প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
পেদ্রো নেটো এবং তার ডান বুটের হিলে একটি বড় ছিদ্র। ছবি: এএফপি
বিশ্বকাপের ম্যাচে পর্তুগালের উইঙ্গার পেদ্রো নেতোর পায়ে অদ্ভুত এক জুতো দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন অনেকেই। গোড়ালির ঠিক পেছনের অংশ কাটা সেই জুতো দেখে অনেকেরই মনে হয়েছিল, হয়তো খেলার সময় জুতোটি ছিঁড়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। জুতোটি ছেঁড়া নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবেই কেটে নেওয়া হয়েছিল। এর পেছনে আছে একটি বিশেষ শারীরিক সমস্যা। নাম- হাগলান্ডস ডিফরমিটি।
পেদ্রো নেটোই একমাত্র নন। অতীতে ব্রাজিলের ফিলিপে কুটিনহো ও রবার্তো ফির্মিনো, জার্মানির ম্যাটস হামেলস এবং ইতালির কিংবদন্তি মিডফিল্ডার দানিয়েলে দে রসিকেও একই ধরনের কাটা জুতো পরে খেলতে দেখা গেছে। তাদের সবার লক্ষ্য একটাইÑ গোড়ালির ব্যথা কমিয়ে স্বাভাবিকভাবে খেলতে পারা।
হাগলান্ডস ডিফরমিটি হলো গোড়ালির পেছনের হাড় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি শারীরিক সমস্যা। ওই হাড়ের খুব কাছ দিয়েই থাকে মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টেন্ডন-আকিলিস টেন্ডন। ফুটবলারদের দৌড়, লাফ ও দিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এই টেন্ডনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে অতিরিক্ত চাপ বা আঘাত গুরুতর চোটের কারণ হতে পারে, এমনকি অনেকের ক্যারিয়ারও শেষ হয়ে যেতে পারে।
১৯২৭ সালে সুইডিশ অর্থোপেডিক চিকিৎসক প্যাট্রিক হাগলান্ড প্রথম এই সমস্যার বর্ণনা দেন। পরে তার নাম অনুসারেই রোগটির নামকরণ করা হয় হাগলান্ডস ডিফরমিটি।
এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাধারণ জুতো পরলে গোড়ালির পেছনের
হাড়ে জুতোর চাপ পড়ে এবং তীব্র ব্যথা সৃষ্টি হয়। অনেক সময় হাঁটাচলাই কঠিন হয়ে যায়। তাই
অনেক ফুটবলার জুতোর গোড়ালির অংশ কেটে ফেলেন, যাতে ওই অংশে চাপ বা ঘর্ষণ না লাগে এবং
হাড়ের বাড়তি অংশ কিছুটা স্বস্তি পায়।
অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ মাইকেল রবসনের ভাষায়, ‘গোড়ালির পেছনের হাড় বড় হয়ে গেলে আশপাশের নরম টিস্যু ও টেন্ডনের ওপর ক্রমাগত চাপ পড়ে। সেই অবস্থায় গোড়ালি পুরোপুরি ঢেকে রাখে এমন জুতো পরে খেলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে’।