গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের সবশেষ ম্যাচে মাঠে নামছে কলম্বিয়া-ঘানা। শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস সিটির স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।
ইতিহাসের দিকে তাকালে বিশ্বকাপে সাফল্যের বিচারে এই ম্যাচে কিছুটা এগিয়ে কলম্বিয়া। দক্ষিণ আমেরিকার দলটি সাতবার বিশ্বকাপ খেলেছে। সবশেষ ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল তারা। সেবার জেমস রদ্রিগেজ গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। অন্যদিকে ঘানা এবার দিয়ে পঞ্চমবার বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। আফ্রিকার দলটির সেরা সাফল্য ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে। সেবার উরুগুয়ের বিপক্ষে নাটকীয় হারে সেমিফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে যায়। দুই দলই একবার করে শেষ আটে খেললেও বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতায় এগিয়ে কলম্বিয়া। পরিসংখ্যানের বিচারে এগিয়ে কলম্বিয়া। নেস্তর লরেঞ্জোর দল এবার গ্রুপ কে-তে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে উঠেছে। তারা উজবেকিস্তানকে ৩-১, ডিআর কঙ্গোকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ম্যাচে পর্তুগালের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে। পুরো গ্রুপ পর্বে মাত্র একটি গোল হজম করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
অন্যদিকে ঘানা গ্রুপ এলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দল হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ড্র এবং পানামার বিপক্ষে জয় শেষ বত্রিশে জায়গা করে নেয়। ফলে ক্যানসাস সিটিতে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। কলম্বিয়ার আক্রমণের বড় ভরসা লুইস দিয়াজ। লিভারপুল তারকার দুর্দান্ত গতি ও গোল করার সামর্থ্য ঘানার রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে। এছাড়া মাঝমাঠের শক্তি রিচার্ড রিওস ও জেফারসন লেরমার। অভিজ্ঞ জেমস রদ্রিগেস ও ড্যানিয়েল মুনোজ ম্যাচ বড় অস্ত্র। অন্যদিকে ঘানার মূল ভরসা অধিনায়ক জর্ডান আয়ু, থমাস পার্টির অসাধারণ নেতৃত্ব এবং আঁতোয়ান সেমেনিওর গতিময় ফুটবল। কামাল সোভাহ ও মোহাম্মদ সালিসুর মতো খেলোয়াড়রাও ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে সক্ষম। আফ্রিকান দলটি শক্ত রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কৌশলেই কলম্বিয়াকে চাপে ফেলতে চাইবে। এছাড়া ফিফা র্যাঙ্কিং, সাম্প্রতিক ফর্ম এবং গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্স বিবেচনায় কলম্বিয়া এগিয়ে থাকবে। তবে এর আগে বিশ্বকাপ, প্রীতি ম্যাচ বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাদের দেখা হয়নি দুই দলের।