প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১২ ঘণ্টা আগে
গোলের পর উযদাপন করেন মেসি। ছবি: রয়টার্স
অপ্রতিরোধ্য, দুর্দমনীয় আর্জেন্টিনাÑ ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন রূপকথা লিখে শেষ আটে পৌঁছে গেলেন লিওনেল মেসিরা। ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ০-২ গোলে পিছিয়ে আর্জেন্টিনা। অনেকেই চলতি বিশ্বকাপে লিখে ফেলেছিলেন মেসিদের শেষের গল্পটা। কিন্তু মাত্র ১৩ মিনিটের ঝড় তুলে মিসরের সাজানো বাগান তছনছ করে দিলেন মেসি ও তার সতীর্থরা। ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া ম্যাচ আর্জেন্টিনা জিতল ৩-২ ব্যবধানে।
মঙ্গলবার রাতে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ ষোলোর বাধা পেরিয়ে শিরোপা স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। আগামী রবিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে মেসির দল।
ইনজুরি টাইম বাদে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হতে বাকি মোটে ১১ মিনিট। শুধু সমতায় ফেরার জন্যই দু-দুটো গোল করতে হবে। এমন কঠিন সমীকরণকে কী এক অবিশ্বাস্য জাদুতে মিলিয়ে ফেলল আর্জেন্টিনা। প্রথম গোলটির রূপকার মেসি। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত এক ক্রস করেন এই ফুটবল নন্দন। দুর্দান্ত হেডে গোল করে ম্যাচে প্রাণ ফেরান ক্রিস্টিয়ান রোমেরো।
গোল পাওয়ার পর রক্তের স্বাদ পাওয়া বাঘের মতো আরও ক্ষুধার্ত হয়ে ওঠে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এবার নিজেই গোল করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন মেসি। গোলটির উৎস লাওতারো মার্তিনেজ। একটা সম্মিলিত আক্রমণ থেকে বল চলে আসে মেসির সামনে। সুযোগ পেয়েই শট নেন। মিসরের গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবাইর বলে হাত ছোঁয়াতে পারলেও তা পুরোপুরি ঠেকাতে পারেননি। বল জালে জড়িয়ে যায়। এই গোলের মধ্য দিয়ে চলতি বিশ্বকাপে ৮ গোল নিয়ে এখন সবার ওপরে কীর্তির পর কীর্তি গড়া মেসি।
সমতায় ফেরার পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। একটা দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক থেকে লাওতারো মার্তিনেজের ক্রসে হেডের সাহায্যে জয়সূচক গোলটি করেন এনজো ফার্নান্দেজ।
ম্যাচের প্রথমার্ধ তো বটেই, দ্বিতীয়ার্ধের একটা বড় সময় মেসিদের জন্য ছিল একটা দুঃস্বপ্নের মতো। খেলার ১৫ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় মিসর। মারওয়ান আত্তিয়ার ক্রস থেকে জোরালো হেডে দলকে এগিয়ে নেন ইয়াসের ইব্রাহিম। স্পট কিক থেকে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ ছিল আর্জেন্টিনার সামনে। কিন্তু মেসির শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দিলেন মিসরের গোলকিপার মোস্তফা শোবের। দ্বিতীয়ার্ধেও দুর্দান্ত খেলে লিড বাড়িয়ে নেয় মিসর। এ সময় কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করেন জিকো।
আসরে টানা গোল করে চলেছেন, বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন মেসি। এতসব অর্জনের মাঝেও চলতি আসরে পেনাল্টি শটে দ্বিতীয়বার ব্যর্থ হলেন তিনি। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ান গোলরক্ষকও তার স্পট কিক রুখে দিয়েছিলেন। বিশ্বকাপে এই নিয়ে আটটি পেনাল্টি নিয়ে চারবার ব্যর্থ হলেন মেসি। বলা বাহুল্য, বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডটিও তার।
ম্যাচের ৫৮ মিনিটে এক পাল্টা আক্রমণে জালে বল পাঠান মোস্তফা জিকো। উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে মিসরের গ্যালারি। কিন্তু এই গোল বাতিল হয়। ওই আক্রমণের শুরুতে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ডিফেন্ডার আতিয়া ফাউল করলে ভিএআরের সাহায্যে গোল বাতিল করেন রেফারি। এর ৮ মিনিটের মধ্যেই দুর্দান্ত এক গোলে আগের হতাশা মুছে যায় জিকোর। এতসব করেও শেষরক্ষা হয়নি মিসরের। ১৩ মিনিটের ম্যাজিকে সব লন্ডভন্ড হয়ে যায় আফ্রিকার দেশটির। এই জয়ের মধ্য দিয়ে মেসিরা প্রমাণ করলেন, কোনো বাধাই তাদের কাছে বাধা নয়। যেকোনো পরিস্থিতি জয় করার সামর্থ্য আছে আর্জেন্টিনার।