়কর।’
তবে রজার্স মনে করেন, শুধু হালান্ডকে ঘিরে পরিকল্পনা করলেই হবে না।
নরওয়ে দল হিসেবেও যথেষ্ট শক্তিশালী। তিনি বলেন, ‘ওরা শুধু হালান্ডনির্ভর দল নয়। প্রিমিয়ার
লিগে আমরা যাদের বিপক্ষে নিয়মিত খেলি, এমন আরও ভালো ফুটবলার তাদের দলে আছে। দল হিসেবে
তারা খুবই সংগঠিত। আমার মনে হয়, এটাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’
হালান্ডকে মোকাবিলার অভিজ্ঞতাও আছে রজার্সের। অ্যাস্টন ভিলার হয়ে
গত কয়েকটি ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটিকে তিনবার হারিয়েছেন তিনি। সেই তিন ম্যাচেই গোল
করতে পারেননি হালান্ড।
তবে সেই সাফল্যে আত্মতুষ্ট নন রজার্স। তার মতে, ‘প্রতিটি ম্যাচই আলাদা।
হালান্ড এমন একজন খেলোয়াড়, যে মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। তাই পুরো
সময় মনোযোগী থাকতে হবে। সে কী ধরনের দৌড় দেয়, বক্সে কোথায় অবস্থান নেয়Ñ সব সময় সেদিকে
নজর রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু একজন ডিফেন্ডার দিয়ে হালান্ডকে থামানো সম্ভব
নয়। এটা পুরো দলের কাজ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তার কাছে যেন সহজে বল পৌঁছতে না পারে।
নরওয়ে কীভাবে সুযোগ তৈরি করে, সেটি বিশ্লেষণ করে সেই পথগুলো বন্ধ করতে হবে। কারণ, এমন
একজন স্ট্রাইকারকে আটকে রাখা খুবই কঠিন, আর খুব কম দলই সেটা করতে পেরেছে।’