প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬ ০২:১৫ এএম
আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬ ০৮:২৯ এএম
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ‘ন্যাশনাল প্যারা অলিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশ’ (এনপিসি বাংলাদেশ) এখন এক গভীর সংকটে পড়েছে। সংস্থার নিজস্ব অনুমোদিত গঠনতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠনের সুনিপুণ ব্লুপ্রিন্ট ও নজিরবিহীন নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে বর্তমান অ্যাডহক কমিটির বিরুদ্ধে। গত ২ জুলাই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও পরিচালক (প্রশাসন) টিটস খীসা কর্তৃক অনুমোদিত ‘নির্বাচন-২০২৬’-এর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ ও চরম বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই ভূয়া ভোটার তালিকা দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হলে আন্তর্জাতিক প্যারা অলিম্পিক কমিটি কর্তৃক বাংলাদেশ নিষিদ্ধ হওয়ার সমূহ ঝুঁকি রয়েছে, যা দেশের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অন্ধকারে ঠেলে দেবে।
২০১৯ সালে ন্যাশনাল প্যারা ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক প্যারা অলিম্পিক কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদন পায় এনপিসি বাংলাদেশ। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, ২০২৫ সালের মে মাসে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়, যারা কোনো নির্বাচন না দিয়ে দীর্ঘ এক বছর লোক দেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংস্থার গঠনতন্ত্রের সেকশন-৮ অনুযায়ী, সাংগঠনিক কাঠামো বাধ্যতামূলকভাবে সাধারণ পরিষদ ও ১৫ সদস্যের নির্বাহী পরিষদের সমন্বয়ে ২-স্তর বিশিষ্ট হতে হবে। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার করে মূল ভিত্তি ‘সাধারণ পরিষদ’ গঠনেই চালানো হয়েছে নজিরবিহীন জালিয়াতি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেবল আন্তর্জাতিক ফেডারেশন দ্বারা স্বীকৃত জাতীয় ফেডারেশন থেকেই কাউন্সিলর হওয়ার বিধান থাকলেও, খসড়া তালিকায় এমন সব ভুয়া প্যারা অ্যাসোসিয়েশন এবং ‘উইমেন ইন স্পোর্টস কমিটি, বাংলাদেশ’-এর মতো অস্তিত্বহীন ভূঁইফোড় সংগঠনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিই নেই।
এই নির্বাচনী জালিয়াতির অন্ধকার দিকটি আরও স্পষ্ট হয়েছে ‘প্রতিবন্ধীদের অর্থ নিয়েও নয়ছয়’ শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শাহীন সরাসরি জানিয়েছেন যে, তারা খসড়া ভোটার তালিকার জন্য কোনো অফিশিয়াল চিঠিই পাননি। অথচ প্রজ্ঞাপনে সাঁতার ফেডারেশনের প্রতিনিধি হিসেবে সম্পূর্ণ অপরিচিত দুজন ব্যক্তির নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাদের ফেডারেশন নিজেই চেনে না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিলরদের নাম সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি দ্বারা অনুমোদিত এবং সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত হওয়া বাধ্যতামূলক হলেও, এখানে তা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হয়েছে। এছাড়া গঠনতন্ত্রের সেকশন-১১ অনুযায়ী কেবল পূর্ণাঙ্গ সদস্যদেরই ভোট ও প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা থাকলেও, শর্তহীনভাবে অস্বীকৃত অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে ভোটার বানিয়ে মূল ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা চলছে। একই সাথে প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের তহবিল নিয়ে আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের অধিকার রক্ষা এবং সঠিক সাংগঠনিক কাঠামো টিকিয়ে রাখতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দৃষ্টি ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জরুরি ‘শুদ্ধি অভিযান’এখন সময়ের দাবি।
আরকে/প্রবা