কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচের আগেই নানা রকম ভবিষ্যদ্বাণী, বিশ্লেষণ আর আলোচনায় সরগরম থাকে ফুটবল বিশ্ব। তবে কিছু ভবিষ্যদ্বাণী মাঠের লড়াইয়ের আগেই যতটা আলোড়ন তোলে, ম্যাচ শেষে তার পরিণতি হয়ে ওঠে আরও বেশি আলোচিত। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের ম্যাচও ঠিক তেমনই এক গল্পের জন্ম দিয়েছে।
কেপ ভার্দেকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে এই জয় শুধু শেষ ষোলোর টিকিটই নিশ্চিত করেনি, বিশ্বজুড়ে আলোচিত এক ভবিষ্যদ্বাণীকেও মাঠের ঘাসে মিশিয়ে দিয়েছে।
ম্যাচের কয়েক দিন আগে ঘানার আলোচিত আধ্যাত্মিক নেতা ও স্বঘোষিত জাদুকর নানা কোয়াকু বনসাম দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছিলেন- লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটাবে কেপ ভার্দে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই মন্তব্য বিশ্বকাপের উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।
কিন্তু ফুটবলের সৌন্দর্যই হয়তো এখানেÑ ভবিষ্যৎ লেখা হয় না কথায়, লেখা হয় মাঠে। আর সেই মাঠেই সব হিসাব বদলে দেন লিওনেল মেসিও তার সতীর্থরা। কেপ ভার্দের স্বপ্ন থামিয়ে আর্জেন্টিনা যখন পরের ধাপে জায়গা করে নেয়, তখন নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে আসেন বনসাম।
অজুহাত খোঁজার বদলে তিনি সামাজিক মাধ্যমে মেসির একটি ছবি প্রকাশ করে ভালোবাসার বার্তা দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “আমি, নানা কোয়াকু বনসাম, তোমাকে অনেক ভালোবাসি, আমার ভাই মেসি। কফি ‘উ’ কফির সব আধ্যাত্মিক শক্তি তোমার সহায় হোক। ক্ষমতা চিরন্তন।”
যে ব্যক্তি কয়েক দিন আগেও আর্জেন্টিনার বিদায় নিশ্চিত বলে দাবি করেছিলেন, তার মুখেই এমন প্রশংসা স্বাভাবিকভাবেই নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে শুধু মেসির প্রতি ভালোবাসাই নয়, একই পোস্টে বনসাম আরেকটি সতর্কবার্তাও দেন। তিনি জানান, তার নামে অসংখ্য ভুয়া সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা করা হচ্ছে। অনুসারীদের এসব অ্যাকাউন্ট থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অবশ্য নানা কোয়াকু বনসামের জন্য এমন বিতর্ক নতুন কিছু নয়। বড় কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট এলেই সাহসী আর অদ্ভুত সব ভবিষ্যদ্বাণী দিয়ে আলোচনায় ওঠে আসেন তিনি।
চলতি বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড ও ঘানার ম্যাচের আগে তিনি দাবি করেছিলেন, বিশেষ আধ্যাত্মিক আচার বা ‘কালো জাদু’ প্রয়োগ করে হ্যারি কেনকে গোল করা থেকে বিরত রাখবেন। কাকতালীয়ভাবে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হওয়ায় তিনি সেটিকে নিজের ‘জাদুর সাফল্য’ বলেও দাবি করেছিলেন। পরে পানামার বিপক্ষে গোল করলে বনসাম আবার বলেন, তিনি নাকি ইংল্যান্ড অধিনায়ককে তার ‘মন্ত্র’ থেকে মুক্তি দিয়েছেন বলেই গোল সম্ভব হয়েছে।