প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে
বিশ্বকাপ চলাকালীন ফ্রান্সের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার মিশরীয় দলের একজন কর্মীকে লাল কার্ড দেখাচ্ছেন। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় পরাজয়ের পর রেফারিং নিয়ে মিসরের তোলা অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ফিফা। সংস্থাটির প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা বলেছেন, বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারির সততা বা নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ফিফার রেফারিদের কোনোভাবেই প্রভাবিত করা সম্ভব নয়Ñ এমনকি ফিফা সভাপতিও তাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারেন না।
মঙ্গলবারের রোমাঞ্চকর ম্যাচে শেষ মুহূর্তে টানা তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় মিসর। ম্যাচ শেষে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তার রেফারিং দলকে বিশ্বকাপ থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানায়। তাদের অভিযোগ, ম্যাচে একাধিক গুরুতর ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি ম্যাচের ফলকে প্রভাবিত করেছে।
মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মনে হচ্ছে
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে ধরে রাখতেই কেউ কেউ আগ্রহী ছিল।’ তার এই
মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।
এই বিতর্ক এমন এক সময় সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়েও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেন। পরে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়, যা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
ফিফার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বক্তব্যে কলিনা বলেন, ‘গঠনমূলক আলোচনা সব
সময়ই ফুটবলের অংশ থাকবে। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো স্থান নেই। কেউ ফিফা বিশ্বকাপের
ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে না। এমন অভিযোগ অনেক সময় রেফারি ও
তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে হুমকি তৈরি করে, যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ দাবি করতে পারেন না যে ফিফার রেফারিং ব্যবস্থা
কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়। এমনকি ফিফা সভাপতিও রেফারিদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারেন
না।’
ম্যাচের বিতর্কিত মুহূর্তগুলো নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন কলিনা। মিসর ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার সময় মারওয়ান আতিয়ার গোলে সমতা দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) পর্যবেক্ষণের পর গোলটি বাতিল করা হয়। কারণ, আক্রমণ শুরুর সময় আতিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পা চাপা দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে কলিনা বলেন, রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা গেছে আতিয়া প্রতিপক্ষের
পায়ের ওপর পা রেখেছেন। ‘ফাউল মানেই ফাউল। মাঠে রেফারি ঘটনাটি দেখতে না পারলে ভিএআর
হস্তক্ষেপ করতে পারে।’
শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের আগেও মিসরের অভিযোগ ছিল, হামদি ফাথিকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার টেনে ধরেছিলেন। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে জুলিয়ান আলভারেজের চ্যালেঞ্জে মোহাম্মদ সালাহ পড়ে গেলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি।
তবে এসব অভিযোগও নাকচ করে কলিনা বলেন, রেফারি ও ভিএআরের মূল্যায়নে সালাহ ও আলভারেজের মধ্যে যা ঘটেছে, তা ছিল ফুটবলের স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শ। তার ভাষায়, ‘যদি ডিফেন্ডার আগে বল স্পর্শ করেন এবং পরে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হয়, তাহলে সেটিকে ফাউল বলা যায় না। এই ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ঠিক এমন ঘটনাই ঘটেছে বলে রেফারি ও ভিএআর মনে করেছেন।’