মিসরের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করেছেন লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মিসরের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি নষ্ট করার হতাশা, পরে সমতাসূচক গোল এবং শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়। সব মিলিয়ে এটি নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু মেসির শট ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক। বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ৬৭ মিনিটে আরও একটি গোল হজম করে। দুই গোল হজমে মেসিদের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনার বিদায় হলে তার দায়টা মেসির ওপরই বর্তাত। হয়ে যেতেন খলনায়ক। তবে ১৩ মিনিটের এক ঝড়ে সব ওলটপালট করে দেয় আর্জেন্টিনা। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমানোর পর ৮৩ মিনিটে সমতাসূচক গোল করেন মেসি। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে ৩-২ গোলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
সমতাসূচক গোল করার পর কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন মেসি। ম্যাচ শেষে সেই উদযাপনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন,
“সত্যি বলতে, এটি ছিল মুক্তির মুহূর্ত, আমাদের সবার জন্যই। পেনাল্টি মিস করার কারণে আমি ভীষণ রাগান্বিত ছিলাম। বিশেষ করে যেভাবে শট নিয়েছিলাম, তাতে মনে হচ্ছিল গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমি দলকে হতাশ করেছি”।
পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ কাটিয়ে ওঠার গল্প বলতে গিয়ে মেসি আরও বলেন, “কিন্তু শেষ পর্যন্ত সৃষ্টিকর্তা আমার জন্য আবারও বিশেষ কিছু রেখেছিলেন। আমি সমতাসূচক গোল করতে পেরেছি। সেটি ছিল বিশাল স্বস্তির মুহূর্ত। আমাদের জন্য যেমন আনন্দের ছিল, তেমনি গ্যালারিতে উপস্থিত আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্যও। তারা প্রতিদিন প্রমাণ করে দেয় আর্জেন্টাইন হওয়া কতটা গর্বের।”
শেষ বাঁশি বাজার পর আবেগে কেঁদে ফেলেন মেসি। সতীর্থরা তাকে ঘিরে উদযাপন করেন, এমনকি মাঠের মাঝখানে কাঁধে তুলে আকাশে ছুড়ে দিয়ে অভিনন্দন জানান অধিনায়ককে। বিশ্বকাপ শেষে এটিই মেসির শেষ আসর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই এই জয় আর্জেন্টিনা শিবিরের কাছে আরও বেশি আবেগের।
এই ম্যাচে গোল করে মেসি বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা ছয়টি নকআউট ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন। পাশাপাশি টানা নবম বিশ্বকাপ ম্যাচেও গোল করে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছেন। এবারের বিশ্বকাপে এটি তার অষ্টম গোল, ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও আবার এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
নাটকীয় এই জয়ের পর আর্জেন্টিনার সামনে এখন কোয়ার্টার ফাইনালের চ্যালেঞ্জ। শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।