কার্লো আনচেলোত্তি। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে ব্যর্থ হওয়ার পর জাতীয় দলের কোচকে বিদায় জানানো ফুটবল বিশ্বে প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। বড় আসরে প্রত্যাশা পূরণ না হলে অধিকাংশ সময়ই কোচদের চাকরি হারাতে হয়। তবে সেই পরিচিত পথ থেকে সরে এসেছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। ২০২৬ বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরও ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলোত্তির ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছে তারা।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এর ফলে ২০০২ সালে সর্বশেষ শিরোপা জয়ের পর টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপেও ব্যর্থতার তিক্ত স্বাদ নিয়ে ঘরে ফিরতে হচ্ছে সেলেসাওদের। তবে এই ব্যর্থতার জন্য কোচ পরিবর্তনের পথে হাঁটছে না সিবিএফ। বরং তারা জানিয়েছে, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকবেন আনচেলোত্তি।
ব্রাজিলের বিদায়ের পর জাতীয় দলের সমন্বয়ক রদ্রিগো কায়েতানো স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধৈর্য ধরে নতুন চক্র শুরু করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। কায়েতানো বলেন, “এখন আমাদের শান্তভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। কোচের সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত একসঙ্গে কাজ করার যে পরিকল্পনা রয়েছে, সেটি অব্যাহত থাকবে। অবশ্যই কিছু মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হবে। তবে সামনে এগোতে হলে আমাদের স্থিরতা ও ধৈর্য প্রয়োজন।”
২০২৫ সালের মে মাসে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন ৬৭ বছর বয়সী আনচেলোত্তি। বিশ্বের অন্যতম সফল এই কোচকে নিয়োগের মাধ্যমে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হাতে নেয়। চলতি বছরের মে মাসেই তার চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত করা হয়।
সিবিএফের লক্ষ্য ছিল পরিষ্কারÑ আনচেলোত্তিকে সময় ও স্বাধীনতা দিয়ে ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। তার অভিজ্ঞতা, সাফল্যের রেকর্ড এবং বড় মঞ্চে কাজ করার দক্ষতার ওপর ভরসা রেখেছিল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কিন্তু সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়নি। বরং ১৯৬৬ সালের পর সবচেয়ে হতাশাজনক বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স নিয়ে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে সেবার গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে গিয়েছিল তারা। এবার অন্তত নকআউট পর্বে উঠলেও শেষ ষোলোর বাধা পেরোতে পারেনি।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দলের হতাশার চিত্র তুলে ধরে কায়েতানো বলেন, “আমরা এখনও এই ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছি। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং পুরো দলই ভীষণ হতাশ ও মর্মাহত। সবাই খুব ভেঙে পড়েছে।’ক
তবে ব্যর্থতার মধ্যেও ইতিবাচক কিছু দিক খুঁজে পাচ্ছেন তিনি। তার মতে, বিশ্বকাপজুড়ে খেলোয়াড়দের প্রতিশ্রুতি, নিষ্ঠা এবং পেশাদারত্ব ছিল প্রশংসনীয়। কায়েতানো বলেন, “এই ৩৮ দিনে আমরা খেলোয়াড়দের যে অঙ্গীকার, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্ব দেখেছি, তা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। ফল আমাদের পক্ষে আসেনি, কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।”