ফ্রান্সের সামনে প্যারাগুয়ে
কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে ১৩ গোল করেছে ফ্রান্স। স্পিডগান কিলিয়ান এমবাপের গোল ছয়টি, উসমান দেম্বেলের চারটি, ব্রাডলে বার্কোলার দুইটি। অন্য গোলটি দিজিরে দুঁয়ের। পাঁচ অ্যাসিস্ট করে রেকর্ড করেছেন মাইকেল ওলিসে। এরই মধ্যে এই আক্রমণভাগকে ইতিহাসের সেরাদের কাতারে রাখছেন অনেকেই। এমনি অবস্থায় জায়ান্ট ফরাসিদের সঙ্গে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নামছে এই আসরের সবচেয়ে বড় জায়ান্ট কিলার বিবেচিত প্যারাগুয়ে।
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক খ্যাত চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে এই আসরের গতিপথ পাল্টে দিয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশটি। ফিলাডেলফিয়ায় তাপ ছড়ানো এই ম্যাচটি শুরু হবে শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায়।
মহাপরাক্রম জার্মানির বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছেÑ শুধু এটুকু বললে মোটেও সুবিচার করা হবে না প্যারাগুয়ের প্রতি। বিশ্বকাপে একটা কথা প্রায় প্রবাদের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিল যে জার্মানি কখনও টাইব্রেকারে হারে না। এই মিথ ভেঙে দিয়েছে প্যারাগুয়ে। জার্মানদের পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে সেই মিথ ভেঙে দিয়েছে প্যারাগুয়ে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা (১-১) ড্র রেখে জার্মানদের টাইব্রেকার গর্ব খর্ব করেছে এই ল্যাটিন দেশটি। এমনিতেই বলা হয়ে থাকে, প্যারাগুয়ের জালে বল জড়ানো ফুটবলে কঠিন কাজগুলোর একটি। ইতিহাসের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগ রুখে দেওয়ার বড় চ্যালেঞ্জের সামনে এখন প্যারাগুয়ে।
এমনিতে ধারেÑভারেÑঅর্জনে গত দু’বারের ফাইনলিস্ট ফ্রান্সের চেয়ে ঢের পিছিয়ে প্যারাগুয়ে। বড় সাফল্য বলতে ২০১০ আসরে শেষ আটে ওঠা। ওই একবারই কোয়ার্টারের নাগাল পেয়েছে দলটি। বিপরীতে ফ্রান্স তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ২০১৮ সালের শিরোপাধারী। সর্বশেষ ২০২২ সালে বিশ্বকাপে ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে রানার্সআপ ট্রফি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় এমবাপে ও তার সতীর্থদের। আপাতত ফ্রান্সের জন্য বড় প্রেরণা হতে পারে হেড টু হেড রেকর্ড। আগে মোট ৫ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্স ৩টি ম্যাচে জয় পেয়েছে এবং বাকি ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। বলা বাহুল্য, প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের কোনো হারের রেকর্ড নেই। এদিকে সর্বশেষ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে প্যারাগুয়ের অবস্থান ৪১তম এবং ফ্রান্স তৃতীয়।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি আর গত বিশ্বকাপ ফাইনালের হ্যাটট্রিকম্যান এমবাপের গোল্ডেন বুটের লড়াই এই বিশ্বকাপের আকর্ষণকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। চলতি আসরে দুজনেরই গোল ছয়টি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে মেসি করেছেন ১৯ গোল। ১৮ গোল নিয়ে তার ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছেন এমবাপে। এদিকে ওলিসেও বড় কীর্তি গড়ার দুয়ারে দাঁড়িয়ে। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড এখনও পেলের। ১৯৭০ বিশ্বকাপে ছয়টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন এই কিংবদন্তি। আর একটি গোলে অবদান রাখতে পারলেই পেলের উচ্চতায় উঠে আসবেন ওলিসে।
বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ দেখায় ১৯৯৮ সালে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় প্যারাগুয়ে। সেই ম্যাচে ফ্রান্সের অধিনায়ক ছিলেন বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশম। এতকিছুর পরও শিষ্যদের সতর্ক করে দিয়েছেন দেশম। তিনি বলেন, ‘আমি প্যারাগুয়ের খেলা দেখেছিÑ তারা যা অর্জন করেছে তা কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটি একটি আদর্শ দক্ষিণ আমেরিকান দলÑ তারা শারীরিক লড়াইয়ে শক্তিশালী ও অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। মনে রাখতে হবে, কোনো দলই কাকতালীয়ভাবে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পৌঁছে না।’
কোচের কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেছে এমবাপের কণ্ঠেও, ‘এখানে কী বাজি ধরা আছে, আমি কোথায় আছি এবং আমাকে কী করতে হবেÑ সে সম্পর্কে আমি পুরোপুরি সচেতন। আসলে একটি নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হতে যাচ্ছে।’
প্যারাগুয়ের সাবেক ফরোয়ার্ড মিগুয়েল আনহেল বেনিতেজ উত্তরসূরিদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আমাদের ছেলেদের অবশ্যই সর্বস্ব দিয়ে খেলতে হবে। কেননা ফ্রান্সের আক্রমণভাগ এতটাই শক্তিশালী যে সামান্যতম অসতর্কতার জন্যও তারা শাস্তি দিতে পারেÑ তাই ১০ সেকেন্ডের জন্যও মনোযোগ হারানো চলবে না।
আজকের ম্যাচে ফিলাডেলফিয়ায় তাপমাত্রা অসহনীয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এতে মনোযোগ ধরে রাখা, খেলার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং বিচক্ষণতার সাথে বদলি খেলোয়াড়দের কাজে লাগানোর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তীব্র গরম ও প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণভাগ এই দুই চ্যালেঞ্জের সামনে এমবাপে ব্রিগেড।